মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
ফ্যামিলি কার্ড কীভাবে নারী ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখবে
ড. শাহ জে মিয়া
প্রকাশ: রোববার, ৩ মে, ২০২৬, ১০:৪৫ এএম আপডেট: ০৩.০৫.২০২৬ ১০:৫০ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার নানাবিধ সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্ড, যেমন ফ্যামিলি কার্ডসহ অন্যান্য কার্ডের পাইলট প্রজেক্ট শুরু করেছে। নারীদের ক্ষমতায়নে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দেশের প্রায় ২ থেকে ৪ কোটি দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের নারী প্রধানদের প্রতি মাসে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান করার কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, কার্ডধারীরা টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল, ডাল, চিনি ও চালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কিনতে পারছেন।

আগেই বলেছিলাম যে, এ ফ্যামিলি কার্ড শুধু একটি পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবেই সাহায্য করছে না, তারই সঙ্গে নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়নেও ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে এবং কীভাবে হবে, তা গত সপ্তাহের আমার একটি আর্টিকেলে বিশদ ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে। যাহোক, আজকের আলোচনার গভীরে প্রবেশ করার আগে আমি নারীর ক্ষমতায়ন বলতে কী বোঝায়, এর মাধ্যমে কীভাবে গ্রামীণ উন্নয়ন এবং সর্বোপরি গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব এবং পৃথিবীর আর কোথায় কোথায় এ মডেল সফল হয়েছে, তা নিয়ে কিছু সংক্ষিপ্ত আলোচনা করতে চাই। সেইসঙ্গে আজকের আলোচনায় এ ফ্যামিলি কার্ড পরিচালনার জন্য আমি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালিত অ্যানালিটিক্স সিস্টেমের চিত্র তুলে ধরতে চাই।

নারীর ক্ষমতায়ন বলতে এমন এক ধরনের পরিবেশকে বোঝায়, যেখানে নারী তার জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থায় উন্নীত হতে পারে। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে নারীরা তাদের পূর্বের সামাজিক বা পারিবারিক অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের যোগ্যতা ও অর্জনকে তুলে ধরতে পারেন এবং পরিবার, সমাজ বা জনজীবনে যথাযথ অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের সিদ্ধান্ত ও বৈষম্যহীনভাবে তাদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেন।

শুধু তাই নয়, আমরা এমন একটি ব্যবস্থার কথা বলছি, যেখানে উপযুক্ত ক্ষমতায়নের মাধ্যমে নারীরা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক—সব ক্ষেত্রে প্রকৃত ও বিধিসম্মতভাবে পুরুষদের সঙ্গে সমান মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা ভোগ করেন। দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নারীরা সমান সুযোগ পান। স্বাস্থ্য, সর্বস্তরে উন্নত শিক্ষা, ভবিষ্যৎ জীবিকা ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার দিকনির্দেশনা, কাজের সুযোগ, সমান বেতন, সামাজিক সুরক্ষা এবং সরকারি দপ্তরে প্রবেশের সমান সুযোগও যাতে নারীরা পান—সেটিও এর অন্তর্ভুক্ত। 

পাশাপাশি নারীদের প্রতি সব ধরনের সামাজিক বৈষম্য দূর করা, আইনি ব্যবস্থাকে জোরদার করা এবং নারী ও বালিকাদের ওপর সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করাও নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়নের অংশ।

