পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় সরকারি গ্রামীণ সড়ক থেকে চারটি তালগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে আলহাজ্ব আশরাফ আলী শাহ্ (৫০) নামের এক বীমা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এদিকে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের পাছ বেতুয়ান গ্রামে। অভিযুক্ত আশরাফ পাছ বেতুয়ান গ্রামের মৃত শহিদুল শাহের ছেলে। তিনি রংপুরে ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স বীমা কোম্পানিতে ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত আছেন।
রোববার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার পাছ বেতুয়ান-বাওনজান গ্রামীণ সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে ১০টি তালগাছ রয়েছে। পাশেই ছোট বড় ৪টি তালগাছ কেটে মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে। এ গুলোর উচ্চতা প্রায় ১০-১২ ফুট।
জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর আগে পাছ বেতুয়ান গ্রামের আনোয়ার হোসেন শাহ্ পাছ বেতুয়ান-বাওনজান (কৃষি মাঠে চলাচলের) সড়কের পাশে তিনি ১৪টি তাল গাছ রোপণ করেন। সম্প্রতি আশরাফ আলী ছুটিতে এসে লোকজন দিয়ে ছোট বড় ৪টি তালগাছ কেটে ফেলেন।
স্থানীয় কৃষকরা বলেন, বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে তালগাছগুলো এলাকার মানুষের নিরাপত্তার প্রতীক ছিল। প্রতিবছর এ অঞ্চলে বজ্রপাতে অনেক মানুষ মারা যায়। সরকার যেখানে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিচ্ছে, সেখানে এভাবে গাছগুলো কেটে ফেলা ঠিক হয়নি। তবে গাছগুলো কেটে ফেলায় তারা চরম হতাশ।
গাছ কাটার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আশরাফ আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জিএম সফিউজ্জমান বলেন, ‘বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া সরকারি জায়গা থেকে কোনো গাছ কাটার বিধান নেই। তবে সংশ্লিষ্ট সড়ক বিভাগ অভিযোগ দিলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হবে।’
কেকে/এআই