রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬,
৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: নৌ ও বিমানবাহিনী নির্বাচনি পর্ষদ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী      তরুণদের প্রশিক্ষণ দিতে ৬৮৩ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প সরকারের      প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরানের হুঁশিয়ারি      সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর      হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু      রাষ্ট্রপতির শপথ-দায়িত্বভার গ্রহণের প্রজ্ঞাপন জারি      নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা      
রাজনীতি
দেশের শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে যাত্রা শুরু করল ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও সহজ, দ্রুত ও সমন্বিত করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষকে (পিপিপিএ) একীভূত করে গঠিত নতুন বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে।

আজ রোববার (২৩ আগস্ট) ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর আওতায় গেজেট প্রকাশের পর প্রথম কর্মদিবসেই নতুন সংস্থাটি কার্যক্রম শুরু করে। একই সঙ্গে নতুন কর্তৃপক্ষের ব্র্যান্ড পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন ইনভেস্ট বাংলাদেশকে দেশের শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। নতুন ব্র্যান্ড পরিচয়ের মাধ্যমে তিনটি পৃথক প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতাকে একীভূত করে একটি জাতীয় বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

নতুন কর্তৃপক্ষের আওতায় বিনিয়োগ সহায়তা, নীতি সমন্বয়, অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের সক্ষমতাকে এক প্রতিষ্ঠানের অধীনে আনা হয়েছে। এর ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিনিয়োগের সুযোগ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সেবা একটি জায়গা থেকে পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

বিনিয়োগসেবা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন, সরকারি সুবিধা ও নীতিগত বিষয়ে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করতে গিয়ে বিনিয়োগকারীদের যে জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়, তা কমানোই নতুন কাঠামোর অন্যতম লক্ষ্য। দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়িক অংশীদাররা একটি একক যোগাযোগকেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছিলেন।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, “এটি শুধু তিনটি প্রতিষ্ঠানের একীভূতকরণ নয়। বিনিয়োগকারীকে কেন্দ্রে রেখে সরকারের কাজ আরও কার্যকরভাবে সাজানোই এর লক্ষ্য। আমাদের সক্ষমতাগুলো এক করে আমরা বিনিয়োগের পুরো পথে দায়িত্ব ও জবাবদিহি আরও স্পষ্ট করতে এবং আরও সমন্বিত সহায়তা দিতে চাই। পূর্বসূরি প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্জন ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে আমরা আরও বড় ও শক্তিশালী দল হিসেবে নতুন অধ্যায় শুরু করব।”

আইনে তৈরি হয়েছে নতুন সুযোগ

ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর মাধ্যমে আরও সমন্বিত জাতীয় বিনিয়োগ ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি হয়েছে। এই আইনের আওতায় অর্থনৈতিক অঞ্চল, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল এবং ঘোষিত অন্যান্য শিল্পাঞ্চলকে একটি সমন্বিত কাঠামোর অধীনে আনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের লাইসেন্স, অনুমোদন ও সরকারি সেবা দেওয়ার পদ্ধতি এবং সময়সীমা নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের প্রকল্পের অনুমোদন কাঠামো আরও স্পষ্ট করা এবং ছোট আকারের পিপিপি প্রকল্পের অনুমোদন সহজ করার সুযোগও আইনে রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া অব্যবহৃত সরকারি জমি, স্থাপনা, শেয়ার ও স্বত্ব উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগ ও ব্যবসাসংক্রান্ত সব সেবা একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে নতুন আইনে।

বিনিয়োগকারীরা পাবেন সমন্বিত সেবা

ইনভেস্ট বাংলাদেশের আওতায় বিনিয়োগকারীরা অনুমোদন, নিবন্ধন, আমদানি-রপ্তানি সেবা, প্রণোদনা, শিল্পাঞ্চন এবং অন্যান্য সরকারি সেবা আরও সহজে, দ্রুত ও সমন্বিতভাবে পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

নতুন কর্তৃপক্ষ বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত স্থান খুঁজে দেওয়া এবং ব্যবসার প্রবৃদ্ধির পথে বিদ্যমান বিভিন্ন বাধা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার দায়িত্বও পালন করবে।

আইনে লাইসেন্স, অনুমোদন ও সরকারি সেবা দেওয়ার পদ্ধতি এবং সময়সীমা নির্ধারণের সুযোগ থাকায় ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীদের সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

বাংলাবিজ থাকবে ইনভেস্ট বাংলাদেশের অধীনে

ইনভেস্ট বাংলাদেশ বাংলাবিজের কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রাখবে। বাংলাবিজ হচ্ছে বাংলাদেশের বিনিয়োগসেবার একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে ব্যবসার বিভিন্ন লাইসেন্স ও অনুমতিপত্র অনলাইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

নতুন আইনের আওতায় বিনিয়োগ ও ব্যবসাসংক্রান্ত সেবাগুলো একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার সুযোগ থাকায় সিঙ্গেল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স, ওয়ান-স্টপ সেবা এবং অনলাইনে ব্যবসার লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

১৪ দিনের ব্যবসায়িক লাইসেন্সিং কাঠামো

নতুন কর্তৃপক্ষ ১৪ দিনের ব্যবসায়িক লাইসেন্সিং কাঠামো কার্যকর করার জন্য কাজ করছে। দ্রুত ও পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরিতে সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ব্যবসা শুরু করতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন অনুমোদন ও লাইসেন্স পেতে যে দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে, তা কমিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেবা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সময় ও ব্যয় কমানোর পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের সময়সীমা শেষের দিকে। মার্চে ঘোষণা করা অঙ্গীকারগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।

অর্থনৈতিক অঞ্চলে অগ্রাধিকার

অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যক্রমে অগ্রাধিকার পাবে। কারণ এসব অঞ্চলে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও পরিবহন নেটওয়ার্কে সংযোগ তুলনামূলক দ্রুত ও কার্যকরভাবে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তবে শুধু অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যেই ইনভেস্ট বাংলাদেশের সহায়তা সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রকল্পের ধরন ও বিনিয়োগকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরের প্রকল্পেও সহায়তা করবে নতুন কর্তৃপক্ষ।

এ ক্ষেত্রে অব্যবহৃত সরকারি জমি, স্থাপনা ও অন্যান্য সম্পদ উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের সুযোগও কাজে লাগানো হবে। ফলে বিনিয়োগের জন্য নতুন জায়গা চিহ্নিত করা এবং সরকারি সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরির ধারাবাহিকতা বহাল

বিডা, বেজা ও পিপিপিএর নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সমমানের পদে ইনভেস্ট বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্ত হবেন। তাঁদের চাকরির ধারাবাহিকতা এবং বর্তমান সুযোগ-সুবিধা বহাল থাকবে।

অন্যদিকে পরামর্শক, আউটসোর্সিং কর্মী এবং দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীরা তাঁদের বর্তমান চুক্তি বা আদেশের শর্ত অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন।

বিডা, বেজা ও পিপিপিএ একীভূত হওয়ার ফলে বিনিয়োগ সহায়তা, অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের কার্যক্রম এখন একই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় এসেছে। সরকারের আশা, এতে বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য আলাদাভাবে যোগাযোগের প্রয়োজন কমবে।

নতুন কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সমন্বিত সেবা কাঠামো তৈরি করা, অনুমোদন প্রক্রিয়ার জটিলতা ও সময় কমানো এবং বিনিয়োগের পুরো পথে সরকারি সহায়তাকে আরও কার্যকর করা।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  ইনভেস্ট বাংলাদেশ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

রাজনীতি- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close