ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়ায়েতপুর গ্রামের আলোচিত কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখার সিপাহি রায়হান তালুকদার হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল রেল স্টেশনে অভিযান চালিয়ে কেয়ারটেকার রাজু ও সহযোগী জিতুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রাজু রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের ফজলু মির্জার ছেলে, জিতুল একই গ্রামের সুরুজ মির্জার ছেলে। রাজু-জিতুল দুই বন্ধু, সম্পর্কে চাচা ভাতিজা। গ্রেপ্তার এড়াতে তারা ২৪ দিন পলাতক ছিল।
গ্রেপ্তারের পর বুধবার (২৬ আগস্ট) তাদেরকে হত্যার ঘটনাস্থল নিয়ে যায় পুলিশ। সেখান থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত কাঠের টুকরো চাপাটি লোহার রড চাকুসহ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়।
সহকারী পুলিশ সুপার (ত্রিশাল সার্কেল) এসএম হাসান ইস্রাফীল জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনের কয়েকটি টিম প্রায় মাস খানেক ধরে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। আসামিরা বিভিন্ন সময় ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট ও সর্বশেষ মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে অবস্থান করছিলেন।
ফুলবাড়িয়া থানার পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই শুভ্রত-এর নেতৃত্বে চৌকস দল চারদিন একটানা অভিযান পরিচালনা করে আসামীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
পরে বুধবার সকালে আলামত সংগ্রহের জন্য খুনের ঘটনা স্থলে আসামীদের নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে খুনের আলামত হিসেবে স্টেইনলেস স্টিলের চাপাতি, ধারালো চাকু, রক্তমাখা বালিশ-কভার-তুলা, লোহার রড, কাঠের গুড়ি উদ্ধার করা হয়। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার বিস্তারিত জানিয়ে বিফ্রিং দেবেন।
উল্লেখ্য, রায়হান তালুকদার নিখোঁজের ১০দিন পর বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত পুকুর থেকে ৩ পুটলায় ১৫ টুকরো লাশ উদ্ধার করা হয়। এর ২৪ দিন পর (এক মাসের মধ্যে) প্রধান দুই আসামি গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে ফুলবাড়িয়া থানা পুলিশ। এর আগে গত ৪ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে ফুলবাড়ীয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়।
কেকে/এআই