ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ব্যবহার করে নামজারি ও জমাখারিজের নামে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১ জুলাই) প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে উপজেলা ভূমি অফিস।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকারি বিধি ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে নামজারি ও জমাখারিজের সম্পূর্ণ কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে আবেদন ফি ৭০ টাকা এবং নামজারি অনুমোদন ফি ১ হাজার ১০০ টাকা অনলাইনে পরিশোধ করতে হয়। সরাসরি নগদ অর্থ লেনদেনের কোনো সুযোগ নেই।
অভিযোগে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন ইউনিয়নে সক্রিয় একটি দালাল ও প্রতারক চক্র ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ব্যবহার করে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের নামজারি দ্রুত অনুমোদনের প্রলোভন দেখিয়ে কয়েক হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করছে। এতে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি উপজেলা ভূমি অফিসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
বাঞ্ছারামপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মো. রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, “বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ভূমি অফিস শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে নাগরিকদের ভূমিসেবা দিয়ে যাচ্ছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ই-নামজারির পুরো প্রক্রিয়াই অনলাইনে সম্পন্ন হয়। এর বাইরে কোনো ধরনের নগদ বা অতিরিক্ত অর্থ লেনদেনের প্রয়োজন নেই।”
তিনি আরও বলেন, “যদি কেউ নামজারি করিয়ে দেওয়ার কথা বলে সরকারি ফির অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে, তাহলে সরাসরি সহকারী কমিশনার (ভূমি) অথবা উপজেলা ভূমি অফিসকে জানান। প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”
এদিকে, নামজারির কাজে আসা কয়েকজন সেবাগ্রহীতার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা গণমাধ্যমে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
তবে বাঞ্ছারামপুর পৌর এলাকার কৃষক মো. আজাদ মিয়া বলেন, “আমি সরকারি ফি ১ হাজার ১৭০ টাকা দিয়েই খারিজের কাজ সম্পন্ন করেছি।”
কেকে/ এমএস