মার্কেটিংয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দায়িত্বশীল ব্যবহার, মানুষের সৃজনশীলতা ও বিচারবুদ্ধির গুরুত্ব এবং প্রযুক্তির সঙ্গে মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ের বার্তা নিয়ে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং ফোরাম ৬.০।
দুই দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক আয়োজনে দেশি-বিদেশি শীর্ষ মার্কেটিং পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, সরকারি প্রতিনিধি ও খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। আলোচনায় উঠে আসে, এআই বিপণন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, গতিশীল ও তথ্যনির্ভর করে তুললেও মানুষের সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, তদারকি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিকল্প হতে পারে না।
সম্প্রতি রাজধানীর ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত এ ফোরামের প্রতিপাদ্য ছিল ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইন মার্কেটিং: হিউম্যান + টেক’। আধুনিক মার্কেটিংয়ের জনক হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক ফিলিপ কটলারসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এতে বক্তব্য দেন। দুই দিনের আলোচনায় ব্যবসায়িক দক্ষতা বৃদ্ধি, ভোক্তার চাহিদা অনুধাবন, ব্র্যান্ডের আস্থা বজায় রাখা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানো এবং এআই ব্যবহারে প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও সুরক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির সৌজন্যে এবং এসিআই মটরস লিমিটেডের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ ফোরামের আহ্বায়ক ছিল ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং কাউন্সিল (ডব্লিউএমসি)। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের অংশীদারত্বে আয়োজনটির কো-হোস্ট ছিল বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম। আন্তর্জাতিক এই আয়োজনের ষষ্ঠ আসর এবার বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়।
এআই মানুষের বিকল্প নয়, সহায়ক
আয়োজনের স্বাগত বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং কাউন্সিল ও মার্কেটিং সোসাইটি অব বাংলাদেশের (এমএসবি) সেক্রেটারি জেনারেল এবং বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের গ্রুপ চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ও এক্সিকিউটিভ এডিটর সাজিদ মাহবুব।
তিনি বলেন, সারা বিশ্ব থেকে আসা মার্কেটার, শিক্ষাবিদ ও শিল্প খাতের নেতাদের ঢাকায় স্বাগত জানাতে পেরে তারা সম্মানিত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার ধরন বদলে দিচ্ছে। তবে মার্কেটিংয়ের উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে মানুষই। ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং ফোরাম এমন একটি মঞ্চ, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা পরস্পরের কাছ থেকে শিখতে পারেন এবং প্রযুক্তি ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পথ খুঁজে নিতে পারেন।
এরপর উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মুজিবুল হক। তিনি আন্তর্জাতিক অতিথিদের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি এআইনির্ভর ভবিষ্যতের জন্য মার্কেটিং পেশাজীবীদের প্রস্তুত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা তুলে ধরেন।
দুই দিনের এই আয়োজনে মোট ১০টি কিনোট সেশন, দুটি কেস স্টাডি এবং দুটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী দায়িত্বশীল ও জনকল্যাণমুখী মার্কেটিংচর্চা এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে উপস্থাপন করা হয় ‘দ্য ঢাকা ডিক্লারেশন’।
ফিলিপ কটলারের পরামর্শ : দায়িত্বশীলভাবে এআই গ্রহণ করতে হবে
প্রথম দিনের কিনোট পর্বের সূচনা করেন অধ্যাপক ফিলিপ কটলার। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির কেলগ স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিংয়ের সাবেক এসসি জনসন অ্যান্ড সন ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর ইমেরিটাস। মার্কেটিং বিষয়ে লেখক ও পরামর্শক হিসেবেও তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত।
ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেওয়া বক্তব্যে ফিলিপ কটলার বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবসার দক্ষতা বাড়ানো, গ্রাহকের চাহিদা বোঝা, বাজারে নতুন সুযোগ শনাক্ত করা এবং বিক্রি ও মুনাফার পূর্বাভাস দিতে সহায়তা করতে পারে। তবে প্রযুক্তির ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল না হয়ে ধাপে ধাপে ও দায়িত্বশীলভাবে এআই গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের সক্ষমতাকে সহায়তা করবে, প্রতিস্থাপন করবে না। এ কারণে মার্কেটিংয়ে মানুষের সৃজনশীলতা, তদারকি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভূমিকা অপরিহার্য। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও বিপণন কৌশল নির্ধারণ এবং গ্রাহকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মানুষের বিচারবুদ্ধিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
ফিলিপ কটলার মার্কেটিং ও ফাইন্যান্স বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের ওপরও জোর দেন। তার মতে, গ্রাহক বৃদ্ধি, ব্র্যান্ড গঠন, বিপণন বাজেট এবং আর্থিক পারফরম্যান্সের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে এআইয়ে বিনিয়োগের ফলে উৎপাদনশীলতা কতটা বাড়ছে, ব্যয় কতটা কমছে এবং মুনাফায় কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা নিয়মিত মূল্যায়ন করতে হবে।
মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার ওপর গুরুত্ব
প্রথম দিনের পরবর্তী কিনোট সেশনে বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং ফোরামের সহপ্রতিষ্ঠাতা, এশিয়া মার্কেটিং ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং এমকর্পের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান হারমাওয়ান কারতাজায়া।
তিনি বলেন, সফল মার্কেটিংয়ের জন্য প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের সঙ্গে মানবিক মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা, আস্থা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয় প্রয়োজন। বাজারে নিজেদের আলাদা অবস্থান তৈরি করতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্রাহকের পরিবর্তিত চাহিদা, সামাজিক প্রত্যাশা ও সাংস্কৃতিক প্রবণতা বুঝতে হবে।
হারমাওয়ান কারতাজায়ার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নত করতে পারে। তবে এ প্রযুক্তির ব্যবহার পরিচালিত হতে হবে মানুষের দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতার ভিত্তিতে। প্রচলিত প্রতিযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে নতুন পণ্য, অভিজ্ঞতা ও বাজার তৈরির মাধ্যমে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘জেনারেটিভ অ্যাডভান্টেজ’ অর্জনের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, মার্কেটিংকে কেবল মুনাফা অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। নৈতিক ব্যবসাচর্চা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে সমাজ এবং পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব তৈরির দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রথম দিনের আরেকটি কিনোট সেশনে বক্তব্য দেন গুগলের হেড অব পার্টনার পারফরম্যান্স, চ্যানেল সেলস-এসইএ তারা ইউন। তিনি মানুষের কৌতূহল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতাকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে আরও কার্যকর বিপণন কার্যক্রম পরিচালনার সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
দিনের শেষ কিনোটে মালয়েশিয়ার আইট্রেইন এশিয়ার প্রতিষ্ঠাতা এরিক কু দেখান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে সাধারণ ভোক্তাদেরও কনটেন্ট নির্মাতা ও সৃজনশীল কাজে অংশগ্রহণকারী হিসেবে গড়ে তুলছে। তার আলোচনায় উঠে আসে, এর ফলে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোতে মার্কেটিং উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ বাড়ছে এবং আয়ের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে।
এআইয়ের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ মার্কেটিং
দ্বিতীয় দিনের কিনোট পর্বের সূচনা করেন ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক সৈয়দ ফরহাত আনোয়ার। তিনি মার্কেটিংয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে অনিবার্য বাস্তবতা হিসেবে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ব্র্যান্ড এবং ভোক্তার ওপর এ প্রযুক্তির মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।
