ব্যাটিং ব্যর্থতার খেসারত দিয়ে ঢাকা টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৮ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনেই ম্যাচের নিষ্পত্তি হওয়ায় দুই টেস্টের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সফরকারী দল। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ এই ম্যাচে হারে বাংলাদেশের অবস্থানেও ধাক্কা লাগল।
মিরপুরে বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭২ রান করে। জবাবে স্বাগতিক বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস থামে ২৪৫ রানে। এতে ২৭ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে মাত্র ১৪২ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ফলে জয়ের জন্য ক্যারিবীয়দের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭০ রান।
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওপেনার জন ক্যাম্পবেল ও ব্র্যান্ডন কিং। তাদের ১১২ রানের উদ্বোধনী জুটিতে বাংলাদেশের ম্যাচে ফেরার আশা অনেকটাই শেষ হয়ে যায়। ২১তম ওভারে শরিফুল ইসলামের বলে লেগ স্টাম্প ভেঙে গেলে ৪৯ রানে থামে ক্যাম্পবেলের ইনিংস। ৫৫ বলে ৬টি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো ছিল তার ইনিংস।
অন্য প্রান্তে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান কিং। ৪৪ রানে দ্বিতীয় স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়েও জীবন পান তিনি। ক্যাচটি ফসকে যাওয়ার পর বল সীমানা পেরিয়ে যায়। পরের বলেই চার মেরে ৬৮ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন এই ডানহাতি ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ১১৫ বলে ৮১ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। এটি ছিল তার পঞ্চম টেস্ট অর্ধশতক।
ক্যাম্পবেলের বিদায়ের পর ৮ রানের ব্যবধানে দ্বিতীয় উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। তেজনারায়ণ চন্দরপলকে মাত্র ১ রানে ফিরিয়ে দেন হাসান মাহমুদ। তবে ততক্ষণে জয়ের পথ অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যায় ক্যারিবীয়দের। কাভেম হজ ২৭ বলে অপরাজিত ৩১ রান করে কিংয়ের সঙ্গে জয় নিশ্চিত করেন। ৩৫.১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৭০ রান তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এর আগে চতুর্থ দিনের খেলা শুরুতে ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। আগের দিন ১৮ রানে অপরাজিত থাকা নাঈম হাসান দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন। ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক তুলে নিয়ে তার ব্যাটে শেষ পর্যন্ত ১৪২ রান পর্যন্ত পৌঁছায় স্বাগতিকদের ইনিংস। তবে অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতায় বড় লক্ষ্য দিতে পারেনি বাংলাদেশ।
ম্যাচজুড়ে চোটের সমস্যাও ভুগিয়েছে স্বাগতিক দলকে। টেস্ট শুরুর এক দিন আগে আঙুলের চোটে ছিটকে যান অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। তৃতীয় দিনে মাথায় আঘাত পান মুমিনুল হক; কনকাশন বদলি নেওয়ায় দ্বিতীয় টেস্টেও তার খেলা অনিশ্চিত। এ ছাড়া চোট নিয়েই খেলেছেন লিটন দাস। ক্যাচ মিসের পর আঙুলে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার অনুপস্থিতিতে কিছু সময়ের জন্য নেতৃত্ব দেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে আগামী ৫ নভেম্বর সিলেটে। প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের পর ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ এখন বাংলাদেশের সামনে।
কেকে/এআই