রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ঢাকা উত্তরে আসিফ ও দক্ষিণে পাটওয়ারীকে এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা      ডেঙ্গুতে আরও ছয়জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৫৬১      আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১৩ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অনুসন্ধানে দুদক      স্থানীয় নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর      ফেনীতে প্রধানমন্ত্রীর ১৭ সেপ্টেম্বরের সফর স্থগিত      আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞার প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ      পশ্চিমবঙ্গকে গ্রেটার বাংলাদেশ বানানোর চেষ্টা চলছে : শুভেন্দু      
দেশজুড়ে
ফটিকছড়িতে বন্যার পানি নামলেও মাঠে রয়ে গেছে ক্ষতের দাগ
সালাহউদ্দিন জিকু, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৩:১৪ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি থেকে পানি সরে গেলেও মাঠজুড়ে রয়ে গেছে বন্যার ক্ষতের চিহ্ন। কোথাও পানিতে পচে গেছে আউশ ধান, কোথাও নষ্ট হয়েছে আমনের বীজতলা, আবার কোথাও ডুবে গেছে গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষেত। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এখন নতুন উদ্যমে মাঠে ফিরেছেন কৃষকেরা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, অনেক কৃষক জমি থেকে কাদা ও আগাছা সরিয়ে নতুন করে চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কেউ বীজতলার জন্য জমি তৈরি করছেন, কেউ আবার নতুন চারা সংগ্রহে ব্যস্ত। তবে বন্যার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে অতিরিক্ত খরচের চাপ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অধিকাংশ কৃষক।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক তথ্য মতে, ফটিকছড়িতে মোট ২ হাজার ৪৮০ হেক্টর আউশ ধানের মধ্যে ১ হাজার ১৫ হেক্টর পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। ১ হাজার ৭৫ হেক্টর আমনের বীজতলার মধ্যে ৫৬০ হেক্টর এবং ২ হাজার ৮৪৫ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে ১ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার ৫০ হেক্টরের বেশি কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হালদা নদীসহ বিভিন্ন খাল উপচে পড়া পানি এবং কয়েকটি স্থানে বাঁধ ভেঙে বন্যার পানি কৃষিজমিতে ঢুকে পড়ে। কয়েক দিনের জলাবদ্ধতায় ধানের চারা হলুদ হয়ে যায়, অনেক বীজতলা নষ্ট হয় এবং সবজিখেতে পচন ধরে।

ফটিকছড়ি বিল এলাকার কৃষক রশিদ আহমদ বলেন, আমন রোপণের সময় চলে এসেছে। কিন্তু এক সপ্তাহের বন্যায় আমার বীজতলা নষ্ট হয়েছে। এখন নতুন করে চারা সংগ্রহ করে আবার চাষ শুরু করতে হচ্ছে।

একই এলাকার কৃষক মো. রহিম উদ্দিন বলেন, দুই কানি জমির ধানের চারা পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আবার নতুন করে চাষ করতে হবে। এতে খরচ অনেক বেড়ে যাবে।

অন্য কৃষকেরা জানান, বন্যার ক্ষতি সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন তারা। কিন্তু বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের অতিরিক্ত ব্যয় তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি সহায়তা পেলে ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তাদের আশা।

হারুয়ালছড়ি পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপক মো. আইয়ুব আলী বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং নতুন করে বড় ধরনের বন্যা না হলে কৃষকেরা দ্রুত ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন। তবে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য প্রণোদনা ও কৃষি উপকরণ সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদনের ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সালেক বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব নিরূপণের কাজ চলছে। যেসব কৃষকের বীজতলা ও ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আমন মৌসুমে যাতে দ্রুত চাষাবাদ শুরু করা যায়, সে বিষয়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close