বিয়ে না করায় প্রেমিকার ছুরিকাঘাতে নিজ বাড়িতে খুন হয়েছে সাইয়েদ আবদুল্লাহ সিয়াম (২১) নামের এক প্রেমিক।
সোমবার (২৯ জুন) ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার লক্ষীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সিয়াম ওই গ্রামের হাজী এনামুল হকের ছেলে। পুলিশ ঘাতক প্রেমিকা নাইমা জাহান ও বন্ধু আরিয়ান খান মাহিদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
তথ্যটি নিশ্চিত করে থানার উপ-পরিদর্শক সামছুল আরেফিন বলেন, ‘নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করা হয়েছে।’
স্থানীয় সূত্র ও প্রেমিকা নাইমা জাহানের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মরহুম জলিল মৃদার মেয়ে নাইমা জাহানের সাথে চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার লক্ষীপুর গ্রামের হাজী এনামুলে হকের ছেলে সাইয়েদ আবদুল্লাহ সিয়ামের মোবাইলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরমধ্যে তারা ঢাকায় আবাসিক হোটেলে কয়েকবার রাত্রীযাপন করে। এতে নাইমা জাহান গর্ভধারণ করলে তিন মাসের ভ্রুণ নষ্ট করে সিয়াম। নাইমা বিয়ের জন্য চাপ দিলে সিয়াম টালবাহানা করতে থাকে।
এরমধ্যে নাইমাকে বিশ হাজার টাকা নিয়ে লক্ষীপুর গ্রামের বাড়িতে আসার জন্য চাপ দেয় সিয়াম। টাকা জোগাড় করতে না পেরে সিয়ামের কথা রাখতে নাইমা রোববার রাতে লক্ষীপুর গ্রামে সিয়ামের পুরাতন বাড়িতে আসে। সেখানে একটি কক্ষে সিয়াম, নাইমা জাহান ও সিয়ামের বন্ধু পাশ্ববর্তী বাতিসা ইউনিয়নের চাঁন্দকরা গ্রামের কাজী বাড়ির আরিয়ান রাত্রীযাপন করে।
ভোরে সাইয়েদ আবদুল্লাহ সিয়াম প্রেমিকা নাইমা জাহানকে বাসা থেকে চলে যাওয়ার জন্য বলে যাতে আশ-পাশের কেউ না দেখে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ঘরে থাকা ছুরি দিয়ে সিয়ামের পেটে আঘাত করে প্রেমিকা নাইমা জাহান। এ সময় সেখানে সিয়ামের বন্ধু আরিয়ান উপস্থিত ছিল। সিয়ামের চিৎকার শুনে আশ-পাশের লোকজন ছুটে এসে নাইমা জাহান ও বন্ধু আরিয়ানকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার ও দুইজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং ছুরিকাঘাতের পেছনের পরিস্থিতি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কেকে/ এমএস