মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বৈকুণ্ঠপুরে প্রায় ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু তিন বছর ধরে ব্যবহারহীন পড়ে আছে। মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও দুই পাশের এপ্রোচ সড়ক, প্রটেকশন ওয়াল ও সংযোগ সড়কের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় এখনো যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রতিদিন হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় নদী পারাপার করছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, সিআইপিআরআর-২ প্রকল্পের আওতায় ঘিওর উপজেলার বৈকুণ্ঠপুর এলাকায় ৩১৫ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে এবং মূল কাঠামোর কাজ শেষ হয় ২০২২ সালে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটির সঙ্গে চলতি বছর এপ্রোচ সড়ক, প্রটেকশন ওয়াল ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য আরও ১১ কোটি ২২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রকল্পটির মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫ কোটি টাকায়। এছাড়া জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকা।
এলজিইডি সূত্র জানায়, সেতুর দুই পাশে প্রায় ৬০০ মিটার এপ্রোচ সড়ক, প্রটেকশন ওয়াল ও পাকা সংযোগ সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে মেসার্স উপকূল কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ও মেসার্স এস আর এন্টারপ্রাইজ (জেভি)। চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি কাজ শুরু হয়ে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশে এখনো মাটি ভরাট, প্রটেকশন ওয়াল ও সংযোগ সড়কের কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ফলে সেতুটি ব্যবহার করতে না পেরে স্থানীয়দের এখনো খেয়া নৌকার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। মোটরসাইকেল, সাইকেল ও কৃষিপণ্য নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে নদী পারাপার করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা সোনামুদ্দিন বলেন, ব্রিজ হইছে, কিন্তু রাস্তা নাই। প্রতিদিন নৌকায় পার হতে অনেক কষ্ট হয়। ব্রিজ চালু হলে সময় ও খরচ দুটোই বাঁচবে।
বৈকুণ্ঠপুর এলাকার লতিফ বিশ্বাস বলেন, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই নদী পারাপার করে। ২০১৬ সালে সেতুর কাজ শুরু হয়ে অনেক আগেই শেষ হয়েছে। কিন্তু দুই পাশের এপ্রোচ সড়ক না থাকায় সেতুটি এখনো চালু হয়নি। এতে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য সানোয়ার (ছদ্মনাম) বলেন, প্রায় ৪০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াতের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেতু। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। সেতুটি চালু হলে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এপ্রোচ সড়কের কাজে বিলম্বের বিষয়ে মেসার্স এস আর এন্টারপ্রাইজ (জেভি)-এর স্বত্বাধিকারী মো. রফিক বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ ও মাটি সংগ্রহে জটিলতার কারণে কাজ পিছিয়েছে। বর্ষায় নদীতে পানি এলে ব্লকহেডের মাধ্যমে বালু এনে দ্রুত রাস্তার কাজ সম্পন্ন করা হবে।
এ বিষয়ে এলজিইডি মানিকগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম লুৎফর রহমান বলেন, দ্রুত কাজ শেষ করে সেতুটি জনগণের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত এপ্রোচ সড়কের কাজ সম্পন্ন করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কেকে/ এমএস