টানা ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নে সৃষ্ট বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০০টি অসহায় ও দুঃস্থ পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে রামু উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বরাদ্দকৃত মোট ১ টন (১ হাজার কেজি) চাল বানভাসি মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
চাল বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্যবৃন্দ।
মনিরুল আলম জানান, সাম্প্রতিক টানা ভারী বর্ষণের ফলে গর্জনিয়া ইউনিয়নের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আমি ও সাংবাদিক নেজাম উদ্দিন রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমানকে জানাই। বিষয়টি জানার পরপরই তিনি দ্রুত গর্জনিয়া ইউনিয়নের জন্য এই জরুরি বরাদ্দ দেন। এতে করে এলাকার অনেক গরীব ও অসহায় পরিবারকে এই দুর্যোগ মুহূর্তে কিছুটা হলেও সহযোগিতা করা সম্ভব হয়েছে।’
টানা বৃষ্টির কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া ও ঘরে খাবার না থাকা মানুষগুলো এই চাল পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। চাল নিতে আসা থিমছড়ি এলাকার বাসিন্দা রহিমা বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টির কারণে কোনো কাজকাম করতে পারছি না। ঘরে চালও শেষ হয়ে গিয়েছিল। এমন কঠিন মুহূর্তে সরকারের এই চালের সহায়তা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া।’
মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকাগুলোর ওপর কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে। কয়েক দিন আগেই আমি গর্জনিয়ার প্লাবিত ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সশরীরে পরিদর্শন করেছি। সেখানকার পরিস্থিতি বেশ নাজুক ও কষ্টকর ছিল। সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে এবং জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয়ের সদয় অনুমতিক্রমে অসহায় পরিবারগুলোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে এই চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, এতে করে বানভাসি মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে উপজেলা প্রশাসন সবসময় রয়েছে।’
কেকে/এমএ