শেষ হয়েছে ২০২৬-২৭ মৌসুমের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বাছাইপর্ব। ফলে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ এই প্রতিযোগিতার মূলপর্বে লড়তে যাওয়া ৩৬ দলও চূড়ান্ত। এর আগে আজ বৃহস্পতিবার রাতে ইউসিএলের লিগ পর্বের সূচি নির্ধারণে ড্র অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় মোনাকোর গ্রিমালদি ফোরামে বসবে এই ড্র। উয়েফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ড্র সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সরাসরি উত্তীর্ণ ২৯ দল
৩৬টি দল নিয়ে হবে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ এই টুর্নামেন্টের লিগ পর্ব। এর মধ্যে ২৯টি দল সরাসরি লিগ পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছিল। বাকি সাতটি দল প্লে-অফ খেলে যোগ্যতা অর্জন করেছে।
ইংল্যান্ড: অ্যাস্টন ভিলা, আর্সেনাল, ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, লিভারপুল
ইতালি: ইন্টার মিলান, নাপোলি, এএস রোমা, কোমো
স্পেন: বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ, ভিয়ারিয়াল, অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ, রিয়াল বেটিস
জার্মানি: বায়ার্ন মিউনিখ, বরুসিয়া ডর্টমুন্ড, আরবি লাইপজিগ, ভিএফবি স্টুটগার্ট
ফ্রান্স: প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি), লঁস, লিল
নেদারল্যান্ডস: পিএসভি আইন্দহোভেন, ফেইনুর্দ
পর্তুগাল: পোর্তো, স্পোর্টিং সিপি
বেলজিয়াম: ক্লাব ব্রুগা
চেক প্রজাতন্ত্র: স্লাভিয়া প্রাগ
তুরস্ক: গালাতাসারাই
ইউক্রেন: শাখতার দোনেৎস্ক
প্লে-অফ থেকে উঠেছে যারা
সাবাহ (আজারবাইজান), বোডো/গ্লিমট (নরওয়ে), লাস্ক (অস্ট্রিয়া), এইকে এথেন্স (গ্রিস), ভাইকিং (নরওয়ে), স্লোভান ব্রাতিস্লাভা (স্লোভাকিয়া) ও ফেনেরবাচে (তুরস্ক)।
যেভাবে ড্র হবে
ড্রয়ের জন্য দলগুলোকে গত পাঁচ মৌসুমে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে উয়েফা ক্লাব কো-এফিসিয়েন্ট অনুযায়ী চারটি পটে ভাগ করা হয়েছে। গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পিএসজি সরাসরি পট-১-এ জায়গা পেয়েছে।
প্রথমে পট-১-এর দলগুলোর ড্র করা হবে। প্রতিটি দল চারটি পটের প্রতিটি থেকে দুটি করে প্রতিপক্ষ পাবে। অর্থাৎ লিগ পর্বে প্রতিটি দল মোট আটটি ম্যাচ খেলবে—চারটি নিজেদের মাঠে এবং চারটি প্রতিপক্ষের মাঠে।
এভাবে ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী পটগুলোর দল ড্র করা হবে এবং সব দলের সূচি পূরণ করা হবে। এভাবেই লিগ পর্বের সব ম্যাচ নির্ধারিত হবে।
লিগ পর্বের নিয়ম
৩৬টি দলকে একটি যৌথ লিগ টেবিলে রাখা হবে। ড্রয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত আটটি ম্যাচে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে টেবিলের অবস্থান নির্ধারিত হবে।
লিগ পর্ব শেষে শীর্ষ আট দল সরাসরি শেষ ষোলোতে উঠবে। ২৫ থেকে ৩৬ নম্বরে থাকা দলগুলো লিগ পর্ব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদায় নেবে।
অন্যদিকে, ৯ থেকে ২৪ নম্বরে থাকা ১৬টি দল নকআউট পর্বের প্লে-অফ খেলবে। সেখান থেকে আটটি দল শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেবে।
সহজ প্রতিপক্ষ পেলে শীর্ষ দলগুলোর জন্য নকআউট পর্বে ওঠার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, তুলনামূলক দুর্বল দলগুলোর জন্যও বড় দলকে চমকে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
চারটি পটে দল ভাগ করার ফলে প্রতিটি দলের সূচি মোটামুটি ভারসাম্যপূর্ণ থাকে। তবে প্রতিটি পটেই কাগজে-কলমে তুলনামূলক কঠিন কিছু দল রয়েছে। পট-৩-এর দলগুলো নাপোলি ও ভিয়ারিয়ালকে এড়িয়ে চলতে চাইতে পারে। আর পট-৪-এর কোমো, যারা প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলছে, তারাও অঘটন ঘটানোর সামর্থ্য রাখে।
নতুন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কাঠামোর প্রথম কয়েক মৌসুমেই বেশ কিছু পরিচিত ক্লাব নকআউট পর্বে উঠতে পারেনি। আরবি লাইপজিগ, নাপোলি, আয়াক্স ও ভিয়ারিয়াল লিগ পর্বেই বিদায় নিয়েছে। অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটি, ইন্টার মিলান ও জুভেন্টাসকে লিগ টেবিলে অবস্থানের কারণে নকআউট প্লে-অফ খেলতে হয়েছিল এবং সেখানেই বিদায় নিতে হয়েছে।
অর্থাৎ, মৌসুমের শুরুতেই হওয়া এই ড্র একটি দলের পুরো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিযান গড়ে দিতে কিংবা কঠিন করে দিতে পারে।
একই দেশের দুটি দল একে অপরের মুখোমুখি হতে পারবে না। যেমন আর্সেনাল ম্যানচেস্টার সিটি বা লিভারপুলের বিপক্ষে খেলতে পারবে না। তাই পট-১ থেকে আর্সেনালকে অন্য দুটি দেশের দলের বিপক্ষেই ড্র করা হবে।
ড্র সম্প্রচার
উয়েফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বিনামূল্যে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ড্র দেখা যাবে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
ম্যাচডে ১: ৮-১০ সেপ্টেম্বর
ম্যাচডে ২: ১৩-১৪ অক্টোবর
ম্যাচডে ৩: ২০-২১ অক্টোবর
ম্যাচডে ৪: ৩-৪ নভেম্বর
ম্যাচডে ৫: ২৪-২৫ নভেম্বর
ম্যাচডে ৬: ৮-৯ ডিসেম্বর
ম্যাচডে ৭: ১৯-২০ জানুয়ারি
ম্যাচডে ৮: ২৭ জানুয়ারি
নকআউট প্লে-অফ: ১৬-১৭ ফেব্রুয়ারি ও ২৩-২৪ ফেব্রুয়ারি
শেষ ষোলো: ৯-১০ মার্চ ও ১৬-১৭ মার্চ
কোয়ার্টার ফাইনাল: ৬-৭ এপ্রিল ও ১৩-১৪ এপ্রিল
সেমিফাইনাল: ২৭-২৮ এপ্রিল ও ৪-৫ মে
ফাইনাল: ৫ জুন, মাদ্রিদের মেট্রোপলিটন স্টেডিয়াম
কেকে/ এমএস