মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের চূড়ান্ত রায় অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষে টেংগারচর ইউনিয়নের বড় ভাটেরচর গ্রামের রিটন মিয়া বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে হাইজুর দেওয়ানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভাটেরচর মৌজার আরএস ৯ নম্বর খতিয়ানের ৭২৫ নম্বর দাগের ১২.৫০ শতাংশ জমি নিয়ে বাদল হোসেন দেওয়ান গং এবং মমতাজ বেগম-রিটন মিয়া গংয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ জমি নিয়ে গজারিয়া সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা নং ৯৬/২০০৯ দায়ের হলে নিম্ন আদালত বাদল হোসেন দেওয়ান গংয়ের পক্ষে রায় দেন।
পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করা হলে আগের রায় বহাল থাকে। এরপর মমতাজ বেগম-রিটন মিয়া গং হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানি রিভিশন নং ২০৬৫/২০২৩ দায়ের করেন। হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করে রিটন মিয়াদের পক্ষে চূড়ান্ত রায় দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিটন মিয়া অভিযোগ করেন, গত ২৬ আগস্ট উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায় ও ডিক্রি উপেক্ষা করে বিবাদীরা কয়েকজন ভাড়াটে লোক নিয়ে জমিতে প্রবেশ করে বসতঘর নির্মাণের চেষ্টা চালান। এতে বাধা দিলে তাঁকে ও তাঁর স্বজনদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
রিটন মিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আলমগীর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “উচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের রায়-ডিক্রি রহিত করেছেন। ফলে আদালতের চূড়ান্ত রায় অনুযায়ী রিটন মিয়া ও তার স্বজনরাই সম্পত্তিটির মালিক।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হাইজুর দেওয়ান বলেন, “নিম্ন আদালতের রায়ে তারা জমিটির মালিক হন এবং দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে আছেন। উচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করলেও রিটন মিয়ারা ১২.৫০ শতাংশ জমি পাবেন না। বরং তাঁরাই অবৈধভাবে জমি দখলের চেষ্টা করছেন।”
গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ নকীব আকরাম হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কেকে/সাশ