রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬,
১ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ বিমানের উড়োজাহাজে কারিগরি ত্রুটি, আটকা ১২৭ যাত্রী      বংশালে হেলমেটের গোডাউনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সাত ইউনিট      ডেঙ্গুতে আরও তিনজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৮০৫      ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে নোটিশ      ফের মেসির পেনাল্টি মিস, হারল মায়ামি      সব দিক দিয়েই অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে বাংলাদেশ ভালো খেলেছে : কামিন্স      জ্বালানি সংকট পুরোপুরি কাটাতে কমপক্ষে দুই বছর লাগবে : অর্থমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
শ্রীমঙ্গলে ‘মুকুল’ পর্বের মূল্যায়নী পরীক্ষা আগামীকাল, অংশ নিচ্ছে ২৫ হাজার শিক্ষার্থী
মো. এহসানুল হক, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: রোববার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২৯ পিএম
ছবি: প্রতিবেদক

ছবি: প্রতিবেদক

শিক্ষার্থীদের মোবাইল ও বিভিন্ন ডিভাইসের স্ক্রিননির্ভরতা কমিয়ে বই পড়ার আনন্দময় জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শুরু হয়েছে ‘বই পড়া উৎসব ২০২৬’। উৎসবের প্রথম পর্ব ‘মুকুল’-এর মূল্যায়নী পরীক্ষা আগামীকাল সোমবার (১৭ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলার ৩৮টি মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেবে।

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। বই পড়া উৎসব সুষ্ঠুভাবে আয়োজন ও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন এ সভার আয়োজন করে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসবের নির্বাহী পরিচালক ও উৎসব সমন্বয়ক দেবাশীষ দাশ। এতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিনহাজুল ইসলাম, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের প্রভাষক ও উত্তরণ পাঠাগারের কর্ণধার সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।

আয়োজকেরা জানান, ‘বই পড়া উৎসব ২০২৬’ তিনটি ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে—‘মুকুল’, ‘ফুল’ ও ‘ফল’। উৎসবের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা ও মূল্যায়ন অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা পরিচালনা করবেন। পাশাপাশি প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে সমন্বয়ের জন্য একজন করে ফোকাল পারসন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রথম ধাপ ‘মুকুল’ পর্বে ৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শ্রেণি থেকে সেরা ১০ জন শিক্ষার্থীকে দ্বিতীয় ধাপের জন্য নির্বাচিত করা হবে। দ্বিতীয় ধাপ ‘ফুল’ পর্বে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত নতুন একটি বই পড়বে। এ পর্বের পরীক্ষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ে আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে প্রতিটি শ্রেণির সেরা তিনজন শিক্ষার্থী চূড়ান্ত পর্বে উঠবে।

চূড়ান্ত ধাপ ‘ফল’ পর্বের পরীক্ষা আগামী ১২ সেপ্টেম্বর উপজেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। এ পর্বে শিক্ষার্থীদের নতুন আরেকটি বই পড়তে হবে। চূড়ান্ত ফলাফলের ভিত্তিতে উপজেলার প্রতিটি শ্রেণির সেরা ১০ জন শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ, বই, সনদপত্রসহ বিভিন্ন পুরস্কার দেওয়া হবে। পুরো উৎসবে বিজয়ী একজন শিক্ষার্থীকে অন্তত তিনটি পৃথক বই পড়তে হবে।

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সর্বসাধারণকে পাঠাভ্যাসের এ আন্দোলনে যুক্ত করতে রাখা হয়েছে ‘উন্মুক্ত বিভাগ’। শ্রীমঙ্গলে জন্মগ্রহণকারী বা কর্মসূত্রে বসবাসরত যেকোনো বয়সের ব্যক্তি উপজেলা প্রশাসন, শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসব ও উত্তরণ পাঠাগারের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে এ বিভাগে নিবন্ধন করতে পারবেন। ইতোমধ্যে শতাধিক ব্যক্তি নিবন্ধন করেছেন।

উৎসবের সমন্বয় সহযোগী হিসেবে রয়েছে ‘শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসব’ এবং পাঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করছে ‘উত্তরণ পাঠাগার’।

