বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
শিরোনাম: যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা      নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে আর্জেন্টিনাকে সতর্কবার্তা আলজেরিয়ার      হিজবুল্লাহর হামলা বন্ধের শর্তে লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে রাজি ইসরায়েল      গণঅভ্যুত্থানে নিহতের সংখ্যা নিয়ে আ. লীগের আপত্তি, পাল্টা জবাব জাতিসংঘের      দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে মেতেছে একটি দল : মির্জা ফখরুল      মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার : যুগ্ম সচিব ছেলেকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার      আইএমএফের কাছে নতুন ঋণ সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
সীমান্তে পুশ-ইন : সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস নয়
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

সম্প্রতি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় যশোর ও সাতক্ষীরা সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক তথাকথিত ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ সন্দেহে এক দল মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশ-ইন) অপচেষ্টা গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। 

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বেনাপোলের রঘুনাথপুর ও সাদীপুর সীমান্তের ‘জিরো লাইনে’ নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বহু মানুষ এখনো এক চরম মানবিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুসংহত করতে উভয় পক্ষ থেকেই যখন ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছিল ঠিক তখনই সীমান্তে ভারতের একপাক্ষিক পুশ ইনের প্রচেষ্টা উদ্বেগজনক। 

স্বাভাবিকভাবেই এই সংবেদনশীল সীমান্ত সংকট দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কেবল আস্থার সংকটই তৈরি করবে না, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষতিগ্রস্ত করবে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেখানের নতুন রাজ্য সরকারের ‘অনুপ্রবেশকারী’ তাড়ানোর ঘোষণা এবং ‘হোল্ডিং সেন্টার’ গড়ার সিদ্ধান্তের যে প্রত্যক্ষ প্রভাব আমাদের সীমান্তে এসে পড়েছে, তা স্পষ্ট। 

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখতে সরকারের জন্য অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও কঠোর কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) যে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং অবৈধভাবে কাউকে সীমান্ত অতিক্রম করতে দিচ্ছে না, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিজিবি-কে এ অবস্থানে অবিচল থাকতে হবে। কোনো দেশের একতরফা ও জোরপূর্বক পুশইন প্রক্রিয়াকে মেনে নেওয়া মানে দেশের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করা। গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে- যাতে মূল সীমান্তের বাইরে কোনো ‘পকেট’ বা গোপন পথ দিয়ে কেউ প্রবেশ করতে না পারে।

ঢাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য অত্যন্ত যৌক্তিক যে কোনো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অবশ্যই দুই দেশের রাষ্ট্রীয় আইন ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী হতে হবে। ভারত সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে যে, জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই ও নাগরিকত্ব নিশ্চিতকরণের আনুষ্ঠানিক তালিকা ছাড়া এককভাবে কাউকে বাংলাদেশে পুশইন করা যাবে না। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রহীনতার ঝুঁকি তৈরি করে কাউকে জোরপূর্বক অন্য দেশে ঠেলে দেওয়া মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। 

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা বা অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের কারণে দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কে ফাটল ধরতে দেওয়া যায় না। বাংলাদেশ সরকারকে অবিলম্বে দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং বিএসএফ-এর আচরণ নিয়ন্ত্রণের মূল দায়ভার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের। তাই রাজ্য সরকারের অতি-উৎসাহী কোনো পদক্ষেপ যেন দুই দেশের সীমান্ত চুক্তি ও সমঝোতাকে ব্যাহত না করে, তা নিশ্চিত করতে দিল্লিকে চাপ দিতে হবে। জিরো লাইনে আটকে থাকা মানুষদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। তারা তীব্র গরম ও অনিশ্চয়তায় নো ম্যানস ল্যান্ডে দিন কাটাচ্ছে। এই মানবিক সংকটের দায় এককভাবে ভারতের ওপর বর্তায়। 

বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক রেড ক্রস বা জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার ইউএনএইচসিআর মতো সংস্থাকে এই সংকটের বিষয়ে অবহিত করতে পারে, যাতে ভারতের এই একতরফা পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে ওঠে। যশোর ও সাতক্ষীরার মতো সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন ও সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। স্থানীয় মানুষই প্রথম টের পায় সীমান্ত দিয়ে কেউ অবৈধভাবে প্রবেশ করছে কি না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিজিবির মধ্যে সার্বক্ষণিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষাকে একটি নিরেট দুর্গে পরিণত করতে হবে।

প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম ভিত্তি, কিন্তু তা কখনোই দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার বিনিময়ে নয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে বাংলাদেশকে ব্যবহার করার যে কোনো অপচেষ্টাকে শুরুতেই রুখে দিতে হবে। 

আশা করা যায়, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অত্যন্ত পেশাদারিত্ব এবং সাহসিকতার সঙ্গে এই সংকটের স্থায়ী কূটনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করবে।

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  সীমান্তে পুশ-ইন   সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন   আপস নয়  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close