ব্যবসা-বাণিজ্যে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা, উদ্যোক্তাদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখার আহ্বানের মধ্য দিয়ে কিশোরগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের (আইবিডব্লিউএফ) ব্যবসায়ী সমাবেশ-২০২৬।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় কিশোরগঞ্জ শহরের সেফরন ডিলাইট রেস্টুরেন্টে আইবিডব্লিউএফ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকার দুই শতাধিক ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তা অংশ নেন।
জেলা শাখার সভাপতি সোহেল রানা ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইবিডব্লিউএফের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনটির কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুল হক।
সমাবেশে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, সম্ভাবনা, প্রতিবন্ধকতা ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিকাশ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
আয়োজকেরা জানান, ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন, নৈতিক ব্যবসার চর্চা উৎসাহিত করা এবং শিল্প ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা সম্প্রসারণে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনায় পবিত্র আল-কোরআনের নির্দেশনা ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যবসায়িক আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। সততা, স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত নীতিমালা থেকেও শিক্ষা নিতে হবে।
তিনি বলেন, ব্যবসার লক্ষ্য কেবল ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জন নয়; এর সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানুষের কল্যাণের বিষয়টিও জড়িত। একজন মুসলিম ব্যবসায়ীর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে নৈতিকতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিল্পায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, একটি শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলতে শিল্পের বিকাশ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি জরুরি। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং বিনিয়োগের পরিবেশ সম্প্রসারণের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়, ব্যবসায়িক সমস্যা নিয়ে আলোচনা এবং সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করা সম্ভব। এ জন্য ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার করতে হবে।
কেকে/ এমএস