বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬,
১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: বঙ্গোপসাগরের মিয়ানমার উপকূলে দুই নৌকাডুবি, ৫৩০ রোহিঙ্গা নিহত      বোয়ালখালীতে লবণ কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, ১০ শ্রমিক দগ্ধ      চট্টগ্রামসহ আট অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে      ইরানে দফায় দফায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা      আজ জুলাই শহীদ দিবস : নির্ভিক আবু সাঈদের রক্তে অগ্নিগর্ভ দেশ      ডিফেন্সিভ কৌশল নিয়ে সমালোচনা, জবাব দিলেন টুখেল      সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আসছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’: প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
করিমগঞ্জে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন
সাব্বির হোসেন, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৮ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় মসজিদ পরিচালনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে কথিত মিথ্যা মামলা ও হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার কিরাটন ইউনিয়নের লাখপুর গাংপাড়া এলাকার আজিমের বাজার জামে মসজিদের সামনে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। 

আয়োজিত মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা, মুসল্লিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলা ও হয়রানি থেকে রক্ষার দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, লাখপুর গাংপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. বাদল মিয়া ও তার ভাই সাইফুল ইসলাম কাঞ্চন দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছেন। তাদের দাবি, বাদল মিয়া আদালতে মুহুরি হিসেবে কাজ করার সুযোগ নিয়ে গ্রামের নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা মামলা দায়ের করছেন। ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ জনের বিরুদ্ধে ৫০টিরও বেশি মামলা করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ৩ জুন মহসিন আলমসহ নয়জনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় আট বছর ধরে বাদল মিয়া ও তার ভাই কাঞ্চন নিজেদের গঠিত কমিটির মাধ্যমে এককভাবে মসজিদ পরিচালনা করছেন। এলাকাবাসী মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, গত আট থেকে দশ বছরে মসজিদের আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হয়নি। তিনি মসজিদ ও মাদ্রাসা একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং সর্বজনগ্রহণযোগ্য কমিটির মাধ্যমে পরিচালনার দাবি জানান।

মসজিদের সাবেক ইমাম মাওলানা মহসিন আলম বলেন, দীর্ঘদিন তাকে বিনা বেতনে ইমামতি করতে বাধ্য করা হয়েছে। বেতন দাবি করায় তিনি অপমান ও হয়রানির শিকার হন। একইভাবে তার আগের কয়েকজন ইমামও একই ধরনের আচরণের মুখোমুখি হয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও দাবি করেন, মসজিদের বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করা হয়েছে এবং বর্তমানে তার নামে প্রায় ১০টি মামলা রয়েছে।

মসজিদের মোতাওয়াল্লি মতিউর রহমান বলেন, বাদল মিয়া ও কাঞ্চন জোরপূর্বক মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। আমরা এলাকাবাসীর দাবি  মসজিদটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে নয়; বরং সবার অংশগ্রহণে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে সবাই যেন নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করতে পারেন এবং মসজিদ ও মাদ্রাসার কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হয়, সে জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, মসজিদকে কেন্দ্র করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে প্রশাসনের নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং হয়রানিমূলক মামলা থেকে নিরীহ মানুষকে রক্ষা করার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. বাদল মিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাইফুল ইসলাম কাঞ্চন বলেন, মসজিদটি তাদের বংশীয় ওয়াকফকৃত জমিতে প্রতিষ্ঠিত এবং আইন অনুযায়ী জমিদাতার উত্তরাধিকারী হিসেবে তার ভাই বাদল মিয়া সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দাবি করেন, মসজিদের উন্নয়নে তাদের পরিবারেরই সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে। 

মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, বরং বিরোধী পক্ষই বিভিন্ন সময়ে তাদের ওপর হামলা ও নির্যাতন করেছে। তার অভিযোগ, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি পক্ষ মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে তারা কোনো অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত নন এবং মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগও ভিত্তিহীন।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান বলেন, ‘আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে মুসলিমা বলেন, ‘আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close