ইসলামি মূল্যবোধের আলোকে একটি নৈতিক, আদর্শ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে মসজিদকে কেন্দ্র করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে কিশোরগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘মসজিদভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা।
শনিবার (২০ জুন) জেলা শহরের আল্লামা আতহার আলী (রহ.) কনভেনশন হলের ৬ষ্ঠ তলায় ‘তরুণ আলেম প্রজন্ম কিশোরগঞ্জ’-এর উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সকাল থেকে শুরু হয়ে জোহরের নামাজের পূর্ব পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি চলে। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত তরুণ আলেম, খতিব, ইমাম, মাদরাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উপস্থাপন করেন সায়্যিদ সিরাজুল হুদা, মাওলানা সাইফ সিরাজ, মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ, মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল কাইয়ূম, মুফতি আব্দুল মাজিদ, মাওলানা ইলিয়াস কাসেমী, মাওলানা মুত্তাকি, মাওলানা জুয়েল, মাওলানা শফিক এবং মাওলানা শফিকুল রহমান জালালাবদী। মাওলানা আকরাম খন্দকার ও মাওলানা নাজিম উদ্দীনের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন মাওলানা আব্দুল্লাহ সাদেক। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসরাইল মিঞা।
আয়োজকরা জানান, সমাজে ক্রমবর্ধমান নৈতিক অবক্ষয়, মাদকাসক্তি, কিশোর অপরাধ, পারিবারিক অস্থিরতা ও সামাজিক সংকট মোকাবিলায় মসজিদভিত্তিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে তোলার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে। তারা বলেন, সমাজ পরিবর্তনে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; বরং ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক পর্যায়ে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে মসজিদ হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সামাজিক প্রতিষ্ঠান।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ইসলামি সভ্যতার ইতিহাসে মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান হিসেবে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং শিক্ষা, বিচার, রাষ্ট্র পরিচালনা, সামাজিক নেতৃত্ব, মানবিক সহায়তা ও দাওয়াতি কার্যক্রমের অন্যতম কেন্দ্র ছিল। মহানবী (সা.)-এর যুগে মসজিদ থেকেই সমাজ পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতো। সেই আদর্শকে সামনে রেখে বর্তমান সময়েও মসজিদকে সমাজ সংস্কার, মানবিক মূল্যবোধ গঠন এবং তরুণদের সঠিক পথে পরিচালনার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমানে সমাজে মাদকের বিস্তার, কিশোর গ্যাং, অপরাধপ্রবণতা, পারিবারিক বন্ধনের দুর্বলতা এবং নৈতিক অবক্ষয় উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব সমস্যা শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়। মসজিদভিত্তিক সচেতনতা, নিয়মিত ধর্মীয় শিক্ষা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং আলেম সমাজের সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমেই একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গঠন করা সম্ভব।
তরুণ আলেমদের উদ্দেশে বক্তারা বলেন, কেবল ওয়াজ-নসিহত বা খুতবার মধ্যেই দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা সহায়তা, যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে রক্ষা করা, পারিবারিক বিরোধ নিরসন, নৈতিক প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক সেবামূলক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি এলাকায় মসজিদভিত্তিক সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী আলেম ও মুসল্লিরা এ ধরনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে বলেন, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের আলোচনা সভা, প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। তারা ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং একটি নৈতিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
কেকে/ এমএস