প্রায় ১৫ বছর অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর শীর্ষ পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন টিম কুক। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির হার্ডওয়্যার প্রকৌশল বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট জন টার্নাস।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দায়িত্ব হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে অ্যাপলের সিইও হিসেবে টিম কুকের দীর্ঘ অধ্যায়ের ইতি ঘটেছে। তবে প্রতিষ্ঠান থেকে পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছেন না তিনি। এখন থেকে অ্যাপলের নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন কুক।
সিইও পদ থেকে বিদায়ের দিনে কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসকে স্মরণ করেন টিম কুক। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ‘অসাধারণ’ বলে প্রশংসা করেন তিনি।
কুক বলেন, অ্যাপলের সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান কর্মীদের। তাদের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করাকে জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানের বিষয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
১৯৯৮ সালে স্টিভ জবসের হাত ধরে অ্যাপলে যোগ দেন টিম কুক। শুরুতে সরবরাহব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা কুক ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) হন।
পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থাকে আরও দক্ষ করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। পরে ২০১১ সালে স্টিভ জবসের স্থলাভিষিক্ত হয়ে অ্যাপলের সিইও হন কুক। তার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরই অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারে মারা যান জবস।
জবসের পর অ্যাপলের নেতৃত্ব ধরে রেখে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও বড় পর্যায়ে নিয়ে যান কুক। তার প্রায় ১৫ বছরের নেতৃত্বে অ্যাপলের ব্যবসা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। সোমবার প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।
টিম কুকের জায়গায় অ্যাপলের নতুন সিইও হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন জন টার্নাস। ২০০১ সালে অ্যাপলের নকশা দলে যোগ দেওয়া টার্নাস পরে হার্ডওয়্যার প্রকৌশল বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট হন।
আইফোন ও আইপ্যাডসহ অ্যাপলের বিভিন্ন হার্ডওয়্যার পণ্য তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তার। দীর্ঘদিন অ্যাপলের পণ্য উন্নয়ন ও হার্ডওয়্যার প্রকৌশল কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে তার ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে।
সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে জন টার্নাসকে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের বার্ষিক আইফোন অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে প্রতিষ্ঠানটি প্রথম ভাঁজ করা আইফোন উন্মোচন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফলে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই বড় পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দিতে হবে নতুন সিইওকে।
এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা, উন্নত চিপের সরবরাহ এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও নীতিগত নানা চ্যালেঞ্জও সামলাতে হবে তাকে।
গুগল ও মাইক্রোসফটসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এআই প্রযুক্তিতে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ায় এ খাতে অ্যাপলের অবস্থান আরও শক্ত করাও টার্নাসের অন্যতম বড় দায়িত্ব হবে।
কেকে/ এমএস