গ্রামীণ উন্নয়ন এবং নারীর ক্ষমতায়ন একে অপরের পরিপূরক। উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রামীণ এলাকায় নারীর ক্ষমতায়ন শুধু একটি সামাজিক অধিকার বা সমতার বিষয় নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি। নারীরা যখন ক্ষুদ্রঋণ, কৃষি সহায়তা বা সরকারি প্রণোদনা (যেমন—ফ্যামিলি কার্ড) পান, তখন তারা সাধারণত হাঁস-মুরগি পালন, গবাদিপশু পালন, কুটিরশিল্প বা কৃষিজাত ব্যবসার মতো ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে তোলেন। এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বাড়ায়। নোবেলবিজয়ী অর্থনীতিবিদ এস্থার ডুফলো এবং বিশ্বব্যাংকের বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত যে, একজন পুরুষের হাতে টাকা গেলে তার একটি বড় অংশ ব্যক্তিগত বিনোদন বা নেশাজাতীয় দ্রব্যে (যেমন—চা, সিগারেট, আড্ডা) ব্যয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু একজন নারী তার আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশই সরাসরি পরিবার ও সন্তানের কল্যাণে ব্যয় করেন (যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে এ হার ৩০-৪০%)। ফলে নারীর হাতে অর্থ থাকলে গ্রামীণ পর্যায় থেকে দারিদ্র্য ও পুষ্টিহীনতা দ্রুত হ্রাস পায়।

একজন ক্ষমতায়িত এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম নারী তার সন্তানের, বিশেষ করে কন্যা সন্তানের, শিক্ষার বিষয়ে অনেক বেশি সচেতন থাকেন। পাশাপাশি পরিবারের পুষ্টি, পরিচ্ছন্নতা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তারা সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হলে এবং নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হলে গ্রামে বাল্যবিবাহ, যৌতুক প্রথা এবং পারিবারিক সহিংসতার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এটি একটি সুস্থ ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনে সহায়তা করে। যাহোক, ফ্যামিলি কার্ডের এই ভাতা বা সহায়তা পাওয়ার জন্য নারীদের নিজেদের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট (যেমন—বিকাশ, নগদ, স্মার্ট কার্ড) খুলতে হয়। এর ফলে তারা ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে যুক্ত হন, সঞ্চয় করতে শেখেন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হন। প্রত্যন্ত এলাকায় একজন নারীর ক্ষমতায়ন কেবল তার নিজের বা একটি পরিবারের উন্নয়ন নয়; এটি একটি শক্তিশালী মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্ট বা বহুমাত্রিক প্রভাব তৈরি করে, যা পুরো গ্রাম, সমাজ এবং শেষ পর্যন্ত একটি রাষ্ট্রকে টেকসই উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

সরাসরি নারীদের হাতে অর্থ তুলে দেওয়ার এ মডেলটি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত কয়েকটি মডেল হলো: ব্রাজিলের ‘বোলসা ফ্যামিলিয়া’, মেক্সিকোর ‘অপারচুনিদাদেস/প্রোগ্রেসা’ এবং পাকিস্তানের ‘বেনজির ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম’।

বোলসা ফ্যামিলিয়া প্রোগ্রামটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং সফল শর্তসাপেক্ষ নগদ সহায়তা কর্মসূচিগুলোর একটি, যা ২০০৩ সালে ব্রাজিল সরকার চালু করে। এ কর্মসূচির মূল শর্ত ছিল—পরিবারগুলোকে মাসিক টাকা দেওয়া হবে, কিন্তু সেই টাকা সরাসরি পরিবারের মায়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যাবে। শর্ত ছিল, বাচ্চাদের নিয়মিত স্কুলে পাঠাতে হবে এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকা দিতে হবে। এই একটি কর্মসূচি ব্রাজিলের দারিদ্র্য হার নাটকীয়ভাবে কমিয়ে আনে। নারীদের হাতে টাকা যাওয়ার ফলে শিশুদের পুষ্টিহীনতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। মায়েদের সামাজিক মর্যাদা বাড়ে এবং তারা পরিবারের আর্থিক সিদ্ধান্তে মূল ভূমিকা পালন শুরু করেন।

অপারচুনিদাদেস মডেলটিও একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ, যেখানে অত্যন্ত দরিদ্র গ্রামীণ পরিবারগুলোকে মাসিক নগদ অর্থ দেওয়া হতো এবং এ অর্থের একমাত্র প্রাপক ছিলেন নারীরা (মা বা গৃহিণী)। মেক্সিকোতে দেখা যায়, এ প্রকল্পের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। নারীদের হাতে টাকা আসায় তারা স্থানীয় বাজার থেকে বেশি পুষ্টিকর খাবার (যেমন—ডিম, দুধ, মাংস) কেনা শুরু করেন। ফলে গ্রামীণ বাজারে চাহিদা বাড়ে এবং স্থানীয় কৃষকরা লাভবান হন। পাশাপাশি মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার হারও বেড়ে যায়।

