মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬,
২১ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● নাইজেরিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত, ৩২ আরোহীর সবাই নিহত       ● শিশুদের নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার : প্রধানমন্ত্রী      ● দুর্গাপূজায় ৫ দিনের ছুটি, ২২ অক্টোবরও বন্ধ থাকবে অফিস      ● ডেঙ্গুতে আরও ৯ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ২৭১      ● হাম উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু, মোট সংখ্যা বেড়ে ১০২৬      ● বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ১০২ শিক্ষককে সম্মাননা দিলেন প্রধানমন্ত্রী      ● সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
তিস্তা শুকিয়ে ঝুঁকিতে জেলেদের জীবিকা
নির্মল রায়, গঙ্গাচড়া (রংপুর)
প্রকাশ: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৭ পিএম আপডেট: ২৬.০৮.২০২৬ ১২:২৮ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

বর্ষা এলেই প্রাণ ফিরে পায় তিস্তা নদী। বাড়ে পানি, নদীতে দেখা মেলে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। আর সেই মাছ ধরতে নৌকা ও জাল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিস্তাপাড়ের জেলেরা। মাছ বিক্রির আয়েই চলে তাদের সংসার। তবে বর্ষার এই স্বস্তি বেশি দিন স্থায়ী হয় না।

শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানি কমে গেলে মাছও কমে যায়, বন্ধ হয়ে আসে জেলেদের আয়-রোজগার। তখন সংসার চালাতে তাদের নির্ভর করতে হয় দিনমজুরি কিংবা অন্যের জমিতে শ্রম বিক্রির ওপর।

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের জেলে মিলন দাস (৪৫), দোমাসু দাস (৬০)সহ তিস্তাপাড়ের অসংখ্য জেলে বছরের পর বছর নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।

সম্প্রতি গঙ্গাচড়া ইউনিয়নের গান্নার পার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তিস্তার পানিতে নৌকা নিয়ে জাল ফেলেছেন জেলেরা। কেউ জাল টেনে তুলছেন, আবার কেউ নৌকায় ধরা মাছ সংগ্রহ করছেন। বর্ষায় নদীতে পানি ও মাছের পরিমাণ বাড়ায় এ সময় তাদের কর্মব্যস্ততাও বেড়ে যায়। মাছ ধরার পর স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে পাওয়া অর্থ দিয়েই চলে সংসারের নিত্যদিনের খরচ।

জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিস্তায় ধরা বৈরালি মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং পুঁটি মাছ প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। তবে মাছের পরিমাণ, ধরন ও বাজারদরের ওপর নির্ভর করে প্রতিদিনের আয় কম-বেশি হয়।

জেলে মিলন দাস বলেন, “বর্ষায় নদীতে পানি থাকলে মাছ পাওয়া যায়। তখন দিনভর মাছ ধরে কিছু টাকা আয় করা সম্ভব হয়। এই আয় দিয়েই সংসারের খরচ চালাই।”

আরেক জেলে দোমাসু দাস বলেন, “শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানি থাকে না। নদীর অনেক জায়গায় চর জেগে ওঠে। পানি না থাকায় মাছও পাওয়া যায় না। তখন জাল নিয়ে নদীতে গেলেও তেমন মাছ মেলে না। ফলে আয়-রোজগার প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।”

জেলেরা জানান, শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি কমে গেলে মাছের বিচরণও কমে যায়। অনেক সময় জাল ফেলেও কাঙ্ক্ষিত মাছ পাওয়া যায় না। এতে মাছ বিক্রির আয় কমে গিয়ে সংসারে নেমে আসে অভাব। তখন অনেক জেলেকে জীবিকার তাগিদে অন্যের জমিতে কৃষিশ্রমিক কিংবা দিনমজুরের কাজ করতে হয়।

তিস্তাপাড়ের জেলেদের কাছে নদী শুধু মাছ ধরার স্থান নয়, এটি তাদের জীবন-জীবিকার প্রধান অবলম্বন। বর্ষায় তিস্তায় পানি বাড়লে যেমন তাদের মুখে হাসি ফোটে, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে পানিশূন্য নদী তাদের জীবনে ডেকে আনে অনিশ্চয়তা ও কষ্ট।

জেলেদের দাবি, তিস্তায় সারা বছর পর্যাপ্ত পানি থাকলে মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং তাদের জীবিকাও স্থিতিশীল হবে। নদীকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও জেলেদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে বর্ষা-নির্ভর এই পেশাজীবী মানুষগুলোর জীবনেও ফিরতে পারে স্থায়ী স্বস্তি।


কেকে/সাশ 



আরও সংবাদ   বিষয়:  তিস্তা   ঝুঁকি   জেলেদের জীবিকা   
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close