মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: হামে প্রাণ গেল আরও তিন শিশুর, মোট মৃত্যু ৬৮৬      একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      
দেশজুড়ে
নিহত র‍্যাব কর্মকর্তা মোতালেবের বাড়িতে মাতম
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত র‍্যাব কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেনের কুমিল্লার গ্রামের বাড়িতে এখন শুধু শোকের মাতম। কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামে তাঁর বাড়ি। স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না যে মানুষটি হাসিমুখে গ্রামের সবার সঙ্গে সময় কাটিয়ে গত শনিবার কর্মস্থলে ফিরে গেছেন, আজ তিনি ফিরছেন লাশ হয়ে।


মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে পরিবার সূত্রে জানা গেছে,  যানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক নিজ বাড়ির সামনের মসজিদের পাশেই মোতালেব হোসেনকে দাফন করে।

অলিপুর গ্রামের প্রয়াত আবদুল খালেক ভূঁইয়ার ১১ সন্তানের মধ্যে সবার ছোট মোতালেব হোসেন। শিক্ষাজীবন শেষে চাকরিতে যোগ দিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তিনি। স্ত্রী শামসুন্নাহার, বড় ছেলে মো. সাকিব, মেয়ে শামিমা জান্নাত ও ছোট মেয়ে মুনতাহাকে নিয়ে ছিল তাঁর সংসার। বড় ছেলে সাকিব কলেজে পড়ে, মেয়ে শামিমা জান্নাত এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং ছোট মেয়ে মুনতাহা পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটাতে গত শুক্রবার ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন মোতালেব হোসেন। বাড়িতে এলে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকার মানুষের সঙ্গে আন্তরিকভাবে সময় কাটান তিনি। গ্রামের মসজিদ, বাড়ির উঠান কিংবা পাশের বাড়িগুলোতে গিয়ে সবার খোঁজখবর নিতেন তিনি। ছুটি শেষে শনিবার কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার পর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ হারান এই র‍্যাব কর্মকর্তা। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার ও গ্রামে নেমেছে গভীর শোকের ছায়া। কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী শামসুন্নাহার, সন্তান ও স্বজনেরা। 

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বাড়ি ছাড়ার সময় মোতালেবের ছোট মেয়ে বারবার বাবাকে যেতে মানা করছিল। বড় মেয়ে শামিমা জান্নাতও চাইছিল, বাবা আরও কয়েক দিন বাড়িতে থাকুন। অনেক বুঝিয়ে সন্তানদের রেখে দায়িত্বে ফিরে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বিদায়ই যে শেষ বিদায় হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

নিহতের বড় ভাই মো. জাকির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘আমার আট ভাইয়ের মধ্যে মোতালেব সবার ছোট। লেখাপড়া শেষ করে সে চাকরিতে যোগ দেয়। ছুটিতে বাড়িতে এলে এলাকার সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকত। শুক্রবার বাড়িতে এসেছিল, শনিবার দুপুরে বের হওয়ার সময় তার মেয়ে বারবার আটকাতে চেয়েছিল। অনেক বুঝিয়ে সে চাকরিতে যায়। তার সৎ চাকরির কারণে তেমন কিছুই করতে পারেনি। ধারদেনা করে বাড়ির কাজ ধরেছিল। কিন্তু শেষ করে যেতে পারল না। আমরা আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

নিহতের বোন আনজুম আরা বেগম মুন্নি বলেন, ‘আমার ভাই একজন দেশপ্রেমিক মানুষ ছিলেন। পরিবার আর সন্তানের চেয়েও দায়িত্ব ও দেশকে বেশি গুরুত্ব দিতেন। শেষবার যখন বাড়িতে এসেছিল, তখন সন্তানেরা যেন অজানা আশঙ্কায় বারবার তাকে যেতে নিষেধ করছিল। আরও কিছুদিন ছুটি নিয়ে বাড়িতে থাকার অনুরোধ করেছিল। এত অনুরোধের পরও সে চাকরিতে ফিরে গিয়েছিল, আর সেখানেই হত্যার শিকার হলো। আমরা এই মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমরা আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের বিচার চাই।’


কালিরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘মোতালেব হোসেন ছিলেন অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের মানুষ। তাঁর এমন মৃত্যু শুধু পরিবারের নয়, পুরো এলাকার জন্যই অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

কেকে/এমএফ


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close