বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬,
১১ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: বিদিশা এরশাদ গ্রেপ্তার      ঢাকা ওয়াসার নতুন এমডি মনিরুজ্জামান      হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু      বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ পাঁচ জেলের লাশ উদ্ধার      গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট কাটাতে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার      ‘ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে দ্রুত নীতিমালা করবে সরকার’      আট মাসে ৯৫ কারখানা বন্ধ, বেকার ৬২ হাজার শ্রমিক      
খোলাকাগজ স্পেশাল
গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন
তবুও চাপ কম দেখিয়ে কারখানা বন্ধ ঘোষণা
আলতাফ হোসেন
প্রকাশ: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৭ এএম আপডেট: ২৬.০৮.২০২৬ ১২:০৪ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় প্রায় ১০ মাস ধরে কারখানার সব গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন। তবুও ‘গ্যাসের প্রেসার কম’ এবং কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে ছয় মাসের জন্য সেই কারখানা লে-অফ ঘোষণা করেছে ফু-ওয়াং ফুডস লিমিটেড।

কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ‘জেড’ ক্যাটাগরির। গত রোববার (২৩ আগস্ট) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে প্রকাশ করা মূল্য সংবেদনশীল তথ্যে কোম্পানিটি জানায়, ২২ আগস্ট অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় ওই দিন থেকে পরবর্তী ছয় মাসের জন্য তাদের গাজীপুরের জয়দেবপুরস্থ ভবানীপুরের কারখানাটি লে-অফ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঘোষণায় কারখানার উৎপাদন বন্ধের কারণ হিসেবে গ্যাসের চাপ কম থাকার কথা বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে অবশ্য কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করা হয়। 

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কারখানাটির চারটি গ্যাস সংযোগের সবকটিই ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া কর্মচারীদের বেতন বকেয়া প্রায় ১৩ মাস। এতদিন পরে ঘটা করে লে অফ ঘোষণার মধ্যে অন্য কোনো চক্রান্ত রয়েছে বলে মনে করছেন প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত (নোটিস বা পদত্যাগের মাধ্যমে যাদের এখনো চাকরির অবসান হয়নি) কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। 

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (গাজীপুর) প্রকৌশলী মো. শাখাওয়াত হোসেনও খোলা কাগজকে নিশ্চিত করেছেন, ফু-ওয়াং ফুডস গ্যাসের প্রেসার কম দেখিয়ে যে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে, সেটি ৭-৮ মাস আগে থেকেই গ্যাস সংযোগ বিভিন্ন আছে। 

১০ মাস আগে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন

জানা গেছে, বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর ফু-ওয়াং ফুডসের কারখানার চারটি গ্যাস সংযোগই বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এর আগে থেকেই বেতন বকেয়া এবং শ্রমিক অসন্তোষের কারণে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফু-ওয়াং এর এক কর্মকর্তা বলেন, “যে কারখানার ১০ মাস ধরে কোনো গ্যাস সংযোগ নেই, সেখানে ‘গ্যাসের প্রেসার কম’ কাল্পনিক অজুহাত তুলে লে-অফ ঘোষণা মানেই এ কারখানাটি নিয়ে এমডি মিয়া মামুন নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন।”

তিনি বলেন, “এটি শুধু বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টাই নয়; বরং কারখানা বন্ধের প্রকৃত তথ্য গোপন করে দেশের বর্তমান সংবেদনশীল গ্যাস পরিস্থিতিকে পুঁজি করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটি দূরভিসন্ধিমূলক চক্রান্ত।”

বেতন বকেয়া, শ্রমিক অসন্তোষে কারখানা বন্ধ

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ থেকে শ্রমিকরা ফেব্রুয়ারি মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর ডিএসই কোম্পানিটির কাছে ব্যাখ্যা চায়। ২৩ মার্চ ২০২৫ তারিখে ডিএসইকে দেওয়া জবাবে ফু-ওয়াং ফুডস কর্তৃপক্ষ জানায়, আগের দিন সন্ধ্যা থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন দেওয়া শুরু হয়েছে এবং রাত হয়ে যাওয়ায় কিছু শ্রমিকের বেতন তখনও বাকি ছিল।

তবে কোম্পানির একাধিক কর্মীর দাবি, ওই সময়ে স্থায়ী শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়নি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাপের মধ্যে ২৮ ও ২৯ মার্চ ২৪১ জন অস্থায়ী শ্রমিককে ফেব্রুয়ারি মাসের বকেয়া বেতন, মার্চের ১৪ দিনের বেতন ও বোনাস দেওয়া হয়। তাদের ঈদের পর কাজে যোগ না দেওয়ার জন্য মৌখিকভাবে বলা হয়। আরও ১৯৫ জন অস্থায়ী শ্রমিককে শুধু ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

