শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,
১৪ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● চার দিনের জাপান সফর শেষে ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী      ● এলপিজির কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব, বাড়তে পারে সিলিন্ডারের দাম      ● দুই ঘণ্টা পর মিরপুর-১০ ছাড়লেন পোশাকশ্রমিকেরা, যান চলাচল স্বাভাবিক      ● মানবতাবিরোধী অপরাধে হানিফের মৃত্যুদণ্ড      ● ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন : জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বিএনপি প্রার্থী      ● তেল-গ্যাসে নাভিশ্বাস      ● ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন : শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ, লড়াইয়ে ৫ প্রার্থী      
দেশজুড়ে
কক্সবাজার সৈকতে অস্থায়ী ব্যবসায়ীদের কার্ড বাতিল, নতুন ইস্যুও বন্ধ
মো. নেজাম উদ্দিন, কক্সবাজার
প্রকাশ: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৩:৪৭ পিএম
ছবি: প্রতিবেদক

ছবি: প্রতিবেদক

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পরিবেশ সংরক্ষণ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অস্থায়ী ব্যবসায়ীদের সব ধরনের কার্ড বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে নতুন করে কোনো কার্ড ইস্যু না করার এবং বিদ্যমান কার্ডের নবায়ন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, রোববার (১ জুন) জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেল থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সহকারী কমিশনার (পর্যটন সেল) স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বর্তমানে ইস্যুকৃত বা নবায়নকৃত সব অস্থায়ী ব্যবসায়িক কার্ডের মেয়াদ ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে এসব কার্ড আর কার্যকর থাকবে না এবং ২০২৬-২০২৭ অর্থবছর থেকে কোনো কার্ড নবায়নও করা হবে না।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কার্ডধারী অনেক ব্যবসায়ী শর্ত ভঙ্গ করে বালিয়াড়িতে স্থাপনা নির্মাণ, সৈকতের চলাচলের পথ ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বর্তমানে এক হাজারের বেশি অস্থায়ী ব্যবসায়িক কার্ড রয়েছে।

পর্যটকদের ভোগান্তি

শনিবার (২৭ জুন) সরেজমিনে সুগন্ধা পয়েন্টে দেখা যায়, সৈকতে প্রবেশপথের দুই পাশ ও মাঝখানের সড়কজুড়ে সারি সারি অস্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে। এতে পর্যটকদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক রাকিব বলেন, “পুরো সড়কজুড়ে দোকান বসানো হয়েছে। হাঁটাচলা করাই কঠিন। অনেক বিক্রেতা জোর করে পণ্য কিনতে চাপ দেন।”

অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বাবুল বলেন, “আমরা জীবিকার তাগিদে এখানে বসি। প্রশাসন যদি নির্দিষ্ট হকার্স মার্কেট করে দেয়, তাহলে আমরা সড়ক ছেড়ে চলে যাব।”

চাঁদাবাজির অভিযোগ

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সৈকতের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে প্রতিদিন চাঁদা আদায় করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। কয়েকজন ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীর দাবি, স্থানভেদে প্রতিটি দোকান থেকে প্রতিদিন ৩০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হয়।

যদিও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সুপারভাইজার মাহাবুব তার বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

প্রশাসনের বক্তব্য

জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, “৩০ জুনের পর অস্থায়ী ব্যবসায়ীদের কোনো কার্ড নবায়ন করা হবে না। আমরা নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছি। তবে উচ্ছেদের কিছুক্ষণ পরই তারা আবার দোকান বসিয়ে ফেলছে। স্থায়ী সমাধানে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমল হোসাইন বলেন, “অবৈধ দোকান উচ্ছেদ ট্যুরিস্ট পুলিশের সরাসরি দায়িত্ব নয়। তবে জেলা প্রশাসন বা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি সহযোগিতা চাইলে প্রয়োজনীয় পুলিশ সহায়তা দেওয়া হবে। ট্যুরিস্ট পুলিশের নাম ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হাইকোর্টের রিট পিটিশন এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে জেলা প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close