গ্যাস সংকটে প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন পুনরায় চালুর দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ গোলচত্বর এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ সার কারখানায় প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ১৫০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এই উৎপাদন বজায় রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন।
সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় কারখানায় সার উৎপাদন বন্ধ ছিল। পরে শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে ১৫ নভেম্বর ২০২৪ গ্যাস সরবরাহ শুরু করে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। এরপর ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি কারখানায় পুনরায় সার উৎপাদন শুরু হয়। তবে মাত্র ৩৮ দিন পর ১ মার্চ থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে উৎপাদনও বন্ধ হয়ে যায়।
সোমবার সকালে শ্রমিক-কর্মচারীরা কারখানার সামনে জড়ো হয়ে সমাবেশ করেন। শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সার কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু কাউসার, সার কারখানা অফিসার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, সার কারখানা শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সিনিয়র সহসভাপতি মো. আখতার হোসেন, নোয়াব আলী মুন্সী, এনামুল হকসহ অনেকে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, আশুগঞ্জ সার কারখানার উৎপাদিত ইউরিয়ার গুণগত মান ভালো হওয়ায় এর চাহিদা রয়েছে। কারখানাটি নিয়মিত চালু রাখা গেলে সরকার লাভবান হবে এবং সার আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে। তাদের অভিযোগ, একটি মহল বিদেশ থেকে সার আমদানির মাধ্যমে কমিশন-বাণিজ্যের স্বার্থে বছরের বড় একটি সময় কারখানাটিতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখে। এতে কারখানাটি দিন দিন অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে।
বক্তারা অবিলম্বে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে সার উৎপাদন চালুর দাবি জানান। অন্যথায় দাবি আদায়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধেরও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, ১৯৮১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আশুগঞ্জ সার কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তী সময়ে এটি জাতীয়করণ করা হয়। গ্যাস সংকটের কারণে ২০১২ সাল থেকে কারখানাটির উৎপাদন কমতে থাকে। ফলে দেশ ক্রমেই সার আমদানিনির্ভর হয়ে পড়ে। কারখানা বন্ধ থাকায় হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী ও তাদের পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।
তারা সরকারের কাছে আশুগঞ্জ সার কারখানায় দ্রুত গ্যাস সরবরাহ করে উৎপাদন পুনরায় চালুর পাশাপাশি সার আমদানিনির্ভরতা কমাতে নতুন সার কারখানা স্থাপনের দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে শ্রমিক-কর্মচারীরা আশুগঞ্জ মহাসড়কের গোলচত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
কেকে/সাশ