গ্যাস সংকটে ঘুরছে না শিল্পকারখানার চাকা। সিএনজি স্টেশনগুলোয় গ্রাহকদের সারি ক্রমেই দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। বাসাবাড়িতে রান্নার চুলা জ্বলছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থেকে হাঁসফাঁস করছেন ভুক্তভোগীরা। গ্যাস উৎপাদন অত্যধিক কমে যাওয়া এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশে দৈনিক গ্যাসের মোট চাহিদা প্রায় ৩ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে চাহিদার তুলনায় অর্ধেক গ্যাসও মিলছে না। অনেক অঞ্চলে এর পরিমাণ আরও কম।
বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবহারকারীরা বলছেন, গ্যাস সংকটের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে সংশ্লিষ্ট সব খাতে। আবাসিক ও শিল্প এলাকাগুলোতে গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনক কমে গেছে। কোনো কোনো এলাকায় তিন দিনে একবারও গ্যাস মেলে না। বিকল্প হিসেবে অনেক পরিবার বৈদ্যুতিক চুলা কিংবা সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করছেন। এতে বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাচ্ছে।
চাপ কম থাকায় শিল্পকারখানায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রেশার কম থাকায় অধিকাংশ ডাইং কারখানা চালুই করা যাচ্ছে না। যেসব উদ্যোক্তা বাড়তি খরচ দিয়ে ফার্নেস অয়েলে কারখানা চালুর চেষ্টা করছেন তাদেরও দিনরাতের অর্ধেক সময় উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে যান্ত্রিক কারণে। সিএনজি স্টেশনগুলোর পরিস্থিতি আরও করুণ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রেশার কম থাকায় চালকরা চাহিদামতো গ্যাস পাচ্ছেন না। ফলে যানবাহন নিয়ে দীর্ঘ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করেও ৮০ থেকে ১০০ টাকার গ্যাস নিয়ে বিদায় নিতে হচ্ছে তাদের।
এদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চট্টগ্রামের গ্যাস সরবরাহে ঝুঁকি কমাতে শুধু এলএনজি টার্মিনালের ওপর নির্ভর না করে বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পাইপলাইন সক্ষমতা, জাতীয় গ্রিড থেকে নির্ভরযোগ্য সরবরাহ এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ প্রয়োজন। জরুরি পরিস্থিতিতে কোনো একটি টার্মিনালে সরবরাহ বিঘ্নিত হলে যাতে দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস সরবরাহ করা যায়, সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার ওপর তারা গুরুত্ব দিয়েছেন।
গত ২১ জুলাই মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। টার্মিনালটির স্বাভাবিক সরবরাহ ক্ষমতা ছিল প্রায় ৫০০ থেকে ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। প্রায় দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর গত ৬ আগস্ট টার্মিনালটির একটি বয়লার আংশিকভাবে চালু করা হয়। তখন প্রায় ১১৫ মিলিয়ন ঘনফুট পুনঃগ্যাসীকৃত এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ গ্যাস সরবরাহ করে। দৈনিক সরবরাহ প্রায় ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুটে ওঠার পর তা প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে স্থির রাখা হয়। তবে বর্তমানে এলএনজি কার্গো গ্রহণে বাধা তৈরি হওয়ায় সেখান থেকেও সরবরাহ কমে গেছে।