নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসকে ঘিরে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে ভোগান্তি আরও বাড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, লাইন শ্রমিক বেলাল হোসেন মিলন, লাইন টেকনিশিয়ান সাইফুল্লাহ পারভেজ এবং জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ইব্রাহিম খলিলের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে বিভিন্ন কাজ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, টাকা প্রদান করলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হলেও টাকা দিতে বিলম্ব হলে গ্রাহকদের বছরের পর বছর জোনাল অফিস ও সদর অফিসে ঘুরতে হয়।
ভুক্তভোগী খলিল উল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, অবৈধভাবে খুঁটি (পোল) স্থাপন, মিটার স্থানান্তর, নতুন শিল্প, বাণিজ্যিক, আবাসিক, ব্যাংক, বিমা ও মসজিদের বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিতে হয়। এছাড়া সার্ভিস ড্রপের আওতার বাইরে নতুন মিটার স্থাপন এবং অর্থ গ্রহণের পরও নতুন খুঁটি না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীরা জানান, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ একাধিক দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি। বরং অভিযোগের পর তাদের হয়রানি আরও বেড়েছে বলে দাবি করেন তারা।
নজরুল ইসলাম নামের এক গ্রাহক বলেন, “বর্তমানে যেকোনো ধরনের সেবা, বিল সংশোধনসহ বিভিন্ন কাজে গ্রাহকদের নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। অনেকেই সময়মতো সেবা পাচ্ছেন না। কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতায় আমরা ক্ষুব্ধ।”
স্থানীয় বাসিন্দা সোহাগ সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, “সোনাইমুড়ী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবের কারণে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমি দেড় বছর ধরে একটি সংযোগের জন্য ঘুরছি। কিন্তু ঘুষ না দেওয়ায় এখনো সংযোগ পাইনি। অথচ আমার আবেদনের পর আরও অনেক সংযোগ দেওয়া হয়েছে। আমি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গ্রাহকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. ছাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “লাইনম্যান ও জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া কারও কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে অভিযোগের কপি আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে পারেন। আমি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মকবুল আলম বলেন, “সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
কেকে/এলএ