২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে শেরপুর জেলার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো ঝিনাইগাতী উপজেলার আলহাজ্ব এসএমএ ওয়ারেজ নাইম মডেল কলেজ এবং শেরপুর সদর উপজেলার মন্মথ দে মহাবিদ্যালয়। এ বছর জেলার কোনো কলেজ থেকেই শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফল থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
জানা যায়, এ বছর শেরপুর জেলায় এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৪৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ। গত বছর (২০২৫) এ হার ছিল ৪৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ। আর ২০২৪ সালে ছিল ৫৮ দশমিক ০১ শতাংশ অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ০৪ শতাংশ।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর শেরপুর জেলার ৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে ৮ হাজার ৩৪২ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৮ হাজার ৩ জন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৩ হাজার ৭১৯ জন এবং ছাত্রী ৪ হাজার ২৯৩ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৩ হাজার ৬৫৩ জন। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ৪২৪ জন এবং ছাত্রী ২ হাজার ২২৯ জন। জেলায় ১২টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
শূন্য পাসের হারের তালিকায় থাকা আলহাজ্ব এসএমএ ওয়ারেজ নাইম মডেল কলেজটি ঝিনাইগাতী উপজেলার সালচুড়া গ্রামে অবস্থিত। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব এসএমএ ওয়ারেজ নাইম। তিনি ঝিনাইগাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তার নামেই প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয়। এ বছর কলেজটি থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে ওই শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি।
অন্যদিকে, শেরপুর সদর উপজেলার শেষ প্রান্তে জামালপুর জেলার কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত মন্মথ দে মহাবিদ্যালয়। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কলেজ থেকে এ বছর সাতজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি।
এ বিষয়ে মন্মথ দে মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আব্দুল কাশেম বলেন, ‘এই কলেজটি একটি ডিপ এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে সাধারণত ভালো শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয় না। যারা অন্য জায়গায় ভর্তি হতে পারে না, তারা এখানে এসে ভর্তি হয়। এখানকার শিক্ষার্থীরা কলেজমুখী নয়। এ কারণে পড়াশোনা না করায় তারা পরীক্ষায় আশানুরূপ ফলাফল করতে পারেনি। এ বছর সাতজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল, সবাই ফেল করেছে। এটা আমাদের জন্য একটা দুঃখজনক বিষয়। আমরা এখন কী করব, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।’
শেরপুরের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজুয়ান বলেন, ‘শেরপুরে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পাসের হার আমাদের জন্য খারাপ লাগার বিষয়। ওই দুটি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান হয় না বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। তারা অনুমতি নিয়ে দু-একজন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিয়ে নামকাওয়াস্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালাচ্ছে।’
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চমাধ্যমিক) ড. আবু খায়ের মো. কামাল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ বছর ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পাসের হার রয়েছে। এর মধ্যে শেরপুর জেলার দুটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।’
কেকে/এআই