বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার ম্যাচকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফেসবুক, এক্স, টিকটক ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে অসংখ্য পোস্ট, মন্তব্য ও বিশ্লেষণ ছড়িয়ে পড়েছে। এসব আলোচনার বড় অংশে ফিফার ভূমিকা, রেফারিংয়ের সিদ্ধান্ত এবং আর্জেন্টিনা অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছে এমন অভিযোগ উঠে এসেছে। তবে এসব দাবির পক্ষে এখনো নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।
বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিনে আর্জেন্টিনার ম্যাচে রেফারির একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেক সমর্থক ও বিশ্লেষক। বিশেষ করে মিশরের বিপক্ষে নেয়া কিছু সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে দাবি করেন, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রেফারির সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার পক্ষে গেছে এবং মিশর বঞ্চিত হয়েছে। তবে ম্যাচ শেষে ফিফা সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর ব্যাখ্যা দিয়েছে এবং নিয়ম অনুসারেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে।
বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি মন্তব্য। তিনি প্রকাশ্যে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থনের কথা জানানোর পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর থেকেই অনেক ব্যবহারকারী রাজনৈতিক অবস্থান ও ফুটবলকে একসঙ্গে টেনে এনে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করতে শুরু করেন। ফলে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে সমালোচনার পরিধি আরও বিস্তৃত হয়।
শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই নয়, ইউরোপের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমেও ফিফার সিদ্ধান্ত ও রেফারিং নিয়ে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিশ্বকাপের সূচি, ম্যাচ পরিচালনা এবং অতীতের একাধিক বিশ্বকাপের বিতর্কও সামনে আনা হচ্ছে। কেউ ২০২২ বিশ্বকাপের বিভিন্ন ঘটনা উল্লেখ করছেন, আবার কেউ ১৯৭৮ ও ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ টেনে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে পুরোনো বিতর্কের কথাও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের দাবি তুলেছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। একই সময়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ঘিরে অর্থ পাচারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থা এফবিআই তদন্ত করছে বলেও বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি এবং অভিযোগের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণও সামনে আসেনি।
বিতর্কের মধ্যেও আর্জেন্টিনা শিবির প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। দলটি গণমাধ্যমের উপস্থিতি ছাড়াই রুদ্ধদ্বার অনুশীলন করেছে। দলের সব ফুটবলার সুস্থ রয়েছেন এবং ইনজুরি নিয়ে আগের উদ্বেগও কেটে গেছে। কোচ লিওনেল স্কালোনি শুরুর একাদশে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে আগ্রহী নন বলেই দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
তবে মাঠের বাইরে চলমান আলোচনা ও সমালোচনা আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচ এবং পারফরম্যান্সকে নতুন করে বিশ্লেষণের মুখে ফেলেছে। দলের প্রতিটি জয় এখন বিতর্কের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ হওয়ায় তার প্রতিটি পারফরম্যান্সও বাড়তি নজর কেড়েছে। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও তার নাম আলোচনায় রয়েছে, যদিও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অন্য তারকারাও সমানভাবে এগিয়ে আছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা দাবি, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং অসমর্থিত তথ্য জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। তাই এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পরিবর্তে আনুষ্ঠানিক তদন্ত, নির্ভরযোগ্য তথ্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
কেকে/এলএ