এরপর বক্তব্য দেন থাইল্যান্ডের মার্কেটিং অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ অব লার্নিং আর্কিটেক্ট অ্যান্ড মার্কেটিং ইনোভেশন এবং এশিয়া মার্কেটিং ফেডারেশনের সেকেন্ড ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. ড্যান ভিসিতচাইচান। তিনি মানুষের চিন্তাশক্তি ও বুদ্ধিমান যন্ত্রের পারস্পরিক সহযোগিতাকে মার্কেটিংয়ের ভবিষ্যৎ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
আফ্রিকান মার্কেটিং কনফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট এবং আইএমএম গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব মার্কেটিংয়ের সাবেক ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও অ্যাকাডেমিক ডিরেক্টর হেলেন ম্যাকইনটি-কার্লাইল আলোচনা করেন ‘গ্লোকাল মার্কেটিং’ নিয়ে। বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো কীভাবে বিভিন্ন দেশের স্থানীয় বাজার, সংস্কৃতি ও ভোক্তার চাহিদার সঙ্গে নিজেদের পণ্য ও বিপণন কৌশলকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলতে পারে, তা ছিল তার আলোচনার মূল বিষয়।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. একে এনামুল হক মার্কেটিংয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ফলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সুফল শেষ পর্যন্ত কারা পাচ্ছে, তা বিশ্লেষণ করেন। অন্যদিকে ভসু.এআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা নাফিস ফয়সল একজন উদ্যোক্তার দৃষ্টিকোণ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ গতিপথ তুলে ধরেন।
দ্বিতীয় দিনের কিনোট পর্বের শেষ বক্তা ছিলেন ইউরোপিয়ান মার্কেটিং কনফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট রালফ স্ট্রাউস। তিনি মার্কেটিংয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজনীয় সুরক্ষা এবং দায়িত্বশীল প্রয়োগের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প সহযোগিতা
কিনোট সেশনের পাশাপাশি দুটি প্যানেল আলোচনায় মার্কেটিংয়ে এআই ব্যবহারের বাস্তব চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা উঠে আসে।
প্রথম দিনের প্যানেলের মূল বিষয় ছিল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (এসএমই) জন্য প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র সমান করতে পারে কি না। আলোচকেরা তুলে ধরেন, সাশ্রয়ী এআই প্রযুক্তি কীভাবে ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিতে পারে। তবে এ প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা, উপযুক্ত সরঞ্জাম এবং বাস্তবভিত্তিক কৌশলের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
দ্বিতীয় দিনের প্যানেলে গুরুত্ব পায় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা। অ্যাকাডেমিক গবেষণা কীভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বাস্তব সমস্যা সমাধানে কাজে লাগানো যায় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ কীভাবে বাড়ানো সম্ভব, তা নিয়ে আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।
এ ছাড়া ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি এবং কোরিয়ার কে-কালচারে কৃত্রিম ও অ্যানালগ বুদ্ধিমত্তার মেলবন্ধন নিয়ে দুটি কেস স্টাডি উপস্থাপন করা হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়েও বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসব সেশনে প্রযুক্তি, শিক্ষা, ব্যবসা ও সংস্কৃতির পারস্পরিক সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ মার্কেটিংয়ের নতুন দিকগুলো উঠে আসে।
৫৪ দেশের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠানের ‘ঢাকা ঘোষণা’
ফোরামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন ছিল ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং কাউন্সিলের ‘দ্য ঢাকা ডিক্লারেশন’ উপস্থাপন। এর প্রতিপাদ্য ছিল ‘মার্কেটিং ফর গ্লোবাল গুড : ওয়াই ২০৩০ অ্যান্ড বিয়ন্ড’।
ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং কাউন্সিলের উদ্যোগে এশিয়া মার্কেটিং ফেডারেশন, আফ্রিকান মার্কেটিং কনফেডারেশন এবং ইউরোপিয়ান মার্কেটিং কনফেডারেশনের যৌথ অংশগ্রহণে ঘোষণাটি গৃহীত হয়। এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের ৫৪টি দেশের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বৈশ্বিক কল্যাণে মার্কেটিংচর্চার প্রসার, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব এবং ২০৩০ সাল ও পরবর্তী সময়ের জন্য অভিন্ন লক্ষ্য ও অঙ্গীকারের বিষয়টি এতে প্রতিফলিত হয়েছে।
