ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন নজরদারিতে বিশেষ প্রযুক্তিনির্ভর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে মোট ১ হাজার ৪২৭টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লার ১০৫ কিলোমিটার অংশে থাকবে ১৯৯টি ক্যামেরা।
মঙ্গলবার থেকে কুমিল্লার ১০৫ কিলোমিটার অংশে এসব ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। ক্যামেরাগুলোর সাহায্যে মহাসড়কে যানবাহনের গতি ও চলাচল সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালানোসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত হলে প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা করা হবে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে ১৯৯টি এআই প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে যানবাহনের চলাচল ও গতিবিধি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে।
সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ৫০০ কিলোমিটার মহাসড়কে মোট ১ হাজার ৪২৭টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার পরপর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে।
ক্যামেরার মাধ্যমে অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া গাড়ি চালানোসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করা সম্ভব হবে। ফলে আইন অমান্যকারী যানবাহন ও চালকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে হাইওয়ে পুলিশ।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ২০ বছর ধরে যাত্রী পরিবহন করছেন চালক আসলাম হোসেন। এআই ক্যামেরা চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, “ক্যামেরায় সবকিছুর ছবি ও তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। ফলে আইন ভাঙার পর অস্বীকার বা মিথ্যা বলার সুযোগ থাকবে না। জরিমানাও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে পরিশোধ করতে হবে। তাই এখন থেকে চালক ও গাড়ির মালিক দুজনকেই আরও সচেতন থাকতে হবে।”
সোসাইটি ফর দ্য প্রিভেনশন অব এক্সিডেন্টসের প্রতিষ্ঠাতা কাজী আবদুর রাজ্জাক (রাশেদ) বলেন, “দীর্ঘদিন পর হলেও সরকার একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে। চালক ও সংশ্লিষ্টদের অসচেতনতার কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা চালু হলে চালকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে এবং দুর্ঘটনাও অনেকাংশে কমে আসবে।”
কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সুপার মো. শাহিনুর আলম খান বলেন, “ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মোট ১ হাজার ৪২৭টি ক্যামেরা কাজ করবে। এর মধ্যে কুমিল্লা অংশে থাকবে ১৯৯টি ক্যামেরা। এআই ক্যামেরার নজরদারি চালু হলে ট্রাফিক আইন মানার ক্ষেত্রে চালকদের মধ্যে শৃঙ্খলা বাড়বে। পাশাপাশি দুর্ঘটনা কমাতেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা আশা করছেন, এআই প্রযুক্তির ক্যামেরার মাধ্যমে মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের প্রবণতা কমবে। একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণেও এই প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
কেকে/সাশ