শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬,
২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: হামে আরও তিন শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১২১৮      রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে ডাকা হচ্ছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন      কৃত্রিম সংকট তৈরি করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে: নাহিদ      গণমাধ্যম শক্ত থাকলে গণতন্ত্র টেকসই হবে: মির্জা ফখরুল      থাইল্যান্ডে স্কুলে বন্দুক হামলা, শিক্ষার্থীসহ নিহত ৮      বাংলাদেশ নয় হাসিনাকে প্রাধান্য দিচ্ছে ভারত      হামের থাবায় নতুন ভয়      
সাহিত্য
সাম্য ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে দেশব্যাপী নজরুল বর্ষ পালনের আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৯ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সাম্যবাদী দর্শণকে ধারণ করে সারাদেশে ব্যাপকভাবে ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের দাবি জানিয়েছে বিদ্রোহী দ্যা নজরুল সেন্টার ও জাতীয় নারী সাহিত্য পরিষদ।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকালে ঢাকা দক্ষিণের নয়াপল্টনে সংগঠনের কার্যালয়ে আন্দোলন ও  সংগ্রামে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান, কবিতা ও বাণী শীর্ষক আলোচনা ও জুলাই বিপ্লবের কবিতা ও পুঁথিপাঠ অনুষ্ঠানে এ দাবি জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘একটি বৈষম্যহীন, মুক্তচিন্তার ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ বিনির্মাণে নজরুলের কালজয়ী সৃষ্টি এবং আদর্শ বর্তমানে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তাই নজরুল প্রেমি ও অনুরাগী সকল ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে “নজরুল বর্ষ উদ্যাপন নাগরিক কমিটি” গঠন করে সরকারের পাশাপাশি সারাদেশে ব্যাপকভাবে ‘নজরুল বর্ষ’ পালনে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।’

বক্তারা দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সেমিনার, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, উৎসব ও নজরুল মেলার আয়োজন করার আহ্বান জানান। 

বক্তারা আরও বলেন, ‘জাতীয় কবির বিদ্রোহী ও মানবিক সত্তাকে ধারণ করতে পারলে সমাজে পরমতসহিষ্ণুতা বাড়বে এবং সাম্য-সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে। নজরুলের সাম্যবাদ ও সম্প্রীতির চেতনা শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে উদযাপন করা উচিত। একটি শান্তিময়, প্রগতিশীল ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে দেশব্যাপী নজরুল বর্ষ পালন সময়ের দাবি।’

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও বিএলডিপির চেয়ারম্যান এম নাজিম উদ্দীন আল আজাদ। মূখ্য আলোচক ছিলেন বিদ্রোহী দ্যা নজরুল সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ আতা উল্লাহ খান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন গণ রাজনৈতিক জোট-গর্জো সভাপ্রধান সৈয়দ মইনুজ্জামান লিটু, কবি ও গীতিকার এটিএম ফারুক আহমেদ, বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্য আতিক হেলাল, আল-হামরা বিল্ডার্স লিমিটেডের ফাউন্ডার ও ডিরেক্টর আব্দুল মবিন খান, তর্কবাগীশ সাহিত্য পরিষদের সভাপতি হাবিবুর রহমান খান ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন আলম খান, কবি মোহাম্মদ শাহানুর ইসলাম, কবি শাহী সবুর, বিএলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম আমান উল্লাহ, কবি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, কবি ও গীতিকার যিশুপদ আচার্য্য, বাচিকশিল্পী শাহীনা আফরোজ, কবি ও বাচিকশিল্পী শিমুল পারভীন ও কবি ইসমাত আরা।
 
শাহীনা আফরোজের উপস্থানায় জাতীয় নারী সাহিত্য পরিষদের সভাপতি হাসিনা মমতাজ হাসির সভাপতিত্বে সভায় কোরআন তেলওয়াত করেন ইসমত আরা ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় নারী সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং  বিদ্রোহী দ্যা নজরুল সেন্টারের ডিরেক্টর নাসরিন ইসলাম শেলী। জাতীয় নারী সাহিত্য পরিষদের থিম সং কাজী নজরুল ইসলামের “জাগো নারী জাগো বহ্নিশিখা”-এর চার লাইন পরিবেশন করেন জাতীয় নারী সাহিত্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ। 

