আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবার মাঠে নেমে আবেগে কেঁদেছেন লিওনেল মেসি। বিদায়ী ম্যাচে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারানোর পর মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে নিজের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার, সতীর্থদের অবদান এবং আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার অনুভূতি নিয়ে কথা বলেন আটবারের ব্যালন ডিঅরজয়ী এই তারকা।
একপর্যায়ে অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি মেসি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে আর মাঠে নামতে পারবেন না—এই বাস্তবতাই যেন তাকে সবচেয়ে বেশি আবেগতাড়িত করে তোলে।
নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের লড়াইয়ের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে মেসি বলেন, ‘আমরা কখনও লড়াই থামাইনি, নিজেদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেওয়া বন্ধ করিনি। আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাটাই সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আবারও ২০২৬ আসরে বিশ্বকাপ জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। বিশ্বকাপে নিজেদের সবকিছু ঢেলে দিয়েছিলাম আমরা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের জন্য অনেক বড় ছিল। আমরা আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে লড়াই করেছি, সারাজীবন লড়াই করেছি। কোনো সন্দেহ রাখবেন না যে, এই জার্সির জন্য আমরা সর্বদা আমাদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি।’
জাতীয় দলের হয়ে আর ফিরতে না পারার ভাবনাটাই মেসির কাছে সবচেয়ে কষ্টের। তিনি বলেন, ‘এখানে আর ফিরে আসতে না পারার ভাবনাটা ভীষণ কষ্টের। সত্যি বলছি, সারা জীবন আমি এখানে ফিরে আসতে চাইব। কারণ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলার চেয়ে সুন্দর আর কিছু একজন ফুটবলারের জীবনে হতে পারে না।’
এরপরই আবেগঘন কণ্ঠে মেসি বলেন, ‘আমি চিরকাল এখানে থাকতে চাই। কিন্তু মনে হচ্ছে, বিদায় বলার এটাই সঠিক সময়।’
আর্জেন্টিনার হয়ে অর্জিত সাফল্যের পেছনে সতীর্থদের অবদানের কথাও স্মরণ করেছেন মেসি। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমা জয়ের জন্য সতীর্থদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
মেসি বলেন, ‘আমি আমার সকল সতীর্থকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তোমরা আমার সব স্বপ্ন সত্যি করেছ—বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা। আমি সব সময় বীর যোদ্ধাদের দিয়ে পরিবেষ্টিত ছিলাম। আমি এই পরিবেশটাকে খুব মিস করব।’
সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মেসি বলেন, ‘আমি যেখানেই গিয়েছি, স্টেডিয়াম সব সময় কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। মনে হতো আমরা যেখানেই খেলছি, সেটাই যেন আমাদের নিজেদের ঘর।’
আর্জেন্টিনার পরবর্তী প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য শুভকামনা জানিয়ে মেসি একই সঙ্গে কঠিন সময়ের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলাটা মিস করব। এখন থেকে আমি মাঠের বাইরে অন্য পাশে থাকব—এই ছেলেদের এবং এরপর যারা আসবে তাদের সবার জন্য শুভকামনা জানাব ও সমর্থন দিয়ে যাব।’
মেসি আরও বলেন, ‘কঠিন সময় সামনে আসছে, আর সেই মুহূর্তগুলোতে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, কারণ কিছু মানুষ আছে যারা জাতীয় দলের ব্যর্থতা দেখতে চায়। মহৎ কিছু অর্জন করতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ দল গড়ে তুলতে হবে।’
শেষ বক্তব্যে সমর্থকদের ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মেসি। আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক বলেন, ‘আমি এই জায়গা ছেড়ে যেতে চাই না। আমি এই মাঠ ছেড়ে যেতে চাই না। আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি, আর আপনাদের সবাইকে আমি খুব মিস করব।’
শেষে নিজের পরিচয় ও স্বপ্নপূরণের কথা বলতে গিয়ে মেসি বলেন, ‘আমি একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে গর্বিত। আমি নিজের স্বপ্নপূরণ করতে পেরে সত্যি গর্বিত।’
বেনিনের বিপক্ষে জয় দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেও মেসির কণ্ঠে স্পষ্ট ছিল—আর্জেন্টিনার জার্সি, সতীর্থ এবং কোটি সমর্থকের ভালোবাসা থেকে দূরে থাকা তার জন্য সহজ হবে না।
কেকে/ এমএস