শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬,
২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: ভাঙ্গায় বাসচাপায় নিহত পাঁচ      ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত      রাতের মধ্যে চট্টগ্রামসহ ১৯ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস      হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু      দেশে ২৫ হজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী      জেলা-উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী      বেতন বাড়ছে সরকারি চাকরিজীবীদের, হতাশ বেসরকারি চাকরিজীবীরা      
দেশজুড়ে
মৌলভীবাজারের বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও ওষুধ সংকট
মো. এহসানুল হক, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৬ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে মৌলভীবাজার জেলার চার উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে। এতে জেলার রাজনগর, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া ও সদর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের পাঁচ হাজার পরিবারে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজনগর উপজেলার মানুষ। মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে রাজনগরের টেংরা ইউনিয়ন ও কামারচাক ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত। অনেক স্থানে কোমর থেকে গলাসমান পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। 

বন্যাদুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনো খাবার ও গোখাদ্যের চরম প্রকট আকার ধারণ করছে। বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। 

শনিবার (১১ জুলাই) রাজনগর উপজেলাসহ বন্যাকবলিত এলাকাগুলো ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ মানুষ এখন খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, মাছের ঘের ও গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ বিভাগের তথ্যমতে, মৌলভীবাজার জেলায় এখন পর্যন্ত চারটি উপজেলার ৪ হাজার ১৭৫টি পরিবার পানিবন্দি রয়েছেন। দুর্গত মানুষের জন্য জেলার বিভিন্ন স্থানে ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। উদ্ধার তৎপরতা, ত্রাণ বিতরণ ও চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রয়েছে। 

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সাম্প্রতিক বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ১ হাজার ৭৫০ ব্যাগ শুকনো ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাজনগর ২১০ ব্যাগ, কমলগঞ্জে ২৩৫ ব্যাগ, মৌলভীবাজার সদরে ৩১৩ ব্যাগ, কুলাউড়ায় ৩৪০ ব্যাগ, শ্রীমঙ্গলে ২৩৫ ব্যাগ, বড়লেখায় ২৬০ ব্যাগ এবং জুড়ী উপজেলায় ১৫৭ ব্যাগ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ত্রাণের চালও বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে কমলগঞ্জ উপজেলায় ২০ মেট্রিক টন, মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় ২০ মেট্রিক টন এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ১০ মেট্রিক টন ত্রাণের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তবে জেলা প্রশাসনের ত্রাণ বরাদ্দ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা বন্যায় আক্রান্ত না হলেও বন্যাকবলিত রাজনগর উপজেলা থেকে বরাদ্দের পরিমাণ বেশি দেয়া হয়েছে। এতে  বৈষম্য করা হয়েছে বলে দাবি রাজনগরবাসীর। 

এ বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে কোনো সাড়া মেলেনি। 

এদিকে জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় শনিবার ধলাই নদীতে তলিয়ে এক কৃষক নিখোঁজ হয়েছে। এর আগে শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজনগর উপজেলায় বন্যার পানিতে ভাসমান দুই মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে মধ্যে ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধের পরিচয় মিললেও উজানের ঢলে ভেসে আসা অর্ধগলিত অজ্ঞাত এক নারীর (৪৫) পরিচয় এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। 

স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ভাঙারহাট-আকুয়া এলাকার রিং বাঁধের পাশে বন্যার পানিতে নিখোঁজ আশরাফ আলীর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনরা। বিকালে একই ইউনিয়নের একামধু এলাকা থেকে ভাসমান মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। 

রাজনগর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘অর্ধগলিত অজ্ঞাত নারীর উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। লাশের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

কমলগঞ্জ উপজেলায় গরুর জন্য ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে ধলাই নদীতে ডুবে মাসুক মিয়া (৪৫) নামের কৃষক নিখোঁজ হয়েছেন। শনিবার সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ কৃষক উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের হিরামতি এলাকার মৃত আজিজ মিয়ার ছেলে কৃষক মাসুক মিয়া। 

কমলগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ যৌথভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছে। 

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলীদ বলেন, ‘গতকালের তুলনায় বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। তবে মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের আরও ৪-৫টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো মেরামতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মীরা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন।’

মৌলভীবাজার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকতা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া জানান, ইতোমধ্যে বন্যার্তদেও জন্য শুকনো খাবারসহ চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া জেলায় পানিবন্দি মানুষদের জন্য ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। 

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  মৌলভীবাজার   বন্যাকবলিত এলাকা   বিশুদ্ধ পানি   খাদ্য সংকট   ওষুধ সংকট  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close