যুক্তরাষ্ট্রের ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন রিপাবলিকান পার্টির দুই সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্স ও অ্যাশলি হিনসন। এর আগে তারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। জ্বালানির দাম, বিশেষ করে ডিজেলের মূল্য রেকর্ড পর্যায়ে ওঠার মধ্যে তাদের নতুন অবস্থান সামনে এলো।
মিশিগানে ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সাইয়েদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মাইক রজার্স। অন্যদিকে আইওয়ায় ডেমোক্র্যাট জশ টারেকের মুখোমুখি হচ্ছেন অ্যাশলি হিনসন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) উভয় প্রার্থীই ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার পক্ষে কথা বলেন এবং জ্বালানির মূল্য কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রস্তাব দেন।
হিনসন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য। তিনি গত সপ্তাহসহ মোট ছয়বার এমন প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন, যেগুলোর লক্ষ্য ছিল ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করা। তবে সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধের খরচের কারণে আইওয়ার বাসিন্দাদের জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি মূল্য বহন করা উচিত নয়।
হিনসন গ্যাসোলিনের ওপর কর স্থগিত, ডিজেল রপ্তানি সাময়িক বন্ধ, কৃষক ও ট্রাকচালকদের জন্য সহায়তাসহ কয়েকটি পদক্ষেপের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
মাইক রজার্সও সোমবার প্রকাশিত এক প্রচারাভিযানের বিজ্ঞাপনে ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ হলে জ্বালানির ব্যয় কমবে। তবে তার আগে সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তি আনতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গ্যাসোলিন কর স্থগিত এবং সাময়িকভাবে ডিজেল রপ্তানি বন্ধের প্রস্তাব দেন।
বিশেষ করে আইওয়ায় ডিজেলের দাম রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কৃষিনির্ভর এই রাজ্যের কৃষকরা কৃষিযন্ত্র ও পরিবহনে ব্যাপকভাবে ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল।
রজার্স ও হিনসনের নতুন অবস্থান নিয়ে তাদের ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বীরা সমালোচনা করেছেন। রজার্সের প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল এল-সাইয়েদ বলেন, জ্বালানি ও ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ার পরই রজার্সের অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে। হিনসনের প্রতিদ্বন্দ্বী জশ টারেকও বলেন, যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবের বিষয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকার সময় হিনসন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছিলেন।
ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানির দাম নিয়ে আরও কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও সম্প্রতি অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। গত সপ্তাহে আইওয়ার প্রতিনিধি জ্যাক নান ও মারিয়েনেট মিলার-মিকস ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার একটি প্রস্তাবে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন।
এদিকে রয়টার্স/ইপসোসের ২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদন হার ৩২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ওই জরিপ অনুযায়ী তার প্রেসিডেন্ট হিসেবে সর্বনিম্ন। জরিপে অর্থনীতি ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে জনমতের অসন্তোষের বিষয়টিও উঠে এসেছে।
নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
সূত্র: রয়টার্স
কেকে/সাশ