বেনজির ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রামটি ২০০৮ সালে শুরু হয়, যেখানে পরিবারপ্রতি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়। এর সবচেয়ে বড় শর্ত ছিল—এই অর্থ শুধু পরিবারের বয়স্ক নারীর হাতে দেওয়া হবে। এ প্রোগ্রামটির সবচেয়ে বড় সামাজিক প্রভাব ছিল নারীর ‘পরিচয়’ বা আইডেন্টিটি তৈরি। পাকিস্তানে লাখ লাখ গ্রামীণ নারী ছিলেন, যাদের কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র (CNIC) ছিল না। এ মাসিক ভাতার টাকা তোলার জন্য লাখ লাখ নারী প্রথমবারের মতো ঘর থেকে বের হয়ে নিজেদের আইডি কার্ড এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন। এটি তাদের আইনি ও সামাজিক ক্ষমতায়নের একটি বড় মাইলফলক ছিল। এসব দেশে এ ধরনের সাপোর্ট প্রোগ্রামের পেছনে রয়েছে পরিকল্পিত ও সমন্বিত বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তির সল্যুশন ফ্রেমওয়ার্ক। আমাদের দেশেও এ ধরনের অত্যাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক অবকাঠামো প্রয়োজন।

যাহোক, আলোচনার এ পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড নারী ক্ষমতায়নে কীভাবে কাজ করবে, তা দেখার জন্য আমি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালিত অ্যানালিটিক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের চিত্র তুলে ধরতে চাই। এ ডেটা অ্যানালিটিক্স সল্যুশনের কাজ হবে ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিটি প্রভাব, ব্যবহার এবং ব্যবহারকারীর ডেটার গতিধারা বিশ্লেষণ করা। এই বিশ্লেষণ আমাদেরকে ইঙ্গিত দেবে—দেশের কোন অঞ্চলে, কীভাবে এবং কতটা মাত্রায় নারী ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড ভূমিকা রাখছে।

দৃষ্টান্তস্বরূপ বলা যায়, ফ্যামিলি কার্ডের প্রভাবে কোনো অঞ্চলের নারীদের আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদাবোধ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে, যার ফলে সেখানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শত শত নতুন নারী উদ্যোক্তার উত্থান ঘটবে। তারা নিজেদের মধ্যে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে স্বাধীনভাবে ব্যবসায়িক উদ্যোগ পরিচালনা করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ফ্যামিলি কার্ড থেকে প্রাপ্ত সহায়তার অর্থই তাদের প্রাথমিক মূলধন হিসেবে কাজ করবে।

এ ধরনের আরও কিছু সূচক হতে পারে—শিশুদের শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রান্তিক অঞ্চল থেকে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির হার বৃদ্ধি এবং পারিবারিক জীবনমানের উন্নয়ন। এসব পরিবর্তন সরাসরি ডেটার মাধ্যমে পরিমাপ করা সম্ভব হবে।

এই পুরো প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নের জন্য একটি আধুনিক, বিকেন্দ্রীভূত এবং ডেটানির্ভর প্রযুক্তি কাঠামো প্রয়োজন, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্লকচেইন এবং মাইক্রোসার্ভিস আর্কিটেকচারের সমন্বয় থাকবে। এ ধরনের একটি সিস্টেম তথ্যের নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করবে।

লেখক : প্রফেসর অফ বিজনেস অ্যানালিটিক্স অ্যান্ড অ্যাপ্লাইড এআই
নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটি, নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া
উপদেষ্টা, বিএনপি অস্ট্রেলিয়া এবং বিএনপি চেয়ারম্যানের বহির্বিশ্বে শহীদ জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী পেশাজীবী এক্সপার্টিজ গ্রুপের সদস্য

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  ফ্যামিলি কার্ড   নারী ক্ষমতায়ন  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close