ইরানে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় কয়েকজন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে বলে জানা গেছে। এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্তত চারটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক শহরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া কোনারাক কাউন্টি, জাস্ক ও বন্দর লেঙ্গেহ শহরও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি সূত্রগুলো। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জিরোফতে একটি বেসামরিক বিমানবন্দরেও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
হরমুজগান প্রদেশের বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের পূর্ব দিকেও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কেশম দ্বীপের মাসান গ্রামের আশপাশে পাঁচটির বেশি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির দিক থেকেও আরও চারটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে আইআরআইবি।
বৃহত্তর সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে ইরানের সরকারি মালিকানাধীন দুটি ট্যাংকারেও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ঘটনা এটিই প্রথম।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তাদের বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, রাডার ব্যবস্থা, সামুদ্রিক সম্পদ ও স্থাপনা, মাইন স্থাপনের সক্ষমতা এবং যোগাযোগ অবকাঠামো রয়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলোতে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে আইআরজিসি।
জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে থাকা দীর্ঘপাল্লার আরকিউ-৪ ও এমকিউ-৯ ড্রোনের হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে একটি ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, হামলায় কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে এবং কয়েকজন মার্কিন ফ্লাইট ও কারিগরি কর্মী নিহত হয়েছেন।
তবে জর্ডানে ওই হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির দাবি নাকচ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এর মধ্যে ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে মাঝপথেই ধ্বংস করা হয়। বাকি তিনটি জনবসতি থেকে দূরের প্রত্যন্ত এলাকায় পড়েছে। এতে কোনো হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটি।
ইরাক ও কুয়েতেও হামলার দাবি
উত্তর ইরাকের এরবিল প্রদেশে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনায় সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে আইআরজিসি।
ইরানের দাবি, ওই হামলায় একটি মেরামত কেন্দ্র, কারিগরি সরঞ্জাম রাখার গুদাম এবং মার্কিন নজরদারি বেলুনের একটি গাইডেন্স সিস্টেম ধ্বংস হয়েছে। পাশাপাশি ঘাঁটির একটি জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ধরে যায় এবং কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে তেহরান। এসব দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অন্যদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘শত্রু ড্রোন’ হামলা প্রতিহত করেছে। কুয়েত সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোন ভূপাতিত করার কারণেই বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম দেশটির সেনাবাহিনীর বরাতে জানিয়েছে, বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকা এলাকা ও রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে এক ঝাঁক ড্রোন ছোড়া হয়েছে।
ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই হামলা তাদের ‘অপারেশন থান্ডার’-এর ২৯তম ধাপের অংশ। তাদের দাবি, শেখ ঈসা বিমানঘাঁটি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র। সেখানে হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ, ড্রোন সরঞ্জাম এবং নজরদারি উড়োজাহাজের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
কেকে/ এমএস