মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬,
৩ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি কেউ      সেনাবাহিনীর সাব্কে প্রধান আজিজকে ধরতে ইন্টারপোলের ‘রেড নোটিস’ চেয়ে চিঠি       অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী      ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশ পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা      র‌্যাব বিলুপ্ত করে ‘এসআরবি’ গঠনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন      বদলাচ্ছে অর্থবছরের সময়কাল      এবার ওমানকে বোমা মেরে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের      
দেশজুড়ে
লোডশেডিংয়ে বাড়ছে হিমাগারের খরচ, রাজশাহীতে আলু পচনের শঙ্কা
মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪২ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

রাজশাহীতে গ্যাস সংকটের কারণে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপাকে পড়েছেন হিমাগার মালিকেরা। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর সংরক্ষিত আলু পচন থেকে রক্ষা করতে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। এতে প্রতি ঘণ্টায় অতিরিক্ত ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা জ্বালানি খরচ হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ১-২ ঘণ্টা পর্যন্ত জেনারেটর চালাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হিমাগার মালিকেরা।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৩৯টি হিমাগার রয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি বর্তমানে সচল। এ সব হিমাগারে মোট ৪ লাখ ৩৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে।

তবে চলতি মৌসুমে আলুর উৎপাদন বেশি হওয়ায় অনেক হিমাগারে ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মৌসুমের শুরুতে রাজনৈতিক চাপের কারণে কিছু হিমাগারকে অতিরিক্ত আলু নিতে বাধ্য করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাট—দুই কারণে আলু পচনের ঝুঁকি বেড়েছে। এরই মধ্যে তানোর উপজেলার তালন্দ এলাকার তামান্না স্পেশাল কোল্ড স্টোরেজ থেকে প্রতিদিন গাড়িভর্তি করে পচা আলু বের করে ফেলার চিত্র দেখা গেছে।

হিমাগারে আলু সংরক্ষণকারী ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত আলু নেওয়া হয়েছিল। এখন লোডশেডিংয়ের কারণে আলু ঘেমে পচে যাচ্ছে। পচে যাওয়া আলু ফেলে দিতে হচ্ছে।’

তবে রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল সমবায় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী আলু পচনের জন্য বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে দায়ী করছেন না। তার দাবি, হিমাগার মালিকদের অব্যবস্থাপনার কারণেই আলু নষ্ট হচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি বলেন, ‘অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণের কারণেই পচনের ঝুঁকি বেড়েছে। একটি হিমাগারে বছরে ২৫ থেকে ৩০ বার আলুর অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়। এ সময় আলু বের করে বাতাস দেওয়ার প্রয়োজন হয়। কিন্তু অতিরিক্ত আলু থাকায় অনেক হিমাগার এবার এ প্রক্রিয়া ঠিকভাবে করতে পারছে না।

তিনি জানান, রাজশাহীর আলাইবিদিরপুরে রহমান ব্রাদার্স-১ হিমাগারের ধারণক্ষমতা ১৪-১৫ হাজার মেট্রিক টন। সেখানে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। একইভাবে প্রায় সব হিমাগারেই ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত আলু রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে রাজশাহী কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতে চাপের কারণে কিছু হিমাগার অতিরিক্ত আলু নিতে বাধ্য হয়েছিল। তবে হিমাগার ব্যবস্থাপনায় বড় কোনো সমস্যা হচ্ছে না এবং এতে আলুরও সমস্যা হচ্ছে না।’

লোডশেডিংয়ের কারণে বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টি অবশ্য স্বীকার করেছেন তিনি। ফজলুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যুৎ চলে গেলেও ১-২ ঘণ্টা পর্যন্ত হিমাগারের ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে। এর বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকলে জ্বালানি তেল ব্যবহার করে জেনারেটর চালাতে হয়। এতে প্রতি ঘণ্টায় অতিরিক্ত ৮-১০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। প্রতিদিন ১-২ ঘণ্টা পর্যন্ত জেনারেটর চালাতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এমনিতেই হিমাগারগুলোর বিদ্যুৎ বিল অনেক বেশি। প্রতিটি হিমাগারকে মাসে প্রায় ২৫-২৮ লাখ টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়। এর সঙ্গে জেনারেটরের জ্বালানি খরচ যোগ হওয়ায় মালিকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।’

রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক রমেন্দ্র চন্দ্র রায় বলেন, ‘গত বুধবার থেকে লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি ভালো।’

হিমাগারে বিদ্যুৎ সংকটজনিত সমস্যা হচ্ছে এমন অভিযোগ জানিয়ে কেউ তাকে ফোন করেননি বলেও জানান তিনি।

হিমাগার মালিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন জেনারেটরের মাধ্যমে সামাল দেওয়া গেলেও অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি থাকলে পচন ঠেকানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এতে শেষ পর্যন্ত কৃষক, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিক-তিন পক্ষই ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কেকে/এআই



আরও সংবাদ   বিষয়:  রাজশাহী   হিমাগার   আলু  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close