টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সাংগু নদীর পানি এখনো বিপদ সীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। অতি বৃষ্টিতে বান্দরবানের প্রধান সড়কে পানি জমে থাকায় সারাদেশের সাথে এখনো সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বৃষ্টির কারণে সড়কে পানি জমে থাকায় বান্দরবানের সাথে কেরানীহাট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার রাঙ্গামাটিসহ সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে, তবে ছোট কিছু যানবাহন চলাচল করছে।
জেলা সদর ছাড়া ও লামা, আলীকদম, রোয়াংছড়ি, নাইক্ষ্যংছড়িসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্মাঞ্চল পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বান্দরবানের সাংগু নদীর পানি ১৫দশমিক ৮৭ মিটার ওপরে প্লাবিত হচ্ছে মাতামুহুরী নদীর পানি ১০ দশমিক ০৬ মিটার ওপরে প্লাবিত হচ্ছে (সকাল ৯টার তথ্যে)।
এদিকে গতকাল রাত থেকে সকাল পর্যন্ত বৃষ্টি কিছুটা কম হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ঘন্টায় (গতকাল সকাল ৯টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত) বান্দরবানে ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ।
বান্দরবান সদরের গুরত্বপূর্ণ এলাকা ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যু বিতরণ বিভাগের রেস্ট হাউস, সেনা বাহিনীর ব্রিগেড এলাকা, বেতার এলাকা ও পুলিশ লাইন এলাকায় পানি থই থই করছে। এর মধ্যে বালাঘাটার ব্রিগেড এলাকা ও পুলিশ লাইন্স এলাকায় ঘরের বাইরে বের হওয়া জনগণ নৌকায় করে চলাচল করতে দেখা গেছে।
এদিকে দুর্যোগের এই অবস্থার কারণে প্রশাসন সচেষ্ট রয়েছে এবং সার্বিক তদারকি অব্যাহত রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানান, বান্দরবানের ৭টি উপজেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে আর এই আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৬ হাজার ২শ ৫০জন আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরণ চলমান রয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, এই দুর্যোগে এই পর্যন্ত বান্দরবানে পাহাড়ধসে ৫ জন ও ১জন পানিতে ডুবে মারা গেছে। জেলায় ২৬টি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে আর বেশিরভাই সড়কের ওপরে ছিল।
তিনি আরও জানান প্রায় ৮হাজার ৫শত জন এখনো পানিবন্ধী অবস্থায় রয়েছে, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন এই দুর্যোগ মোকাবেলায় সার্বিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
কেকে/ এমএস