সভায় এম নাজিম উদ্দীন আল আজাদ বিদ্রোহী কবিতার চিত্রপট ও প্রমীলা দেবীর সাথে কাজী নজরুল ইসলামের বিবাহ বন্ধনের বিষয় তুলে ধরনে। 

তিনি বলেন, ‘কবি নজরুল সারাজীবন শোষণের বিরুদ্ধে, মানবতার পক্ষে ও ধর্মীয় গোঁড়ামির ঊর্ধ্বে উঠে সম্প্রীতির গান গেয়েছেন। তার কবিতা ও গানে বারবার ধ্বনিত হয়েছে মানুষে মানুষে সমতার বাণী। দেশের বর্তমান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে তরুণ প্রজন্মের মাঝে নজরুলের এই উদার দর্শন ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি। সারাদেশে বছরব্যাপী নজরুল বর্ষ উদযাপনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত তার সাহিত্যকর্ম, নাটক ও সংগীতের ব্যাপক প্রসার ঘটানো সম্ভব।’

মুহাম্মদ আতা উল্লাহ খান বলেন, ‘বাঙালির প্রতিটি স্বাধিকার আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪’-এর বিপ্লবে যে নামটি অবিনাশী চেতনার প্রতীক হিসেবে কাজ করেছে, তিনি হলেন কাজী নজরুল ইসলাম। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার গান গেয়ে তিনি শত বছর আগেই তার দূরদর্শী লেখনীতে ‘বাংলাদেশ’ নামের স্বাধীন ও সার্বভৌম ভূখণ্ডের স্বপ্ন বুনেছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ’ নামের প্রথম উচ্চারণ নজরুলই প্রথম কবি যার কবিতায় “বাংলাদেশ” নামটি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও মমতাময় রূপে উচ্চারিত হয়েছিল। তিনি লিখেছিলেন, “নমঃ নমঃ বাংলাদেশ মম, চির মনোরম চির মধুর...”। তার “দূর আরবের স্বপ্ন দেখি বাংলাদেশের কুটির হতে” গানের মাধ্যমে এ দেশের মাটির প্রতি তার গভীর আত্মিক টান ফুটে ওঠে। ঔপনিবেশিক শাসনের শৃঙ্খলে আবদ্ধ থেকেও তিনি এই ভূখণ্ডের একটি স্বাধীন আত্মপরিচয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন।’

সৈয়দ মইনুজ্জামান লিটু বলেন, ‘আমরা বলবো বলতে চাই, ন্যায় নৈতিকতার উৎকর্ষে পৌঁছাতে হলে কবি নজরুলকে লালন ও ধারণে সর্বোচ্চ পর্যায়ে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুন্দর সমাজ ও দেশ উপহার দিতে।’

আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, ‘কবি ও সাহিত্যিকরা শেষ বয়সে এসে বহু কষ্টে দিনাতিপাত করেন। যার প্রমাণ কবি নজরুলসহ যারা মৃত্যবরণ করেছেন তাদের জীবনী পড়লেই পাওয়া যায়। অথচ তাদের নিরলস কঠোর প্রচেষ্টা বিশ্বকে প্রতিকূল হতে অনুকুল পরিবেশ সৃজনে আজীবন কাজ করে গেছেন। এ থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে বের করে সমাধান এর উদ্যোগ নিতে হবে কবিদের জীবদ্দশায়। কবিদের জীবদ্দশায় তাদের মুল্যায়ন করা অনস্বীকার্য।’

