গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার তালিকাভুক্ত একাধিক মামলার আসামি মেহেদী হাসান রাসেলের বিরুদ্ধে নির্বাচনকে সামনে রেখে বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে নির্বাচন ঘিরে গোপালগঞ্জ-২ আসনে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সূত্র জানায়, গত বছরের নভেম্বরে গোপালগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা হত্যা মামলায় কাশিয়ানী থানার ‘রাসেল বাহিনীর’ প্রধান মেহেদী হাসান রাসেলকে পুলিশ আটক করেছিল। তবে অদৃশ্য প্রভাবে তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। এতে স্থানীয়দের আশঙ্কা, নির্বাচনকালীন সময়ে তিনি ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারেন।
জানা গেছে, মেহেদী হাসান রাসেল কাশিয়ানী থানার খাগড়াবাড়িয়া গ্রামের মৃত বালা মিয়ার ছেলে। তার নানা নির্যাতনে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ। রাসেলের বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক অভিযোগ রয়েছে। কাশিয়ানী থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজির মামলা দায়ের রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, রাসেলের বিরুদ্ধে জুলাই হত্যা মামলাও রয়েছে। ১২ জুন ২০২৫ তারিখে দায়ের করা ওই মামলার এফআইআর নম্বর ৩২, জিআর নম্বর ০৯৭। মামলায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৪৩/১৪৭/১৪৮/৩০৭/৩২৪/৩২৬/৫০৬/৩৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
এছাড়া ৫জুলাই ২০২২ তারিখে তার বিরুদ্ধে কাশিয়ানী থানায় আরও একটি মামলা নথিভুক্ত হয়, যার এফআইআর নম্বর ২/৯২ ও জিআর নম্বর ৯২/২২। এতে ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৫০৬/১১৪ ধারায় অভিযোগ করা হয়।
১০ মার্চ ২০২৩ তারিখে রাসেলের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের হয়। এর এফআইআর নম্বর ১১ এবং জিআর নম্বর ৪৫ মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৩৮৫/৩৪১/৫০৬ ধারার উল্লেখ রয়েছে।
পরে ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা নথিভুক্ত হয়। এ মামলার এফআইআর নম্বর ১১ এবং জিআর নম্বর ১৫২। এতে ৩৮৫/৩৮৬/৪২৭/৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৩ সেপ্টেম্বর জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস এম জিলানী টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী গ্রামে যাওয়ার পথে বিকেলে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া এলাকায় পৌঁছালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তার গাড়িবহরে হামলা চালায়।
এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক শওকত আলী দিদারকে পিটিয়ে হত্যা করে মহাসড়কের ঢালে ফেলে রাখা হয়। এ ঘটনায় ১৭ সেপ্টেম্বর দিদারের স্ত্রী রাবেয়া রহমান বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ অবস্থায় নির্বাচনের আগেই মেহেদী হাসান রাসেলকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন গোপালগঞ্জের শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ।
কেকে/এলএ