সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: হামের টিকা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল নীতির বলি হয়েছে অসংখ্য শিশু : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় চারজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৩১৪       হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু      ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন রাষ্ট্রপতি      ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে দায়িত্বশীল গণমাধ্যম অপরিহার্য: রাষ্ট্রপতি      গণতন্ত্রের জন্য সমঝোতার রাজনীতি করতে হবে : রাষ্ট্রপতি      দেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণ এক লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা      
দেশজুড়ে
ভাঙছে নদী বাড়ছে শঙ্কা
সালাহউদ্দিন জিকু, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৩:৪৮ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি ও বন্যার তীব্র স্রোতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হালদা নদী ও এর উপনদী ধুরুং এবং সর্তার ২৩টি স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও নদীতীর ভেঙে গেছে। এতে কৃষিজমি, গ্রামীণ সড়ক ও বেড়িবাঁধের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নদীভাঙন অব্যাহত থাকায় কয়েক হাজার মানুষ নতুন করে প্লাবন ও বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মধ্যে ১ হাজার ২৫০ মিটার এলাকায় জরুরি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের বন্যায় ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকায় মোট ২ হাজার ৪২০ মিটার নদীতীর ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে হালদা নদীতে ১ হাজার ৯৫ মিটার, ধুরুং নদীতে ১ হাজার ২০৫ মিটার এবং সর্তা নদীতে ১২০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব স্থান সংস্কারে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হিসাব।

হালদা নদীর হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের পাঠিয়ালছড়ি, নাজিরহাট পৌরসভার ফরহাদাবাদের চাঁদগাজী তালুকদার বাড়ি এবং নারায়ণহাট ইউনিয়নের উত্তর সুন্দরপুর এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ধুরুং নদীর পাইন্দং ইউনিয়নের বেড়াজালির খয়রাতি পাড়া, ফটিকছড়ি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড এবং কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর এলাকাতেও নদীতীর ধসে পড়েছে। সর্তা নদীর খিরাম ইউনিয়নের হচ্চারঘাটের পূর্ব পাশ, মধ্যম খিরাম নুরনগরপাড়া, গোয়াজ মোহাম্মদ বাড়ির পূর্ব পাশ এবং প্রাচীন সমাধিখোলা এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, এসব এলাকায় ইতোমধ্যে প্রায় ১০ একর কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙনের কারণে কৃষিজমির পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও গ্রামীণ সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ফরহাদাবাদ এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী (৮০) বলেন, হালদা নদীর বেড়িবাঁধ প্রতিবছরই ভাঙে। পানি উন্নয়ন বোর্ড অস্থায়ীভাবে মেরামত করলেও বর্ষা এলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। স্থায়ী সমাধান না হলে এই দুর্ভোগ কমবে না।

খিরাম এলাকার বাসিন্দা মন্টু নাথ বলেন, সর্তা নদীর ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বছরের পর বছর একই সমস্যা চললেও কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

পাইন্দং ইউনিয়নের বাসিন্দা দৌলত মিয়া বলেন, পাহাড়ি ঢলে ধুরুং নদীতে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন ও পরিমাপ করেছে। এখন দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছি।

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সোহাগ তালুকদার বলেন, ২০২৬ সালের বন্যায় ফটিকছড়ির হালদা নদী ও এর উপনদী ধুরুং এবং সর্তার ২৩টি স্থানে প্রায় ২ হাজার ৪২০ মিটার বাঁধ ও নদীতীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২৫০ মিটার এলাকায় জরুরি সংস্কারকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট অংশ চলতি অর্থবছরের উন্নয়ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, নদীভাঙনের বিষয়টি প্রশাসনের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর তথ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। মানুষের জানমাল ও সম্পদ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close