রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন লালমাটিয়ার ২৭ নম্বর সড়কে অবস্থিত মদের বারটি অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় আলেম সমাজ, বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের নেতা ও এলাকাবাসী। তারা জনবসতিপূর্ণ, আবাসিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকায় মদের বার পরিচালনার বিরোধিতা করে দ্রুত এটি অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, মোহাম্মদপুর থানার অন্তর্ভুক্ত লালমাটিয়া এলাকায় ২৭ নম্বর রোডে ঢাকা ব্যাংকের উপরে গত ৬-৭ মাস ধরে একটি মদের বার চলেছিল। এই বারের বিষয়ে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর অবগত নেই।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ‘লালমাটিয়া এলাকায় কোনো মদের বার থাকতে পারবে না। এই এলাকায় শত শত বছর ধরে বিবি মসজিদ নামে একটি মসজিদ রয়েছে, এলাকাটিতে রয়েছে মাদ্রাসা ও একাধিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এই এলাকায় মদের বার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না।’
বার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করার জন্য ইসলামী সমাজ ঐক্য গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
খেলাফত মজলিসের ইসলামী নেতা মাওলানা মামুনুল হক আরও বলেন, ‘জনস্বার্থ, সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার প্রশ্নে আবাসিক এলাকার মধ্যে মদের বার পরিচালনা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা প্রয়োজন।’
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি, সামাজিক নিরাপত্তা ও তরুণ সমাজের ভবিষ্যতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
অনু্ষ্ঠানে অন্য আলেমরা বলেন, ‘মাদক সমাজে অপরাধ, পারিবারিক অশান্তি ও নৈতিক অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে মাদকবিরোধী অবস্থান নিতে হবে।’
গত ১৯ মে লালমাটিয়া সোসাইটির সভাপতি বেলাল আহমেদ স্বাক্ষরিত লিখিত আবেদনে ধানমন্ডি ২৭ মূল সড়কের কনকর্ড রয়েল কোর্ট ভবনে অবস্থিত ‘কয়লা রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’ বন্ধের দাবি জানানো হয়।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, লালমাটিয়া একটি শান্তিপূর্ণ আবাসিক এলাকা, যেখানে বিপুলসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয় রয়েছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের পাশে মদের বার পরিচালনার কারণে স্থানীয় অভিভাবক, মসজিদের ইমাম ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
লালমাটিয়া সোসাইটির পক্ষ থেকে দ্রুত মদের বারটি বন্ধ করে এলাকার ঐতিহ্য, সামাজিক পরিবেশ এবং শিশু-কিশোরদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এলাকাটিতে শান্তিপ্রিয় লোকজনের বসবাস, মসজিদ মাদ্রাসা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে এলাকাটিতে। এখানে বার হওয়াটা মেনে নেওয়ার মতো না। মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের উচিত হবে দ্রুত এটিকে বন্ধ করে দেওয়া।
কেকে/এমএ