বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬,
৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: ভর্তুকির সার পাচার হচ্ছে মিয়ানমারে      জ্বালানি তেল নিয়ে ফের গুজবের পাঁয়তারা      ভিডিওকাণ্ডে জামায়াত থেকে বহিষ্কার এমপি গাজী নজরুল ইসলাম      হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৮০৩      বস্ত্রশিল্পের সমস্যা সমাধানে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর      এলডিসি উত্তরণে প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর সুপারিশ ইকোসকের      রাজধানীর হাজারীবাগে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত      
খোলাকাগজ স্পেশাল
ভর্তুকির সার পাচার হচ্ছে মিয়ানমারে
মুসলিম উদ্দিন, উখিয়া (কক্সবাজার)
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪৩ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

কক্সবাজারের উখিয়ায় সরকারি প্রণোদনার সার পাচার হয়ে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারে। সেইসঙ্গে সরকারি অনুদানের বীজ, চারাসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণের চলছে হরিলুট। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় সাধারণ কৃষক। 

অভিযোগ রয়েছে, উখিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে শক্তিশালী এক পাচারচক্র নির্বিঘ্নে এ অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারি খাতায় উখিয়া উপজেলার জন্য বিপুল পরিমাণ বীজ, চারা, সার ও কৃষি উপকরণ বরাদ্দ এলেও বাস্তবে তার কোনো ছিটেফোঁটাও পান না প্রকৃত চাষিরা। এতে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, উখিয়া সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে সার পাচারের ক্ষেত্রে মূলত পালংখালী ইউনিয়নের কয়েকটি স্থান বারবার সামনে এসেছে। এর মধ্যে ধামনখালী ও রহমতের বিল এলাকা দিয়ে রাতের আঁধারে নাফ নদী পার করে বা সীমান্ত রেখা ব্যবহার করে সার ওপারে পাঠানো হয়। 

এছাড়া আঞ্জুমান পাড়া, বালুখালী সীমান্ত এবং দুর্গম পাহাড়ি পথ হওয়ার সুযোগে থাইংখালী ও তেলখোলা সীমান্ত পথগুলোকে চোরাকারবারিরা নিরাপদ পথ হিসেবে ব্যবহার করছে। 

সংশ্লিষ্টদের মতে, মিয়ানমারে সারের তীব্র সংকট এবং চড়া দাম থাকার সুযোগ নিয়ে উখিয়ার স্থানীয় কিছু চক্র সরকারি ভর্তুকির সার অবৈধভাবে সংগ্রহ করে ওপারে পাচার করে থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত উখিয়া সীমান্ত এলাকা থেকে মোট ৩৮৩ বস্তা পাচারকৃত সার উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে উখিয়া থানা পুলিশ ১টি মামলায় ৫৪ বস্তা এবং বিজিবি ১৯টি মামলায় ৩২৯ বস্তা সার উদ্ধার করে। তাছাড়া গত ৫ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টার দিকে পালংখালী গয়ালমারা এমএসএফ হাসপাতালের ব্রিজের পাশে ২৪০ বস্তা সার মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল।

হলদিয়াপালং ইউনিয়নের রেঙ্গুরবিল এলাকার প্রবীণ কৃষক উলা মিয়া বলেন, গত ৪০-৪৫ বছর ধরে কৃষি কাজ করছি, কিন্তু আজও সরকারি খাতায় আমাদের নাম ওঠেনি। আমাদের কপালে কোনোদিন এক ছটাক সরকারি সাহায্যও জোটেনি।

একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধুঘোনা এলাকার কৃষক আবদুল নবী বলেন, ‘আমি কৃষি কাজ করেই জীবন চালাই। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এই পেশায় আছি, কিন্তু এ পর্যন্ত কোনোদিন আমাদের এলাকায় বা মাঠে কৃষি বিভাগের কোনো কর্মকর্তাকে দেখিনি। সরকারি সহযোগিতা কিংবা অনুদান পাওয়া তো দূরের কথা, কোনো ধরনের পরামর্শ দিতেও কেউ কখনো আসেনি। সব কৃষি উপকরণ ও সরকারি বরাদ্দ উখিয়া কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা নিজেরাই লুটপাট করে আত্মসাৎ করে ফেলছেন।’ 

হলদিয়াপালং ইউনিয়নের উত্তর বড় বিল এলাকার প্রবীণ কৃষক বাচা মিয়া ও রহিম উল্লাহ বলেন, ‘কৃষি উপকরণ বা কৃষি অনুদানের কথা বাদই দিলাম, হলদিয়া ইউনিয়ন কিংবা পুরো উখিয়া উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কে দায়িত্বে আছেন, তাকে আজ পর্যন্ত চোখেই দেখিনি। লোকমুখে শুনি সরকার কৃষকদের নানা প্রণোদনা দেয়, কিন্তু তারা এগুলো কোথায়, কার কাছে বিতরণ করে তা আল্লাহই ভালো জানেন। মাঝে মধ্যে লোকদেখানো বিতরণের অনুষ্ঠান ও ছবি তোলার আয়োজন করা হয়। এর পরবর্তী অবশিষ্ট বরাদ্দগুলো পরে দেওয়া হবে বলা হলেও বাস্তবে তা আর বিতরণ করা হয় না।’ 

রাজাপালং ইউনিয়নের হিজলিয়া গ্রামের ডিপ্লোমা কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার বাবার মৃত্যুর পর তিনি প্রায় ৩ বিঘা জমি চাষবাস করলেও আজ পর্যন্ত কোনোদিন সরকারি কোনো সহযোগিতা বা প্রণোদনা পাননি। প্রবীণ কৃষক প্রসেনজিৎ বড়ুয়া তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, তাদের দাদার বাড়িতে প্রতি মৌসুমে ৮ থেকে ১০ কানি জমি চাষ হলেও আজ পর্যন্ত তারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাননি। 

ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামনাশিস্ সরকারের নীরবতাই মূলত পাচারকারী চক্রকে সবুজ সংকেত দেওয়ার শামিল।

উখিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামনাশিস্ সরকার লিখিত বক্তব্যে বলেন, প্রণোদনায় প্রান্তিক কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছে এ বিষয়টিও সঠিক নয়। এ উপজেলায় ৩০-৪০ হাজার কৃষক পরিবার আছে এবং এই সংখ্যাটা প্রতি বছর বাড়ছে। কিন্তু আমাদের প্রণোদনা প্রতিবছর গড়ে মাত্র ২-৩ হাজার উপকারভোগীর জন্য আসে। তাহলে একসঙ্গে এতজন কৃষক বা উপকারভোগীকে কীভাবে দেওয়া সম্ভব? যেহেতু বরাদ্দ কম আসছে এবং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, কাজেই আমরা ধাপে ধাপে সবাইকে দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

এদিকে উখিয়া কৃষি বিভাগের এই অনিয়ম ও সার পাচারের মতো স্পর্শকাতর অভিযোগটি এখন সরকারের উচ্চ মহলের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, ‘এমন গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে আমরা খতিয়ে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  ভর্তুকি   সার   পাচার   মিয়ানমারে  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close