নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও চিকিৎসা ব্যয়ের চাপে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে এলপিজির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনে নতুন করে বিপর্যয় তৈরি করবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
এলপিজি সিলিন্ডারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়ে সাইফুল হক বলেন, ব্যবসায়ীদের চাপ ও স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে সরকার ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থকে উপেক্ষা করেছে।
তিনি বলেন, এলপিজির ক্ষেত্রে বিইআরসি প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে মূল্য সমন্বয় করছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তার সুফল সাধারণ ভোক্তারা যথাযথভাবে পাচ্ছেন কি না, আর দাম বাড়লেই কেন তার পুরো বোঝা ভোক্তাদের বহন করতে হবে, সেই প্রশ্নের জবাব নেই।
সাইফুল হক আরও বলেন, এলপিজি ব্যবসায়ীদের কমিশন, মুনাফা ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন মূল্য কাঠামোয় সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের কমিশন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি বিবেচনা করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপরই বাড়তি ব্যয়ের বোঝা চাপানো হয়েছে। ব্যবসায়ীদের মুনাফা ও কমিশন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব হতে পারে না। রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের স্বার্থ ও ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা করা।
সাইফুল হক বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক পরিবার রান্নার কাজে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। শুধু বাসাবাড়ি নয়, হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং বিভিন্ন উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডেও এলপিজি ব্যবহৃত হয়। ফলে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু একটি সিলিন্ডারের দামের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। খাদ্যপণ্য ও সেবার উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, যার চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদের ওপরই পড়বে। এমনিতেই মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। নতুন এই মূল্যবৃদ্ধি নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষের সংসার চালানো আরও কঠিন করে তুলবে।
তিনি আরও বলেন, বাজারে এলপিজির নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বাজারে সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত না করে ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী দাম বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কৃত্রিম সংকট, মজুতদারি, অতিরিক্ত মুনাফা ও ভোক্তা হয়রানির অভিযোগ তদন্ত না করে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া জনস্বার্থবিরোধী।
কেকে/ এমএস