নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ীতে ‘উনি’ বলে সম্বোধন করায় বিএনপি নেতা মাকসুদুর রহমানকে সম্মাননা পদক দিতে দেয়নি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) (এসিল্যান্ড) মো. জসিম উদ্দিন।
বুধবার (৩ জুন) বিকালে উপজেলার নান্দিয়াপাড়া বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্মৃতি জাদুকর পরিদর্শন ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মতবিনিময় সভায় এ ঘটনা ঘটে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইসরাক খন্দকার।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে কোনো এক বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে জসিম উদ্দিনকে ‘উনি’ বলে উল্লেখ করেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুর রহমান। বিষয়টি নিয়ে জসিম উদ্দিন অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং মারমুখী ভাষায় কথাবার্তা বলেন। পরে প্রতিমন্ত্রীকে সম্মাননা প্রদানের সময় মাকসুদুর রহমানের নাম ঘোষণা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে সম্মাননা দিতে দেওয়া হয়নি।
ঘটনাটি নিয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ কেউ এটিকে প্রোটোকল ও শিষ্টাচার হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকে মনে করছেন- একটি সম্বোধনকে কেন্দ্র করে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ অনাকাঙ্ক্ষিত।
বিষয়টি নিয়ে পরে সংবাদ সম্মেলন করেন মাকসুদুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘জসিম উদ্দিন গত ২৮ এপ্রিল যোগদানের পর থেকে মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেলের হুমকি দিয়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের জরিমানা করে আসছেন। জমা খারিজ বা নামজারি করতে জমির মালিকের থেকে পাঁচ হাজার টাকা এবং সামান্য ভুল-ত্রুটি হলেই এই টাকার অঙ্ক কয়েক গুণ বেড়ে ৫০০০ থেকে ৫০০০০ হাজার বা ১ লক্ষ টাকা হয়ে যায়।’
মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে সেবাগ্রহীতা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের সাথে অশুভ আচরণসহ রুক্ষ ব্যবহার, নির্ধারিত সময় অফিস না করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয় নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মোটা অংকের জরিমানাসহ জেলে পাঠানোর হুমকিও দেওয়া হয়।’
এ বিষয়ে কথা বলতে জসিম উদ্দীনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিকের ফোন পেয়ে তিনি নম্বরটি ব্লক করে দেন।
বর্তমানে এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
কেকে/এমএ