এদিকে বই পড়া উৎসবকে কেন্দ্র করে শ্রীমঙ্গলে তৈরি হয়েছে প্রাণবন্ত পাঠ-আন্দোলনের আবহ। স্থানীয় লাইব্রেরিগুলোতে বই কেনা ও পড়ার জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতি বেড়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, টিফিনের বিরতিতেও শিক্ষার্থীরা বই পড়ছে। কারও হাতে সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘দেশে বিদেশে’, কারও হাতে জর্জ অরওয়েলের ‘অ্যানিমেল ফার্ম’, আবার কেউ পড়ছে জুল ভার্নের ‘অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেজ’।

উৎসবে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ডিগ্রি (পাস) ও অনার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা ও বিশ্বসাহিত্যের ১৪টি বই নির্বাচন করা হয়েছে। বইগুলোর মধ্যে রয়েছে আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিনের ‘আবিষ্কারের নেশায়’, এ. পি. জে. আবদুল কালামের ‘উইংস অব ফায়ার’, শাহেদ আলীর ‘জিবরাইলের ডানা’, জুল ভার্নের ‘অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেজ’, হুমায়ুন আজাদের ‘লাল নীল দীপাবলি বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী’, জর্জ অরওয়েলের ‘অ্যানিমেল ফার্ম’, মুহম্মদ আব্দুল হাইয়ের ‘বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন’, কাজী নজরুল ইসলামের ‘মরু-ভাস্কর’ ও ‘মৃত্যুক্ষুধা’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রাশিয়ার চিঠি’, সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘দেশে বিদেশে’, জহির রায়হানের ‘আরেক ফাল্গুন’, আনোয়ার পাশার ‘রাইফেল, রোটি, আওরাত’ এবং বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আরণ্যক’। উন্মুক্ত বিভাগের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে কাজী নজরুল ইসলামের ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “বই পড়া উৎসবের প্রথম পর্বের মূল্যায়নী পরীক্ষা আগামীকাল উপজেলার ৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেবে বলে আশা করছি। প্রতিটি শ্রেণির সেরা ১০ জন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হবে। দ্বিতীয় পর্ব শেষে প্রতিটি শ্রেণি থেকে তিনজন করে চূড়ান্ত পর্বে যাবে।”

তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে সম্মিলিত পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্ত মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি, স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও উন্মুক্ত বিভাগ—মোট আটটি ক্যাটাগরিতে র‌্যাংকিং করে শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হবে। প্রতিটি ক্যাটাগরির সেরা ১০ জনকে পুরস্কার দেওয়া হবে। পাশাপাশি সেরা পাঠকের জন্য থাকবে বিশেষ আকর্ষণীয় পুরস্কার।

ইউএনও বলেন, “পুরস্কার দেওয়ার চেয়েও বড় উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের বইয়ের সঙ্গে পরিচিত করা, তাদের মেধা ও মননের বিকাশ ঘটানো এবং আগামী দিনের বাংলাদেশ বিনির্মাণে যোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তোলা।”

‘বই পড়ি, মন গড়ি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এ আয়োজন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান ও বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত করিয়ে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য। জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করছেন। শুরু থেকেই শিক্ষার্থীরা উৎসবটি আগ্রহের সঙ্গে গ্রহণ করেছে। তারা বই কিনছে, পড়ছে, পাঠচক্র গড়ে তুলছে এবং বই বিনিময় করছে।

তিনি আরও বলেন, “জ্ঞান হোক শক্তি, পাঠ হোক সংস্কৃতি—এই বিশ্বাস থেকেই আমরা শ্রীমঙ্গলে বই পড়াকে একটি সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত করতে চাই।”

বর্তমান সময়ে তরুণদের একটি বড় অংশ স্ক্রিননির্ভর হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে ইউএনও বলেন, “আমরা চাই তারা আবার বইয়ের জগতে ফিরে আসুক। একটি-দুটি বই হয়তো কাউকে বদলে দেবে না, কিন্তু নিয়মিত পড়ার অভ্যাস একজন মানুষকে সমৃদ্ধ করে।”

আয়োজকদের আশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বইয়ের একটি গভীর সেতুবন্ধ তৈরি হবে, স্ক্রিননির্ভরতা কমবে এবং গড়ে উঠবে জ্ঞাননির্ভর, মননশীল ও আলোকিত প্রজন্ম।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close