রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য সার ডিলার নিয়োগসহ ৮ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নোহালী ইউনিয়নের ২, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চরাঞ্চলের কৃষকেরা গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ স্মারকলিপি দেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, নোহালী ইউনিয়নের চরাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবছর বন্যা, নদীভাঙন, অতিবৃষ্টি ও খরাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে কৃষকদের চাষাবাদ করতে হয়। এর মধ্যে সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে।
চরাঞ্চলের কৃষকদের অভিযোগ, ইউনিয়নের ২, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রয়োজনের তুলনায় কৃষি সহায়তা পাওয়া কঠিন। বিশেষ করে সার সংগ্রহে দূরবর্তী স্থানে যেতে হওয়ায় সময় ও পরিবহন খরচ বাড়ে। অনেক প্রকৃত কৃষক এখনো কৃষি কার্ডের আওতায় না থাকায় সরকারি ভর্তুকি ও বিভিন্ন কৃষি সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ ছাড়া বন্যা ও নদীভাঙনে প্রতিবছর আবাদি জমি ও ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক কৃষক জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে দ্রুত সরকারি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা ৮ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—চরাঞ্চলের ২, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রয়োজন অনুযায়ী সার ডিলার নিয়োগ, সব প্রকৃত ও যোগ্য কৃষককে কৃষি কার্ডের আওতায় আনা, সরকারি ভর্তুকি ও কৃষি সহায়তা নিশ্চিত করা এবং সার, বীজ ও কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সময়মতো ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ করা।
এ ছাড়া বন্যা, নদীভাঙন, অতিবৃষ্টি ও খরায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঠপর্যায়ে যাচাই করে তালিকা প্রস্তুত, দ্রুত সরকারি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন সহায়তা প্রদান, কৃষি উপকরণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত এবং চরাঞ্চলের কৃষকদের সমস্যা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দীর্ঘমেয়াদি কৃষি সহায়তার ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপি গ্রহণের পর গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, স্মারকলিপিতে উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। কৃষকদের সমস্যাগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। চরাঞ্চলের প্রকৃত কৃষকেরা যাতে সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।
কৃষকেরা বলেন, চরাঞ্চলের কৃষকেরা দেশের খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি কৃষি উপকরণ সংগ্রহে নানা সমস্যার কারণে তাঁরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানো ও কৃষিকাজে উৎসাহ বাড়াতে দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
কেকে/ এমএস