টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সাংগু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। অতিবৃষ্টিতে বান্দরবান জেলা সদর, লামা, আলীকদম, রোয়াংছড়ি, নাইক্ষ্যংছড়িসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়েছে।
বৃষ্টির কারণে সড়কে পানি জমে থাকায় বান্দরবানের সঙ্গে কেরানীহাট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটিসহ সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাস চলাচলও বন্ধ রয়েছে।
এদিকে বাস সার্ভিস বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন অনেক যাত্রী। অনেকে সকাল থেকে বাসস্টেশনগুলোতে ভিড় করেও নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে ছোট ছোট গাড়িতে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে কিছুটা পথ এগোচ্ছেন কিছু যাত্রী।
বান্দরবান থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য বাসস্টেশনে থাকা যাত্রী আনোয়ার জানান, “বৃষ্টির কারণে সড়কে পানি ওঠায় বান্দরবানের বাস সার্ভিসগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। এতে আমাদের দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়েছে।”
এদিকে টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ধস ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকায় বান্দরবানে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হচ্ছে। কখনো বিদ্যুৎ থাকছে না, আবার কখনো মোবাইল নেটওয়ার্ক থাকছে না। দুর্যোগের কারণে নেটওয়ার্ক সমস্যায় অনেকেই আত্মীয়স্বজন ও পরিবারের খোঁজখবর নিতে পারছেন না।
টানা বৃষ্টি ও অতিবর্ষণের ফলে জেলার সাংগু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবানের সাংগু নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ দশমিক ৭৫ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ দশমিক ২৭ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে (সকাল ৯টার তথ্যে)।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত) বান্দরবানে ১৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতি ভারী বৃষ্টিপাত।
এদিকে অতিবৃষ্টিতে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বান্দরবান জেলা সদরের নদীতীরবর্তী ঘরবাড়িসহ বালাঘাটা, ক্যামলং, আর্মিপাড়া, ইসলামপুর, শেরে বাংলানগরসহ আশপাশের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করায় স্থানীয়রা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকে প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠছেন।
এদিকে বান্দরবান জেলা সদরের বাসিন্দাদের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে পুকুর থেকে পানি তুলে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তা পরিশোধন করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের ত্রাণসহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানান, বান্দরবানের সাতটি উপজেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৪ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
কেকে/এলএ