জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া শেখ শাহরিয়ার বিন মতিনের বাবার বিরুদ্ধে সরকারি অনুদান ও ভাতার টাকা পেয়ে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করেছেন শহীদ শাহরিয়ারের মা মমতাজ বেগম।
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের কুমড়াশসন গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল মতিন (৫০) ও মমতাজ বেগমের (৪৫) সংসারে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মমতাজ বেগমের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে একমাত্র ছেলে শাহরিয়ারের মৃত্যুর পর পাওয়া সরকারি সহায়তার অর্থকে কেন্দ্র করে তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ের উদ্যোগ নেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৯ মে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া সাত লাখ টাকা কাবিন ও পাঁচ লাখ টাকার গহনা দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করে নতুন স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসেন আব্দুল মতিন।
তিনি বলেন, একমাত্র সন্তান হারানোর শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি। এর মধ্যেই স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এমনকি গত ২ জুন মেয়েকে নিয়ে আত্মহত্যার চিন্তাও করেছিলেন। তবে স্বজন ও জুলাই পরিবারের সদস্যদের আশ্বাসে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।
মমতাজ বেগম আরও অভিযোগ করেন, শহীদ পরিবারের জন্য বরাদ্দ এককালীন ৩০ লাখ টাকা তার স্বাক্ষর জাল করে উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়েছিল। এছাড়া শহীদ সন্তানের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও তোলেন তিনি। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।
জানা গেছে, ২০০৪ সালের ৭ নভেম্বর আব্দুল মতিন ও মমতাজ বেগমের বিয়ে হয়। তাদের একমাত্র ছেলে শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিয়ে গত বছরের ১৮ জুলাই ঢাকার মিরপুর-১০ গোলচত্বরে গুলিবিদ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুলাই তার মৃত্যু হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ আব্দুল মতিন দ্বিতীয় বিয়ের কথা স্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন, পরিবারের অনুরোধ এবং মায়ের দেখভালের প্রয়োজন থেকেই তিনি বিয়ে করেছেন। প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমার মা একা থাকেন এবং পরিবারের সদস্যদের চাপে আমি বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছি। প্রথম স্ত্রীর সম্মতি ছিল। এখন তিনি বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে অভিযোগ করছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অন্যান্য অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিচয় জানতে চাইলে তিনি তা প্রকাশ করতে অপারগতা জানান। বর্তমানে বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে জাতীয় যুবশক্তির ময়মনসিংহ জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসানুর রহমান সজিব বলেন, “আব্দুল মতিন প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন বলে তিনি জেনেছেন। তার দাবি, পারিবারিক কারণে এবং বংশে ছেলে সন্তানের অভাবের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ বিয়ে হয়েছে।”
অন্যদিকে জুলাই যোদ্ধা রুহুল আমিন রিপন বলেন, “একজন জুলাই শহীদের বাবা হিসেবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া মোটেও সমীচীন হয়নি।” তিনি ঘটনার নিন্দা জানান।
কেকে/এজে