২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের সময় কুমিল্লায় পুলিশ ও জনসাধারণের কাছ থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে এখনও উদ্ধার হয়নি ১৭টি অস্ত্র। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও শঙ্কা বিরাজ করছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসব অস্ত্র ব্যবহার হলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন ভোটাররা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দুর্বৃত্তরা কুমিল্লা পুলিশ লাইনস্ ও বিভিন্ন থানা থেকে মোট ৮৭টি অস্ত্র লুট করে। এর মধ্যে ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানা, তিতাস থানা, দাউদকান্দি থানা ও মিয়াবাজার হাইওয়ে থানা থেকে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র লুট হয়। এরই মধ্যে ৭০টি অস্ত্র উদ্ধার হলেও এখনো ১৭টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি।
সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সাবেক সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, ‘পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র এখনও পুরোপুরি উদ্ধার হয়নি। পাশাপাশি, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র আসাও বন্ধ হয়নি। বড় দুই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের বাকযুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করছে। এ অবস্থায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা থেকেই যায়।’
তবে, নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা এড়াতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান।
তিনি বলেন, ‘যেসব অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি, সেগুলো ব্যবহারের সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ, এসব অস্ত্রের গোলাবারুদ নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ না করলে নষ্ট হয়ে যায়।’
তিনি জানান, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করবেন। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে, ভোটারদের আশ্বস্ত করে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যেন সৃষ্টি না হয়, সে জন্য পর্যাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে নিরাপত্তা ক্যাম্প।’
কেকে/এমএ