নীলফামারী সদরে ৩ লাখ টাকা যৌতুকের দাবি মেটাতে না পারায় নাজরিন নাহার (৩৫) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে ও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও স্বজনদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নিহতের বাবা মো. আবদুল জব্বার (৬৫) বাদী হয়ে নীলফামারী সদর থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন নিহতের স্বামী মো. আলমগীর হোসেন (৪০), শ্বশুর মো. আবদুল মান্নান (৫৬), শাশুড়ি মোছা. আরিফা বেগম এবং দেবর মো. দেলোয়ার হোসেন (৪২)। তারা সবাই নীলফামারী সদর উপজেলার কুন্দপুকুর ইউনিয়নের লালপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
এজাহারে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী লালপাড়ার আলমগীর হোসেনের সঙ্গে নীলফামারী সদর থানার কলেজপাড়া উত্তর হাড়োয়া এলাকার আবদুল জব্বারের মেয়ে নাজরিন নাহারের দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের সময় পরিবারের পক্ষ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকার উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই ২ থেকে ৪ নম্বর আসামির প্রত্যক্ষ প্ররোচণায় ১ নম্বর আসামি আলমগীর হোসেন ৩ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে নাজরিনের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়।
বাদী এজাহারে আরও উল্লেখ করেন, গত ২৬ আগস্ট ২০২৬ (বুধবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গৃহবধূ নাজরিন নিজ শয়নকক্ষে কাজ করছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা পুনরায় বাবার বাড়ি থেকে ৩ লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। গৃহবধূ এতে প্রতিবাদ করলে ৪ নম্বর আসামির হুকুমে অন্যান্য আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও চর-থাপ্পড় মারেন। একপর্যায়ে ২ নম্বর আসামি চুলের মুঠি ধরে টান মারলে নাজরিন মাটিতে পড়ে যান। এ সময় স্বামী আলমগীর হোসেন ওড়না দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে ধরলে শ্বাসরোধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর উদ্দেশ্যে আসামিরা লাশ ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রেখে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে নিহতের স্বজনেরা ও স্থানীয় পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে নীলফামারী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জিল্লুর রহমান জানান, ‘বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
কেকে/ এমএস