শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে এক পক্ষের পাঁচজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার পর প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। বাড়ির মালিক আনোয়ার হোসেনের দাবি, হামলায় তার বাড়ি থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে।
উপজেলার যোগানিয়া ইউনিয়নের তালুকপাড়া গ্রামে গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে পাঁচজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটে। এর দুই দিন পর শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, তালুকপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন (৬০) ও সোহেল (৩৫) সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই। প্রায় দেড় বছর ধরে তাঁদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠকও হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে সোহেলের ছোট ভাই জিয়ার মিয়া (৩০) বিরোধপূর্ণ জমিতে আইল বাঁধতে গেলে আনোয়ারের লোকজন বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে সোহেলের স্ত্রী, ছেলে, বোনসহ তাঁর পক্ষের কয়েকজন ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় জিয়ার মিয়াসহ পাঁচজন আহত হন। আহতরা হলেন—জিয়ার মিয়া (৩০), রেজাউল (২৫), অন্তর (১৯), টুকুনি (৪০) ও আয়েশা (৩০)। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে আনোয়ারের পক্ষের লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে চলে গেলে শনিবার সকালে স্থানীয় লোকজন তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে মালামাল নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন আনোয়ার।
তিনি দাবি করেন, বাড়ি থেকে প্রায় ১৫০ মণ ধান, ৪০ মণ চাল, চারটি সেচ মর্টার, দুই ভরি স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, একটি ট্রাক্টর ও ধান মাড়াইয়ের মেশিন নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে তাঁর প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তাদের দাবি, আহত ব্যক্তিরা আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় তাদের চিকিৎসার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে আনোয়ারের বাড়ির কিছু মালামাল বিক্রি করে চিকিৎসা ব্যয় মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার জন্য স্থানীয়দের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে চাঁদা তোলা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।
কেকে/সাশ