এটিএম ফারুক আহমেদ বলেন, ‘সম্প্রতিকালে যেসব কবি ও সাহিত্যিক লিখে থাকেন হাজার হাজার কবিতা। কেউ কি তা পড়েন? জীবদ্দশায় মূল্যায়ন হয় না ওই যে “কারার ওই লৌহ কপাট, ভেঙে ফেল কররে লোপাট” কবিতাটি আজও শুনলে সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর জেগে ওঠে সকল অন্যায় নির্মূলকরণে। অথচ কবির জীবদ্দশায় এর মূল্যায়ন হয়নি। প্রতিটি শব্দের ঝংকারে জেগে ওঠবে মৃত্যু ভিসুভিয়াসও। কালোত্তীর্ণ এই “বিদ্রোহী” কবিতাটি ১৯২১ সালে রচনা করেছিলেন। প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে আজও এই কবিতা শ্রবণে মানব সত্তার রন্ধ্রে রন্ধ্রে দাউদাউ লেলিহান শিখা জ্বলে ওঠে। আমার লেখা সহস্র কবিতা মনে রাখে না কেউ, কিন্তু মনে রাখে কর্মে থাকাকালীন কোনোদিন কাকে খুনের দায়ে গ্রেপ্তার করেছিলাম, বিশৃঙ্খলা রোধে কাকে কি শাস্তি দিয়েছিলাম। আমরা ভবিষৎ প্রজন্মের মনে-প্রাণে বিদ্রোহী কবিকে লালন-ধারণ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবো।’

হাবিবুর রহমান খান বলেন, ‘১৯২১ সালে জাতীয় কবি যে কালজয়ী কবিতা রচনা করেছিলেন, সকল অন্যায় নির্মূলকরণ, আন্দোলন ও সংগ্রামে তা আজও প্রতিফলিত। তৎকালীন বিশ্বের অনেক দেশের খ্যাতনামা কবি ও সাহিত্যিক অন্যায়ের বিরূদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন এবং রচনা করেছিলেন কবিতা ও নাটক। কিন্তু কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার মত জাগরণ সৃষ্টি করতে পারেনি।’

ছড়াকার আতিক হেলাল বলেন, ‘সাম্যের কবি সম্প্রীতির কবি দ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলাম। যুগে যুগে আন্দোলন ও সংগ্রামে তার দ্রোহের কবিতা ও গান অনুপ্রেরণা দেয় উজ্জীবিত করে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে। শোষকের বিরূদ্ধে শাণিত তরবারি হাতে নিতে। স্বৈরশাসকের ভীত নড়িয়ে দিতে অতঃপর মূল উৎপাটন করতে। ১৯৭১ সালের কথা এবং ২০২৪ সালে জাতীয় কবির কবিতা ও গান আমাদের কীভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখতে প্রেরণা যোগিয়েছে এবং শোষকের মূল উৎপাটন করে তার চাক্ষুষ প্রমাণ আমরা পেয়েছি।’

নাসরিন ইসলাম শেলী বলেন, ‘প্রকৃত অর্থে শিক্ষক হলো জাতি গড়ার কারিগর, আর লেখকরা নির্মল ধরণী সৃজনে নিরলস প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা মৃত্যুবদি চালিয়ে যান। পাশাপাশি সাংবাদিকরা ভূমিকা পালন করেন সরজমিনে থেকে। এই তিন ধরনের শ্রেণির আন্তরিকতা সঠিক দায়িত্ব পালন ও নিরন্তর চেষ্টায় বৈষম্যহীন বিশ্বগড়া সম্ভব। নজরুল ইসলাম কবি ও সাংবাদিক হিসেবে খেয়ে না খেয়ে সেই দুর্নিবার প্রচেষ্টায় রত ছিলেন। সব বাধা ভয় ডিঙিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা তার ক্ষুরধার লিখনীতে প্রমাণ পাওয়া যায়। যদি আমরা বিদ্রোহী কবিকে অন্তরে লালন ও ধারণ করতে পারি, তাহলে আমরা দেশের সব প্রতিকূল অবস্থান হতে মুক্তি পেতে পারবো ইনশাআল্লাহ।’

বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকে গান পরিবেশন করেন কবি ইসমত আরা। স্বরচিত পুঁথিপাঠ, গান ও কবিতা আবৃত্তি করেন শিমুল পারভীন। স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন শাহীনা আফরোজ, কবিতা পাঠ করেন শাহী সবুর, যিশুপদ আচার্য্য, মোহাম্মদ শাহানুর ইসলাম ও শাহীন আলম খাঁন। 

হাসিনা মমতাজ হাসির স্বরচিত পুঁথি পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।।

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  নজরুল বর্ষ   কাজী নজরুল ইসলাম   নজরুল চেতনা   নজরুল সেন্টার  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

সাহিত্য- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close