ঈদের ছুটির পর এপ্রিল মাসে শ্রমিক-কর্মচারীরা আবার বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে আন্দোলনে নামলে ডিএসই ফের কোম্পানিটির কাছে ব্যাখ্যা চায়। ৯ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে দেওয়া জবাবে কোম্পানি দাবি করে, শ্রমিকরা মার্চ মাসের বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন এবং মার্চ মাসের বেতনও পরিশোধ করা হয়েছে।

তবে কোম্পানির এক কর্মচারীর দাবি, তখন পর্যন্ত ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনই পরিশোধ হয়নি। ফলে মার্চ মাসের বেতন পরিশোধের দাবি বাস্তবতার সঙ্গে মিল ছিল না।

কর্মচারীদের পক্ষ থেকে সে সময় ডিএসই ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছিল বলেও সংশ্লিষ্ট একজন কর্মচারী দাবি করেছেন।

জুলাইয়ে ‘উৎপাদন চালুর’ তথ্য, আগস্টে ছয় মাসের লে-অফ 

কোম্পানিটির শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির বিষয়ে ১৮ জুন ২০২৬ ডিএসই ব্যাখ্যা চাওয়ার পর কোম্পানিটি নির্ধারিত সময়ে জবাব না দিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। পরে ৫ জুলাই ডিএসই, বিএসইসি ও বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে কোম্পানিটি জানায়, শ্রমিক অসন্তোষের পর কিছুদিন উৎপাদন বন্ধ থাকার পর উৎপাদন প্রক্রিয়া পুনরায় পর্যায়ক্রমে চালু হচ্ছে। কিন্তু এর মাত্র দেড় মাস পর, ২৩ আগস্ট কোম্পানিটি জানায়, ২২ আগস্ট থেকে কারখানা ছয় মাসের জন্য লে-অফ থাকবে।

কোম্পানির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর দাবি, ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া শ্রমিক কর্মবিরতি এবং একই বছর ১৪ অক্টোবর গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকেই কারখানাটি কার্যত বন্ধ। সে ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের জুন-জুলাইয়ে উৎপাদন ‘পুনরায় পর্যায়ক্রমে চালু’ হওয়ার দাবি এবং আগস্টে নতুন করে লে-অফ ঘোষণার মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে।
 
শ্রম অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ

ফু-ওয়াং ফুডসের শ্রমিকদের বেতন ও অন্যান্য পাওনা সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের একটি প্রতিবেদনেও তথ্য রয়েছে। নথি অনুযায়ী, তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত শ্রম পরিদর্শক ১৭ জুন ২০২৫ সরেজমিন কারখানা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পর প্রতিবেদনে শ্রমিকদের নিয়মিত মাসিক মজুরি আইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ না করা, ছুটি নগদায়ন না করা, নিয়মিত মজুরি পরিশোধে মালিকের দায়িত্ব পালন না করা এবং চাকরি অবসান ও ছাঁটাইসংক্রান্ত রেজিস্টার ও নোটিস যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করার মতো বিষয় উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগগুলো সংশোধন ও ব্যাখ্যার জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর থেকে কোম্পানিকে একাধিকবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে চিঠি দেওয়া হলেও কোম্পানির পক্ষ থেকে জবাব বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট মামলার অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

বিষয়টি পরবর্তী সময়ে শ্রম আদালতে মামলা হিসেবে গড়ায়। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার দাবি, মামলায় আদালতের সমনে সাড়া না দেওয়ায় কয়েকটি তারিখে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিয়া মামুন অনুপস্থিত থাকেন এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।

প্রায় এক হাজার শ্রমিকের পাওনা নিয়ে অভিযোগ

জানা গেছে, ২০২৫ সালে কারখানার কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার সময় প্রায় এক হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর প্রায় তিন মাসের বেতন বকেয়া ছিল। তাদের অনেকের বেতন এখনো পরিশোধ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। চাকরি অবসানের পর স্থায়ী শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য চূড়ান্ত পাওনা পরিশোধ না করার অভিযোগও রয়েছে। এসব পাওনা আদায়ে অনেক শ্রমিক শ্রম আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাদের মধ্যে কিছু মামলায় পাওনা পরিশোধের রায় হয়েছে এবং আরও কিছু মামলা রায়ের পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বনানীর প্রধান কার্যালয়ও বন্ধ

সরেজমিন কোম্পানির বনানীস্থ নিজস্ব মালিকানাধীন প্রধান কার্যালয়টি নিয়মিত কর্মদিবসেও বন্ধ দেখতে পাওয়া যায়। আশপাশের দোকান ও অফিসের লোকেরা জানায়, অফিসের মেইন গেট সবসময় বন্ধ করেই রাখা হয়, তারা মাঝে মাঝে কিছু পাওনাদারদের অফিসের বাইরে ভিড় করতে দেখেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান, বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিয়া মামুন ওরফে মো. মামুন মিয়া বিগত একবছরের অধিক সময় প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত থাকেন নাই, শুধু ৪-৫ জন কর্মকর্তা মাঝেমধ্যে গোপনে কিছু সময়ের জন্য অফিসে আসেন। কিন্তু পাওনাদারদের ভয়ে মূল কলাপসিবল গেট বন্ধ রাখা হয়।
 