ফোরামের শেষ ভাগে সংশ্লিষ্ট চারটি সংস্থা যৌথভাবে ‘ঢাকা ডিক্লারেশন : মার্কেটিং ফর গুড’ ঘোষণা করে। এর মধ্য দিয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে দায়িত্বশীল বিপণন, সামাজিক কল্যাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টির বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বার্তা দেওয়া হয়। পরে সমাপনী সেশনের মধ্য দিয়ে দুই দিনের এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
অংশ নেন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা
ফোরামের বিভিন্ন সেশনে আরও বক্তব্য দেন এশিয়া মার্কেটিং ফেডারেশনের পার্টনার ও প্রেসিডেন্ট জ্যাক ইয়াও; ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির প্রো ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী; ড্রিম কোম্পানির চিফ ইমাজিনেশন অফিসার এবং এশিয়া মার্কেটিং ফেডারেশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক বুজং কিম; সংযুক্ত আরব আমিরাতের হায়ার কলেজেস অব টেকনোলজির বিজনেস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সের্গেই স্পিভাকভস্কি।
এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিবিউশনস কোম্পানি বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফ বিন তাজ; ডিএসআই গ্রুপের পরিচালক এবং এশিয়া মার্কেটিং ফেডারেশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রোহান সোমাওয়ানসা; ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের সহকারী অধ্যাপক ও উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট সেলের পরিচালক ড. নুসরাত হাফিজ।
অন্যান্য আলোচকের মধ্যে ছিলেন মার্কেটার্স ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল এবং মার্কটেল বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. শরিফুল ইসলাম দুলু; শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসাদ্দেক আহমেদ চৌধুরী; ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির পরিচালক অব কমিউনিকেশনস খায়রুল বাশার; শ্রীলঙ্কা ইনস্টিটিউট অব মার্কেটিংয়ের প্রেসিডেন্ট এনোক পেরেরা; এমকর্পের গ্রুপ সিইও ও ডেপুটি চেয়ারম্যান তৌফিক; ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের সহযোগী অধ্যাপক ড. জাহিদ হালিম; নেসলে বাংলাদেশ পিএলসির সেলস ডিরেক্টর সৈয়দ ইকবাল মাহমুদ হোসেন এবং ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের সহকারী অধ্যাপক আফসানা আক্তার।
প্রযুক্তি ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ের আহ্বান
ফোরামের বিভিন্ন সেশনে আলোচনার মূল সুর ছিল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মার্কেটিংয়ের কার্যক্রমে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও এর সুফল নিশ্চিত করতে মানুষের বিচারবুদ্ধি, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব অপরিহার্য। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রাহকের আস্থা, তথ্যের দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।
তাদের মতে, এআইয়ের যথাযথ ব্যবহার বিপণন ব্যয় কমানো, গ্রাহকের চাহিদা শনাক্ত করা, নতুন বাজার সৃষ্টি এবং ব্যবসার উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। তবে প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্দেশ্য ও সীমা নির্ধারণ, ফলাফল মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় তদারকির দায়িত্ব মানুষের হাতেই থাকতে হবে।
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির সৌজন্যে, এসিআই মটরস লিমিটেডের সঞ্চালনায় এবং প্রাণের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয় ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং ফোরাম ৬.০। আয়োজনের কো-হোস্ট ছিল বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম।
এ আয়োজনে সহযোগিতা করে এশিয়া মার্কেটিং ফেডারেশন, ইউরোপিয়ান মার্কেটিং কনফেডারেশন, আফ্রিকান মার্কেটিং কনফেডারেশন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক বিজনেস স্কুল, মার্কেটিং সোসাইটি অব বাংলাদেশ, মার্কেটার্স ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ, ব্যাকপেজ পিআর এবং ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং কাউন্সিল।
কেকে/এআই