মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘দ্যা জিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্স’-এর স্টোর ও স্টেক ইয়ার্ডে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেঁধে সাড়ে ৫ ঘণ্টা ধরে ডাকাতির ঘটনায় আরও ১০ ডাকাতকে আটক করেছে পুলিশ। এ নিয়ে গত দুই দিনে মোট ১৪ জন ডাকাত আটক হলো। এছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত আরও একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।
গজারিয়া থানা সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীসহ ৪ ডাকাতকে গ্রেফতার করে গজারিয়া থানা পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতভর ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ১০ ডাকাতকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়। এ নিয়ে দুই দিনে মোট ১৪ জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার এবং দুটি ট্রাক জব্দ করা হলো।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন,নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত হাফেজের ছেলে শাহ আলম (২৩)। শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার ফেরাঙ্গিকান্দি গ্রামের মতি শিকদারের ছেলে রনি শিকদার (৩৪)। বাগেরহাট জেলার চিতলমারি উপজেলার শিবপুর মধ্যপাড়া গ্রামের জামাল শিকদারের ছেলে মেহেদী হাসান (৩৮)। কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার সংবহন পালের বাজার এলাকার মৃত নিমাই দাসের ছেলে মনোরঞ্জন দাস (২৭)। খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার খড়িয়া গ্রামের আসাদুল সানার ছেলে আল আমিন সানা (১৯)। খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার কুড়ুলিয়া গ্রামের প্রশান্ত মন্ডলের ছেলে অলোকেশ মন্ডল (৩৫)। খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার নারায়ণপুর মধ্যপাড়া, গাজী বাড়ি গ্রামের রফি উদ্দিন গাজীর ছেলে সারাফত উদ্দিন সুমন (২৪)। খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার কুড়ুলিয়া গ্রামের মোশাররফ হোসেনের ছেলে অলিউর রহমান (২৪)। শরীয়তপুর জেলার সখিপুর উপজেলার চরচান্দা, ঢালীকান্দি গ্রামের এবাদুল মোল্লার ছেলে জামাল (৪০)। ঢাকা জেলার বাড্ডা থানার বড় বেরাইদ ডগরদিয়া গ্রামের নাঈম মিয়ার ছেলে মৃদুল আহম্মেদ তুষার (২৬)। তাদের গ্রামের বাড়ি বিভিন্ন জেলায় হলেও তারা বর্তমানে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার বেগুনবাড়ি এলাকার বিভিন্ন বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতো।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুলাই রাতে উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের মুসলিমনগর এলাকায় ঊষা এগ্রো লিমিটেডের ভাড়া নেওয়া জায়গায় দ্যা জিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের প্রতিষ্ঠানে এই দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়। ডাকাত দল প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ৮ জনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও হাত-পা বেঁধে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের ভারী কনস্ট্রাকশন যন্ত্রপাতি ও মূল্যবান মালামাল ট্রাকে করে লুটে নেয়।
লুট করা মালামালের মধ্যে রয়েছে, বিভিন্ন সাইজের ইলেকট্রিক ক্যাবল, রড কাটার মেশিন, পাইলিংয়ের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম, লোহার পুলি, চায়না ইঞ্জিন, ৩০ হর্স পাওয়ারের মোটর, ওয়েল্ডিং মেশিন, ফুয়েল পাম্প, লিফটিং হেড, গালগাট্টা পুলি ও ট্রেমি হেডসহ বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ। ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে পুলিশ।
গজারিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাব্বির হোসেনের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামিদের অবস্থান সনাক্ত করে। সিসিটিভি ফুটেজ, স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং মোবাইল নাম্বারের সূত্র ধরে বুধবার রাতে চারজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় আরো ১০ জনকে। লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে চেষ্টা করছে পুলিশ।
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাব্বির হোসেন বলেন, ‘জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ থেকে কল পাওয়ার পরপরই আমরা মাঠে নামি। পুলিশ সুপার মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঢাকা থেকে দুই দিনে ১৪ জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার ও চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
কেকে/ এমএস