ব্যাংক ঋণও খেলাপি

কোম্পানিটির আর্থিক সংকটের আরেকটি দিক হলো ব্যাংক ঋণ। সংশ্লিষ্ট তথ্যানুযায়ী, ২০২৪-২৫ সাল থেকে ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করায় ঢাকা ব্যাংক পিএলসি, বনানী শাখা কোম্পানিটির প্রধান কার্যালয়, কারখানা ভবন ও জমির বিষয়ে ৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

গাজীপুরের হোতাপাড়ায় ফু-ওয়াং ফুডসের কারখানার আশপাশের দোকানদার ও কর্মহীন শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে কোম্পানিটির সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, পণ্য পরিবহনের যানবাহন, দামি বৈদ্যুতিক ক্যাবল, উৎপাদন মেশিন, যন্ত্রাংশ এবং প্যাকেজিং সামগ্রীসহ বিভিন্ন মূল্যবান সম্পদ রাতের আঁধারে কারখানা থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এ অবস্থায় কোম্পানিটি যদি অবসায়নের দিকে যেতে বাধ্য হয়, তবে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের মূলধন ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ এবং আইনানুগ পাওনাদারদের দায় পরিশোধের সক্ষমতাও থাকবে না। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিয়া মামুনের নির্দেশে এবং সেলস অ্যান্ড মার্কেটিংয়ের জিএম মেহেদী হাসানের তত্ত্বাবধানে এসব সম্পদ বিক্রি করা হচ্ছে বলেও কয়েকজন অভিযোগ করেছেন।

তবে এ বিষয়ে মেহেদী হাসান বলেন, “ওখানে সিকিউরিটি গার্ড আছে, আমি ম্যার্কেটিংয়ের লোক। তবে ভেহিক্যাল নিয়ে একটু বিষয় ছিল, এটা অ্যাডমিনের কাজ। এমডির নির্দেশে এডমিন ফিটনেসের জন্য ৪টি ভেহিক্যাল বের করেছে।”

মিয়া মামুনের বিরুদ্ধে বিএসইসির অনুসন্ধান

ফু-ওয়াং ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিয়া মামুন ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি ১৭ মে ২০২৫ একটি তিন সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে।

সূত্রের দাবি, অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত শেষ করে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্যকে অভিযুক্ত করে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। তবে দীর্ঘসময় পেরিয়ে গেলেও প্রতিবেদনটি প্রকাশ বা এর ভিত্তিতে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
 
শেয়ার কারসাজির অভিযোগ

ফু-ওয়াং ফুডসের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিয়া মামুনের বিরুদ্ধে এর আগে পুঁজিবাজারে শেয়ার কারসাজির সঙ্গেও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়্যাত-উল-ইসলামের সময়ে তার প্রভাব ও সহযোগিতা কাজে লাগিয়ে ফু-ওয়াং ফুডসের মাত্র ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ পরিচালক শেয়ার নিয়ে কোম্পানিটির নিয়ন্ত্রণ নেন মিয়া মামুন।

ফু-ওয়াং ফুডের দায়িত্ব নেয়ার পরপরই কোম্পানির অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার শুরু করেন এবং সেসময়ে, শিবলী রুবাইয়্যাতের মদদে পূঁজিবাজারের দুষ্ট চক্রের সাথে যোগসাজসে তার নিয়ন্ত্রণে থাকা দুটি কোম্পানি ফু-ওয়াং ফুডস ও এমারল্ড অয়েল নিয়ে শেয়ার কারসাজিতে লিপ্ত হন এবং কৃত্রিমভাবে দাম বাড়িয়ে ৮ টাকার এমারল্ড অয়েলের শেয়ার ১৮৮ টাকায় তুলে এবং ১৬.৫০ টাকার ফু-ওয়াং ফুডের শেয়ার ৪৮ টাকায় তুলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সর্বশান্ত করেন। 
    
৯২ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের

ফু-ওয়াং ফুডসের বর্তমান মালিকানা কাঠামো নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের শেয়ার ধারণের হার মাত্র ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ। বিপরীতে প্রায় ৯২ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা গেছে।

ফলে কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ, শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া পাওনা, ব্যাংক ঋণ, সম্পদ বিক্রির অভিযোগ, লে-অফ ঘোষণা এবং ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর।

এ বিষয়ে জানতে ফুওয়াং ফুডস লিমিটেডের কোম্পানি সেক্রেটারি মোহাম্মদ জামানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল ও মেসেজ পাঠানো হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


কেকে/সাশ 



আরও সংবাদ   বিষয়:  কারখানা বন্ধ ঘোষণা      ফু-ওয়াং ফুডস লিমিটেড  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close