সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: ৯ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা      সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      ১৫ জুলাই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ      সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
ডাকসুতে বিভেদের সুর
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:১৩ এএম
 ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে ডাকসু নেতাদের একাংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ডাকসুর শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সমন্বয়হীনতা এবং নির্দিষ্ট একটি পক্ষের অনুসারীদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন নারী সম্পাদক ও কার্যনির্বাহী সদস্য। ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা এবং কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা সরাসরি ভিপি সাদিক কায়েম ও তার অনুসারীদের দিকে অভিযোগের তির ছুড়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে। একুশের প্রথম প্রহরে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ এবং এজিএস মহিউদ্দিন খানদের নেতৃত্বে ডাকসুর একটি অংশ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে যান। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে ডাকসুর পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রতিনিধিদের বদলে ছাত্রশিবির সংশ্লিষ্ট কর্মীদেরই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ফলে ডাকসুর গুরুত্বপূর্ণ নারী সদস্য ফাতিমা তাসনিম জুমা, সর্বমিত্র চাকমা, হেমা চাকমা এবং উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়াসহ কমিটির বড় একটি অংশ এই রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা থেকে বাদ পড়ে যান।

ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা ফেসবুকে বিদ্রুপাত্মক পোস্টে জানান, তারা কমিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও বিটিভির লাইভ দেখে জানতে পেরেছেন যে ডাকসু ফুল দিতে গেছে। তিনি অনেকটা ক্ষোভের সঙ্গেই লেখেন, আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!

অন্যদিকে ফাতিমা তাসনিম জুমা সরাসরি ডাকসুর শীর্ষ তিন নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ এনেছেন।

জুমা বলেন, “সব সমস্যার মাঝেও সবচেয়ে প্রকট হয়ে ওঠে ডাকসুর সমন্বয়হীনতা। শহীদ মিনারে প্রথম প্রহরে ডাকসু কখন ফুল দিতে যাবে— প্রশ্ন দুইবার করার পর কল দিয়ে আমাকে জানানো হয়, সিনেট সদস্যরা যাবে শুধু রাষ্ট্রীয় প্রটোকলে। সিলেক্টিভ পাস। ফাইন। কিন্তু একটু পর দেখি, এই সিলেক্টিভ পাস একটি দলের ইউনিয়ন লেভেলের কর্মীদেরও আছে। নাই মুধু ডাকসুর। ডাকসুর এটা কেমন গাফলতি, আমি জানি না।”

তার আরও জানান, প্রভাতফেরির আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয় করে। সেইটার চিঠি আসে শুধু ভিপি, জিএস, এজিএসের কাছে। এই মেসেজ কনভে করার প্রয়োজনীয়তা তারা অনুভব করেনি। গ্রুপে জিজ্ঞেস করার পরেও না। পরে আমি কল দিয়ে জেনে গ্রুপে নোটিস দিলাম। দেখা যাক, কে কে আসার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।

“ডাকসুর পক্ষ থেকে ফুল দিবে সিনেটের সদস্যরা মিলে—এমন প্ল্যান হলে গ্রুপে জানাতেন। অথবা সেখানে পরে সবার জন্য এন্ট্রি এক্সেস থাকলে বাকিদের গ্রুপে বলে দিতেন যে, এ টাইমে আমরা ফুল দিব, উপস্থিত থাকবেন। সমস্যা তো ছিল না। আপনারা ডাকসুর নাম না নিয়ে ‘সিনেট সদস্যবৃন্দ’ ব্যানারে গেলেও মানুষ বাকি সম্পাদকদের দোষ খুঁজত না।”

তিনি জানান, পরিস্থিতিটা আলোচনার মাধ্যমে এড়ানোই যেত।

তিনি বলেন, “একে তো প্রশাসনিক কারণে সবার ওপর চাপ। সেই পথ যখন স্বয়ং ডাকসু প্রতিনিধিরা সুগম করে, তখন বাকিদের যাওয়ার জায়গা থাকে না। এসব কিছু গ্রুপে বলে আলাপ করে মিটানো যায়। গ্রুপে মিটিংয়ে এসব প্রশ্নের উত্তর ক্যাঁচাল লাগার আগে কেউ দেয় না।”

তিনি শেষ করেন, ডাকসুর শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর আরও এক অভিযোগ এনে। তিনি জানান, সবার কাজগুলো শীর্ষ তিন নেতৃত্বই কঠিন করে তুলছে।

তিনি বলেন, “ডাকসু আমার কাছে শিক্ষার্থীদের আমানত। সম্পাদক হিসেবে আমার দায় আছে শিক্ষার্থীদের কাছে। আমার কাছে শিক্ষার্থীরা জবাব চাইলে আমি দিতে বাধ্য। তবে এ জবাব আমারও দিতে সুবিধা হতো ভিপি-জিএস-এজিএস ব্যাপারগুলো আরো সহজ করলে। আমার এসব সিলি ইস্যুতে কথা বলা লাগত না আর।”

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  ডাকসু   বিভেদ   সুর  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close